২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে হাই ভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র হচ্ছে কলকাতা ভবানীপুর। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মোট ৩ বার (২০১১ উপনির্বাচন, ২০১৬ এবং ২০২১ উপনির্বাচন) জয়ী হয়েছেন। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে ১৮৪ কেন্দ্রে জয়লাভ করার পর সাংসদ পথ থেকে পদত্যাগ করেন এবং উপনির্বাচনে ৫৪ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী এবং প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ। লিখেছেন : অগ্নিপ্রতাপ

পর্ব – ৮
একটা সময় যে বিহার, উত্তর প্রদেশ নির্বাচনকে ঘিরে ভয়-ভীতি, হিংসা, খুন, সন্ত্রাস এসব কিছুই দেখতে পাওয়া যেত আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সবাইকে অবাক করে ভোট হয় অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ। আর পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন মানেই অশান্তি, ভয়ের বাতাবরণ, হিংসা, খুন, সন্ত্রাস, ছাপ্পা সবই একসাথে চলতে থাকে। সর্বোত্তই শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে মদতেই অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা যায় না বলে সমস্ত বিরোধী বারবার সোচ্চার হয়েছেন। ২০২৬ সালে নির্বাচন বিধি লাগু হওয়ার সাথে সাথে রাজ্যে আমলাদের ওপর নির্বাচন কমিশন কঠোর নির্দেশ জারি করে।শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি সরিয়ে দেওয়া হয়।নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে রাজ্যের পুলিশ কর্ম কর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সরাসরি কমিশনের অধীনে নিয়ে আসা হয়। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানো হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য। তাই নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে অন্য রাজ্যে নির্বাচন কাজে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।সমস্ত সরকারি অফিস ও দপ্তর থেকে রাজনৈতিক পোস্টার, ব্যানার বা হোর্ডিং সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে সরকারি গাড়ি বা সম্পত্তি ব্যবহার না করার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।নির্বাচনের সময় যে সমস্ত অফিসারদের বদলি করা হয়েছে, তাদেরকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী কাজে পোস্টিং দেওয়া যাবে না। রাজ্যের আমলাদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে সরাসরি কমিশনের আওতায় কাজ করতে হবে। প্রতিটি নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের দ্বারা পুলিশ এবং প্রশাসনিক বা নির্বাচন কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়মমাফিক বদলি হয়ে থাকে। কিন্তু এবারের নির্বাচনবিধি লাগু থেকে শীর্ষ পদ থেকে একেবারে নিচ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ অফিসারের বদলি যা এক কথায় নজির বিহীন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়, এবারের নির্বাচন ভয় মুক্ত, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন দায়বদ্ধ। নির্বাচন কমিশনের দ্বারা জারি করা প্রতিটি নির্দেশ কার্যত যে অসন্তুষ্ট তা প্রতিটা সভা থেকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল বিরোধিতা তারই প্রমাণ। এমনকী নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলে কটাক্ষ করতেও ছাড়ে নি শাসক। একদিকে এস আই আর এ সংখ্যালঘু নাম বাদ পড়া অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের দ্বারা নতুন নতুন নির্দেশিকা জারি হওয়া আবার বিচারাধীন বাদ যাওয়া ভোটার শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলা ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা শাসকের পক্ষে অস্বস্তি এবং ভয়ের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৮ই মার্চ ২০২৬ প্রথম একটি বিশেষ সম্প্রদায় কে উদ্দেশ্য করে উস্কানি মূলক তৃণমূল সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি বক্তব্যকে ঘিরে বিরোধীরা কঠোর সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় তোলেন। দিনে দিনে শাসকের রক্তচাপ ক্রমবর্ধমান বাড়তে থাকায়, বিভিন্ন সভা থেকে বিভিন্নভাবে উস্কানিমূলক বারংবার তৃণমূল সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি এবং সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে ভয় এবং হিংসার বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে বলে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করে ভারতীয় জনতা পার্টি।