West Bengal Assembly Election 2026 | দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে কড়া নিরাপত্তা: রাজ্যজুড়ে ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ১৫৪৩

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। এই গুরুত্বপূর্ণ পর্বকে ঘিরে প্রশাসন ও কমিশনের তরফে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই রাজ্যজুড়ে একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কমিশনের সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলায় চালানো বিশেষ অভিযানে মোট ১৪২টি কেন্দ্র থেকে ১৫৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কমিশনের দাবি অনুযায়ী, এই গ্রেপ্তারির মূল উদ্দেশ্য সম্ভাব্য অশান্তি রুখে দেওয়া। যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে নির্বাচনকালীন হিংসা, বেআইনি কার্যকলাপ বা গোলযোগের অভিযোগ রয়েছে, কিংবা যাঁদের বিরুদ্ধে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ভোটের সময় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন, তাঁদেরই চিহ্নিত করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, “আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলার অবনতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়।”

আরও পড়ুন : West Bengal Election 2026 Exit Poll : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬, বুথ ফেরত সমীক্ষার সার্বিক বিশ্লেষণ

রাজ্যজুড়ে পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় চলছে চিরুনি তল্লাশি, নাকা চেকিং এবং নিয়মিত টহলদারি। সংবেদনশীল ও অতি সংবেদনশীল কেন্দ্রগুলিতে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এদিকে, নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) মোতায়েনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ভোটের দিন যাতে কোনও ধরনের ভীতি বা চাপ সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বুথে সিসিটিভি নজরদারি, ওয়েবকাস্টিং এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কমিশন।

শুধুমাত্র গ্রেপ্তার বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাই নয়, সচেতনতা বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং গুজব বা ভুয়ো খবর রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ভোটের আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রুখতে বিশেষ সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে।” উল্লেখ্য, এই ব্যাপক ধরপাকড়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়। তথ্য ও গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতেই নিরপেক্ষভাবে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ছবি: প্রতীকী 

আরও পড়ুন : দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে প্রচার থামল, ১৪২ আসনে ৩.২১ কোটি ভোটার ঠিক করবেন ভাগ্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন