সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ (West Bengal Election 2026) -এর দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে রাজ্য জুড়ে চোখে পড়ল বিপুল ভোটার উপস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটদানের হার পৌঁছে গিয়েছে ৯১.৩১ শতাংশে। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে বহু কেন্দ্রে ভোট চলতে থাকায় এই হার আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম দফার তুলনায় এই দফাতেও ভোটদানের প্রবণতা উচ্চমাত্রায় থাকায় রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেলার নিরিখে দেখা যাচ্ছে, পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman) আবারও সর্বোচ্চ ভোটদানের ক্ষেত্রে শীর্ষে উঠে এসেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কলকাতা (South Kolkata) এলাকায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। শহর ও গ্রামাঞ্চলের এই পার্থক্য দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের নির্বাচনী চিত্রে ধরা পড়ে, এবারের দ্বিতীয় দফাতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
আসনভিত্তিক হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হাড়োয়া (Haroa) কেন্দ্রে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৯৬.৪৬ শতাংশে, যা এই দফার সর্বোচ্চ। বিপরীতে রাজারহাট গোপালপুর (Rajarhat Gopalpur) কেন্দ্রে একই সময়ে ভোট পড়েছে ৮৪.৩৬ শতাংশ, যা সর্বনিম্ন। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ভবানীপুর (Bhabanipur)-এ ভোটদানের হার ৮৬.৪৩ শতাংশ, আর ভাঙড় (Bhangar)-এ তা ৯২.৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার অংশগ্রহণে যথেষ্ট বৈচিত্র্য রয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে ভোটদানের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ভোটের হার বেড়েছে। দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৭৮.৬৮ শতাংশ, যা আগের দফার প্রায় সমতুল্য। বিকেল ৫টা নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯.৯৯ শতাংশে। সন্ধ্যার দিকে আরও ভোটার বুথমুখী হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা ৯১ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়।
বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হাড়োয়ায় ভোট পড়েছিল ৯৪.৫ শতাংশ এবং রাজারহাট গোপালপুরে ছিল ৮২.১৮ শতাংশ। ভবানীপুরে তখন ভোটের হার ছিল ৮৫.৫১ শতাংশ এবং ভাঙড়ে ৮৮.১৪ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, শেষ এক ঘণ্টায় ভোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন (Lok Sabha Election 2024)-এর সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ভোটদানের হার অনেকটাই বেশি। সেই সময় দুপুর ৩টে পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৫৯ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে। সর্বোচ্চ হার ছিল ষষ্ঠ দফায় ৭০.২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ছিল সপ্তম দফায় ৫৮.৫ শতাংশ। তার তুলনায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ অনেক বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। রাজ্যের বাইরে অন্য নির্বাচনের পরিসংখ্যানের দিকেও নজর দিলে দেখা যায়, চলতি বছরে অসম (Assam)-এ ভোটদানের হার ছিল ৮৫.৩৮ শতাংশ এবং পুদুচেরি (Puducherry)-তে ছিল ৮৯.৯৩ শতাংশ। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটের হার ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য মাত্রা ছুঁয়েছে।
ভোটগ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও বহু বুথে ভোট চলতে থাকায় চূড়ান্ত শতাংশ আরও বাড়তে পারে। প্রথম দফায় যেমন সন্ধ্যা ৬টার পর চূড়ান্ত ভোটের হার ৯৩.১৯ শতাংশে পৌঁছেছিল, তেমনই দ্বিতীয় দফাতেও শেষ পরিসংখ্যান আরও উর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলির নজর এখন এই বিপুল ভোটদানের হার কীভাবে ফলাফলে প্রতিফলিত হবে তার দিকে। অধিক ভোটদানের হার সাধারণত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে এই নিয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ থাকলেও সার্বিকভাবে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে জানা গিয়েছে। ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, বুথের বাইরে অপেক্ষা—সব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক উৎসবের এক জীবন্ত ছবি ধরা পড়েছে রাজ্য জুড়ে।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে কড়া নিরাপত্তা: রাজ্যজুড়ে ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ১৫৪৩




