কার দখলে যাবে নবান্ন?
প্রথম দফার ভোটকে কেন্দ্র করে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি নিজেদের অনুকূলে শাসক ১৩০ থেকে ১৩৫ টি আসন আর বিরোধী ১২৫ টি আসনের ফল দাবি করেছেন। আসলে এই বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই শাসক থেকে বিরোধী অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে সাধারণ মানুষ সর্বোপরি আদালত যা সবার কাছে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া এই নির্বাচন সত্যিই যা সাধারণ মানুষের আস্থা এবং ভরসা যোগাতে ১০০ শতাংশ সফল হয়েছেন। লিখেছেন : অগ্নি প্রতাপ

পর্ব – ৯
গত প্রতিবেদনে সাশ্রয় নিউজের পাতায় ভোট পর্ব কে নিয়ে যে বিশ্লেষণ ও অনুমান প্রকাশ করা হয় প্রথম পর্যায়ে ১৫২ আসনে অক্ষরে অক্ষরে তা মিলে যায়। শুধু তাই নয় এই প্রথম এই ভোটদানের শতাংশের হার একমাত্র এই সাশ্রয় নিউজ এর মাধ্যমেই সর্ব প্রথম অনুমান যা অন্য কোন সংস্থা বা মাধ্যম জোর দিয়ে প্রকাশ করতে পারেন নি অর্থাৎ ভোট পর্ব – ৮ এ সাশ্রয় নিউজের পাতায় প্রকাশ করা হয়েছিল,পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে গড় ৮০ শতাংশের বেশি।SIR এর ফলে এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, স্বচ্ছ এবং অবাধ, ভয় মুক্ত, ছাপ্পা মুক্ত, খুন,সন্ত্রাস মুক্ত, গণনায় কারচুপি মুক্ত এবং মানুষের আস্থা ও ভরসা জাগিয়ে ভোট মুখী করা।যদি সত্যি সম্ভব করতে পারে তাহলে এই নির্বাচনে শতাংশ বিচারে কমপক্ষে ১০ থেকে ১১ শতাংশ ভোট অর্থাৎ কমবেশি ৯০ থেকে ৯২ শতাংশের বেশি ভোট দানের হার অনুমান করা যায়। প্রথম দফার ১৫২ আসনে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি বুথে নির্বাচন কমিশনের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ যা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনকে শুধু আলাদা মাত্রা যোগ করেছে তা নয়। ভোটারদের আস্থা ভরসা যা রাজ্যের বাইরে সারা দেশে এমনকী বিদেশের মাটিতেও হইচই ফেলে দিয়েছে। প্রথম দফার ভোটের শতাংশ হার ৯২.৮৮ যা এক যুগান্তকারী ইতিহাসের উত্থান। যা দেখে দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এই বিষয়ে পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করেছেন যে,
১) প্রথম দফায় ১৫২ আসনে বড় কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি।
২) প্রধান বিচারপতি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করেছেন।
৩) প্রথম দফায় নজিরবিহীন ৯২.৮৮ শতাংশ ভোটদানের হারে প্রধান বিচারপতি দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এটি দেখে তিনি আনন্দিত এবং ভীষণ খুশি।
৪) বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী উল্লেখ করেন যে, মানুষ বিপুল সংখ্যায় ভোট দিতে আসায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হয়েছে।
প্রথম দফার ভোটকে কেন্দ্র করে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি নিজেদের অনুকূলে শাসক ১৩০ থেকে ১৩৫ টি আসন আর বিরোধী ১২৫ টি আসনের ফল দাবি করেছেন। আসলে এই বিধানসভা ভোটকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই শাসক থেকে বিরোধী অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন থেকে সাধারণ মানুষ সর্বোপরি আদালত যা সবার কাছে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া এই নির্বাচন সত্যিই যা সাধারণ মানুষের আস্থা এবং ভরসা যোগাতে ১০০ শতাংশ সফল হয়েছেন। অনেকেই বলছেন বা বলবেন আসলে এই নির্বাচনে মানুষ SIR এর ফলে নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণের তাগিদে ভোট দিয়েছেন। হ্যাঁ এটা ঠিক যে একমাত্র নাগরিকদেরই অধিকার থাকে ভোট দানে কিন্তু এই বিধানসভার নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে থাকতে শাসকের সীমাহীন দুর্নীতি,কিছু ভুল সিদ্ধান্ত এবং উস্কানিমূলক বার্তা যা সর্বস্তরের এবং সর্ব ধর্মের মানুষের কাছে যে পৌঁছেছিল তা মোটেই কোন অবস্থাতেই কাম্য ছিল না।নজিরবিহীন সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি তার মধ্যে SIR নিয়ে একমাত্র রাজ্য এই পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষ আদালত পর্যন্ত যেভাবে বারংবার শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত যে ভুল বার্তার মাধ্যমে গুলিয়ে দেবার প্রক্রিয়া বজায় রাখায় একমাত্র শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা,মন্ত্রী, বেশ কিছু কর্মী- সমর্থক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিশেষ সংখ্যক মানুষ ছাড়া সকলেই সহমত ছিলেন SIR এর মাধ্যমে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশ। আর এই গুলিয়ে দেবার দরুন শেষমেষ কালিয়াচকের বিচারপতিদের ওপর প্রাণঘাতী আক্রমণ এবং মহিলা বিচারকের কাতর আর্তনাদ যা গোটা দেশকে স্তম্বিত করে দেয় শাসক যোগ। আর সেখান থেকেই মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু। যা নিয়ে বিরোধী পক্ষ এবং বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় তীব্র প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছে উন্মাদনা। প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন। উল্লেখ, প্রথম দফার ভোটকে ঘিরে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস যতই দাবি করুক ১৩০ থেকে ১৩৫ টি আসন তারা পেতে চলেছেন অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা দাবি করছেন ১২৫ টি আসন পেতে চলেছেন আসলে দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এটি একটি ভোটের কৌশল মাত্র। আসলে বিপুল সংখ্যক মানুষ যেভাবে ভোট দান করে নতুন ইতিহাস কায়েম করেছেন তার থেকে একটা ইঙ্গিত স্পষ্ট প্রথম দফার ভোট কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া নির্বাচন কমিশন শক্ত হাতে নির্বাচন পরিচালন করেছেন তাতে করে অনুমান করা যায় দ্বিতীয় দফায় ভোটে কিছুটা হলেও শাসক তৃণমূল কংগ্রেস এই বিধানসভা নির্বাচনে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দফায় যেকোনো কৌশলে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ সমেত কলকাতা শহরতলীতে ভয় ও হিংসার বাতাবরণ তৈরি করতে পারে যা নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রথম দফার সাফল্য যাতে করে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনকে সম্পূর্ণ ছাপিয়ে যেতে পারে তার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট স্ট্রাটেজি এবং নিখুঁত পরিকল্পনা ও একশন বাস্তবায়ন ভীষণ জরুরী। যদি প্রথম দফার মতন দ্বিতীয় দফাতেও নির্বাচন কমিশন মানুষের আস্থা এবং ভরসা অটুট রাখতে পারেন তাহলে দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান যেখানে বিরোধী শূন্য সেই পূর্ব বর্ধমান এ ১৬ টি আসনের মধ্যে ভালো রকম ভারতীয় জনতা পার্টি থাবা বসাতে পারে। এছাড়া নদীয়া , হুগলি, হাওড়া, দুই চব্বিশ পরগনা এবং কলকাতা শহরতলিতে আশা অনুরূপ ভালো ফল করবেন বলে বিরোধী দলনেতা দাবি করছেন।
শাসক থেকে বিরোধী এবং সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে যেটুকু অনুমান করা যায় তাতে নদীয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনা যেখানে মতুয়া সম্প্রদায় হচ্ছে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে প্রথমদিকে কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলে বর্তমানে পরিস্থিতি অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট ভাগ হবার প্রবণতা অনেকটা ক্ষীণ। বলা বাহুল্য, আগের তুলনায় বিরোধী ভোটের শতাংশের হার ওই সমস্ত নির্বাচন কেন্দ্রগুলিকে প্রায় কম বেশি ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভোট বৃদ্ধি পেতে পারে।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস হুগলি জেলায় ১৪টি এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৬.৩ শতাংশ এবং ভারতীয় জনতা পার্টি ৪১.২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের ভারতীয় জনতা পার্টি তে যোগদান নিয়ে দলের অন্দরে মতবিরোধ যা সাংগঠনিক ভাবে ২০২৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ভালো ফল না করতে পারার একটি বড় কারণ। উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল কে পাখির চোখ করে দ্বিতীয় দফা ভোটে শাসক এবং বিরোধী সম্মুখ সমরে। তবে এই নির্বাচনে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে মোট ৭ টি বিধানসভা কেন্দ্রে সবথেকে বড় ফ্যাক্টর তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ নেতা বিকাশ বসু। ব্যারাকপুর তথা নোয়াপাড়া এলাকার একজন পেশায় স্কুল শিক্ষক অত্যন্ত ভদ্র ও সৎ, জনপ্রিয় প্রথম সারির তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ছিলেন তিনি বলে উল্লেখ। নোয়াপাড়াতে তার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। ২০০০ সালের ১ এপ্রিল, ইছাপুর স্টোরবাজারে চায়ের দোকানের সামনে দুষ্কৃতীদের গুলিতে তিনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর,তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বসু নোয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে বহুবার বিধায়ক নির্বাচিত হন।