সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) দ্বিতীয় দফাকে ঘিরে প্রচারের কোলাহল থেমে গেল নির্ধারিত সময়েই। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) নির্দেশ অনুযায়ী ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সমস্ত রাজনৈতিক প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে ভোটাররা শান্ত পরিবেশে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ৩.২১ কোটি ভোটার ১৪৪৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।
এই দফার ভোট দক্ষিণবঙ্গের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা সহ একাধিক রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংবেদনশীল বুথগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Armed Police Forces) মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রতিটি বুথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুস্তরীয় ব্যবস্থা (Multi-layer Security Arrangement) নেওয়া হয়েছে। বুথে বুথে সিসিটিভি (CCTV Surveillance), ওয়েবকাস্টিং (Live Webcasting), এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে। এক নির্বাচন আধিকারিকের কথায়, “প্রতিটি ভোটার যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
দ্বিতীয় দফার এই নির্বাচন রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শাসক দল All India Trinamool Congress, বিরোধী Bharatiya Janata Party এবং অন্যান্য দলগুলির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা গেছে প্রচারের সময়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সভা, মিছিল এবং প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন প্রার্থীরা। তবে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়িতে নির্ধারিত সময়ের পর সমস্ত প্রচার বন্ধ করা হয়েছে।
এই দফায় মোট ১৪৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাঁদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন ৩.২১ কোটি ভোটার। বিশ্লেষকদের মতে, এই দফার ফলাফল রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের আসনগুলিতে লড়াই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভুয়ো খবর (Fake News) এবং গুজব রুখতে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনও ধরনের উস্কানিমূলক পোস্ট বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন করতে প্রচার চালানো হয়েছে, যাতে তাঁরা কোনও গুজবে কান না দেন।
প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য, “আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় রুট মার্চ (Route March) এবং ফ্ল্যাগ মার্চ (Flag March) করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। উল্লেখ্য, এই দফার ভোটে মহিলা ও প্রথমবারের ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তরুণ ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং তাঁদের ভূমিকা ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকলেও প্রচার পর্ব শেষ হওয়ায় এখন নজর শুধুই ভোটগ্রহণের দিকে। রাজনৈতিক দলগুলির ভবিষ্যৎ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ অনেকটাই নির্ভর করবে এই দফার ফলাফলের উপর।
ছবি: প্রতীকী