তাঁর হত্যা রহস্য ২০২৬ সালেও তদন্ত ও খুনিদের নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ব্যারাকপুর অঞ্চলে সক্রিয়। রয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি প্রতিবাদ মঞ্চে মঞ্জু দেবীর সঙ্গে খারাপ আচরণের দরুন স্থানীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা থেকে কর্মী সমর্থক বেশিরভাগই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যা বিরোধী শিবির কে অতিরিক্ত অক্সিজেন যোগাতে সাহায্য করছে। মূলত লড়াই শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পার্থ ভৌমিক এবং ভারতীয় জনতা পার্টির অর্জুন সিং এর মধ্যে। আভাস অনুযায়ী এই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে অর্জুন সিং এর নেতৃত্বে এই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল লক্ষ্যভেদ করতে সক্ষম হতে পারেন ভারতীয় জনতা পার্টি।
হাওড়া জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই লক্ষনীয়। ২০২৪ সালের লোকসভা ফলাফল অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেস ৪৯.২৬ শতাংশ আর ভারতীয় জনতা পার্টি ৩৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ছিল।হাওড়া জেলা বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকলেও বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি এই বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে হাওড়া উত্তর এবং দক্ষিণ সাথে সাথে গ্রামীণ এলাকায় বড় অংশে থাবা বসাতে পারে বলেই অনুমান। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গণ্য করা দক্ষিণ ২৪ পরগনা বর্তমান সময়ে বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি এবার সেখানে বড় ধরনের থাবা বসাতে চাইছে।তৃণমূল কংগ্রেস এই জেলায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী।প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিদ্রোহ এবং দলীয় কোন্দলে তৃণমূল কংগ্রেস এবার জর্জরিত,যা নির্বাচনের আগে একটি বড়সড় চ্যালেঞ্জ।দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্যে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়েছে বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি বিশেষ করে গোসাবা ও ক্যানিং-১ ব্লক।পঞ্চায়েতের বহু জনপ্রতিনিধি দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।এই বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গ চুর করার দায়িত্বে স্বয়ং বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়। মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে পাখির চোখ করে হিন্দু ভোট ব্যাংকের ওপর ভর করে সন্দেশখালীর ঘটনাকে সামনে রেখে জয় করার রণকৌশল লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির সভা এবং মিছিলে তৃণমূল কংগ্রেস বারংবার বাধা সৃষ্টির ফলে জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২১ সালে এই জেলার ৩১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ৩০ টি আসন এবং আইএসএফ একটি আসন লাভ করে।২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি তৃণমূল কংগ্রেসের একচ্ছত্র আধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে হিন্দু ভোটকে সামনে রেখে পাখির চোখ করে বেশ কিছু আসন নিজেদের অনুকূলে ছিনিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন বলেই অনুমান।
২০২১ এবং ২০২৪ সালে নির্বাচনের ফলাফলে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরতলী এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির অবস্থান বিশেষ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষণীয়।২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা শহরতলী অঞ্চল উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা বিধানসভা কেন্দ্রে ১১টি আসনের সবকটিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের জয়জয়কার হয়েছিল।২০২১ সালে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ভারতীয় জনতা পার্টি উঠে এলেও মূল শহর কলকাতার অধিকাংশ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। ২০২৪ কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ এই দুটি লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করেন।২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল ৯৭টি এবং ভারতীয় জনতা পার্টি ৪৭টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় ভালো লড়াই দিয়েছেন এবং উত্তর কলকাতার ২৪টি ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ছিল।২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মূল শহরে ভারতীয় জনতা পার্টি উল্লেখযোগ্যভাবে রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিকভাবে পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে।
বিগত দিনে বহু জল গড়িয়েছে যা বর্তমানে শাসকের মাথা ব্যাথার কারণ।
আর এই কলকাতা শহরে সব থেকে হাই ভোল্টেজ বলা ভালো এই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যভাবে একমাত্র ব্যতিক্রমী লড়াই ভবানীপুর নির্বাচন কেন্দ্র। যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি এবং বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী একে অপরের প্রতিপক্ষ। তবে শাসক থেকে বিরোধী শিবির এবং সাধারণ মানুষের মতে এই বিধানসভা নির্বাচনে মোট ১১ টি আসনে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে লড়াই এবার আর একতরফা হবে না।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাথমিকভাবে যা আভাস শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের কমবেশি ভোট ৩৫ শতাংশ এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি কমবেশি ভোট ৫৪ শতাংশ দাঁড়াতে পারে। অন্যান্য বিরোধী দল প্রাথমিকভাবে সম্মিলিত কমবেশি ভোট ১১ শতাংশ দাঁড়াতে পারে।
গত প্রতিবেদনে, ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ১৫২ টি কেন্দ্রে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৬১ টি আসন এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে ৫৬ শতাংশ অর্থাৎ কম-বেশি ৮৫ টি আসন পেতে পারে। অন্যান্য বিরোধী দল ৪ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৬ টি আসন পেতে পারে। দ্বিতীয় দফায় আগামী ২৯ এ এপ্রিল ১৪২ টি কেন্দ্রে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ৪১ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৫৮ টি আসন এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে ৫৭ শতাংশ অর্থাৎ কম-বেশি ৮১ টি আসন পেতে পারে। অন্যান্য বিরোধী দল ২ শতাংশ অর্থাৎ কম বেশি ৩ টি আসন পেতে পারে।
সম্ভাব্য আসন সংখ্যা তৃণমূল কংগ্রেস – ১১৯
ভারতীয় জনতা পার্টি -১৬৬
অন্যান্য বিরোধী – ৯
সেই ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফায় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ৩০ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৪৩ টি আসন এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে ৬৮ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৯৬ টি আসন পেতে পারে। অন্যান্য বিরোধীদল ২ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৩ টি আসন পেতে পারে।
সম্ভাব্য আসন সংখ্যা তৃণমূল কংগ্রেস – ১০৪
ভারতীয় জনতা পার্টি – ১৮১
অন্যান্য বিরোধী – ৯
তবে এই বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় কলকাতার মূল শহর ও শহরতলী অঞ্চলের বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের বর্তমান ভয় মুক্ত অবাধ ও শান্তিপূর্ণ প্রথম দফার নির্বাচন কে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় সকলের কাছে নির্ভয়ে ভোটদানের আবেদন জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রথম দফার নির্বাচন শেষে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস দক্ষিণবঙ্গে নিজের গড় ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আভাস। সুতরাং যদি নির্বাচন কমিশন প্রথম দফার ভোটের মতো ঘোষণা অনুযায়ী ভয় মুক্ত, হুমকি মুক্ত, ছাপ্পা মুক্ত, খুন,সন্ত্রাস মুক্ত, গণনায় কারচুপি মুক্ত এবং প্রথম দফার খামতি ঝেড়ে ফেলে,মানুষের আস্থা ভরসা জাগিয়ে ভোটমুখী করা। যদি সত্যি সম্ভব করতে পারে তাহলে এই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে কমবেশি ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট দানের হার অনুমান করা যায় যা প্রথম দফার নির্বাচন কে ছাপিয়ে যাবে বলেই আভাস। সমস্ত অনুমান বা আভাস বাস্তবে সম্পূর্ণ কি ফলাফল নিয়ে আসে তার জন্য ৪ ঠা মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আর হ্যাঁ তার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৮