তৃণমূল কংগ্রেসের এবারের নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত আর তাই উস্কানিমূলক কথা বলে ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে। এতদিন শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ভয় দেখিয়ে ভোটের দিন সাধারণ মানুষকে নির্বাচনে ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা সমস্ত কিছু উপেক্ষা করে এই বিধানসভা নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোট দেবে। আর সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বুঝতে পেরে গিয়েছে তাদের এতদিন ব্যবহার করা হয়েছে, তাই এসব কথা এখন যে আর কাজ হবে না সেই আতঙ্কেই তৃণমূল কংগ্রেস আক্রান্ত। যত ভোটের দিন এগিয়ে আসছে ততই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও নেতৃবৃন্দ সর্বক্ষেত্রে বিরোধীদের বাধা দান থেকে অশান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টাকে বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন ভয় পেয়েছে মমতা এবার নির্ভয়ে ভোট দেবে জনতা। বিরোধী দলনেতা জোর দিয়ে বলেন আমাদের দাবি একটাই নির্বাচন কমিশনের কাছে, পশ্চিমবঙ্গবাসী যাতে করে নির্ভয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারে ও সমস্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হয় এবং ফলাফলের দিন সঠিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা থাকলে মিথ্যাবাদী, দুর্নীতিবাজ, ভোট লুট কারি, সিন্ডিকেট রাজ, চাকরি চুরি থেকে জাতীয় সম্পদ চুরি ও কাটমানি নেওয়া এই তৃণমূল কংগ্রেস কে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী কথায় মান্যতা দিয়ে অন্যান্য বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস প্রকৃতই ভয় পেয়েছে এবং তারা আতঙ্কিত তা না হলে,নমিনেশন হওয়া থেকে এখনো পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে বাধা দান ও অশান্তি সৃষ্টি করে বিরোধী ভোটদানে বাধা আবার কোন কোন জায়গায় সরাসরি হুমকি এর অর্থ এতদিন যারা ভয়ের রাজনীতি করে এসেছে আজ তারাই এর শিকার।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৬
এই SIR নিয়ে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে হতে দেবেন না বলে অবস্থানে বসেছিলেন। তারপর শুরু হলে শুরু থেকেই শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের রক্তচক্ষুর শিকার হয়েছিল BLO -রা তার সঙ্গে হুমকি এবং ভয় দেখানো। প্রয়োজন মত অফিসার নিয়োগ না করা এবং শাসক ঘনিষ্ঠ BLO এবং কিছু সরকারি আধিকারিকের জোগ সাজেসে নির্বাচন কমিশনের ওপর দায় চাপিয়ে পুরো প্রক্রিয়াকে ঘেঁটে দেওয়া থেকে আদালত পর্যন্ত হয়রানির শিকার যা বিরোধী থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত গর্জে উঠেছেন। এই বিধানসভা নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে শাসক প্রয়োজন মত বিধানসভা আসনে নির্দল প্রার্থী পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে সেই সব নির্দল প্রার্থী এজেন্টরা বুথে বুথে এবং ফলাফলের সময় ভিতরে নিজেদের কর্মীদের ঢুকিয়ে নির্বাচনে রণকৌশল স্থির করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক SIR এর আগে এবং SIR এ সর্বশেষ ভোটার কি দাঁড়াল-
SIR এর আগে ভোটার ৭৬৬৩৭৫২৯,
SIR এ বৈধ ভোটার – ৬৭৭২০৭২৮,
SIR এ মোট বাদ গেছে – ৯০৮৩৩৪৫,
SIR এ বিচারাধীন অযোগ্য – ২৭১৬৩৯৩,

এক নজরে ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪ এর নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসাব-
২০১৯ লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসাব –
তৃণমূল কংগ্রেস – ৪৩.৬৯
ভারতীয় জনতা পার্টি – ৪০.৬৪
২০২১ বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসাব –
তৃণমূল কংগ্রেস- ৪৮.০২
ভারতীয় জনতা পার্টি – ৩৮.১৫
২০২৪ লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হিসাব –
তৃণমূল কংগ্রেস – ৪৬.০২
ভারতীয় জনতা পার্টি – ৩৯.১০
সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই শেষ তিনটি নির্বাচনে তথ্য অনুযায়ী ভোট শতাংশ যা ভারতীয় জনতা পার্টিকে অনেকটা সুবিধা জনক জায়গা ধরে রেখেছে কারণ ২০১৯ এবং ২০২১ প্রাপ্ত শতকরা হিসেবে ২.৪৯ পিছিয়ে থেকে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে প্রায় ১ শতাংশ ভোট সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে যা, ভোটযুদ্ধে স্থিতিশীল বলেই গণ্য হয়।
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের সবথেকে হাই ভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র হচ্ছে কলকাতা ভবানীপুর। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মোট ৩ বার (২০১১ উপনির্বাচন, ২০১৬ এবং ২০২১ উপনির্বাচন) জয়ী হয়েছেন। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে ১৮৪ কেন্দ্রে জয়লাভ করার পর সাংসদ পথ থেকে পদত্যাগ করেন এবং উপনির্বাচনে ৫৪ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী এবং প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার বিধানসভা নির্বাচনে ২৫ হাজার ৩০১ ভোটে জয়লাভ করেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের মাননীয়া দীপা দাশমুন্সি মহাশয়া।২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের কাছে পরাজিত হয়ে উপনির্বাচনে রেকর্ড ৫৮,৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে মাননীয়ার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল।নন্দীগ্রামে হারের পর এই জয়ের মধ্যে দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক পুনর্বাসন ঘটেছিল। আর এই ভবানীপুর কেন্দ্রে এবার লড়াই আবার মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিরোধী দলনেতা।যা নিয়ে সারা রাজ্য তো বটেই সারা দেশ এই নিয়ে চর্চার মধ্যে। শুরু থেকেই বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় এই কেন্দ্রে সোজা ব্যাটে খেলতে শুরু করেছেন। প্রথমে থেকেই জোর দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির সিনিয়র কার্যকর্তা এবং শাসক বিক্ষুব্ধ নিয়ে সমন্বয় তৈরি করে জনসংযোগ আর “সবকা সাথ সবকা বিকাশ” যা একদা এই পশ্চিমবঙ্গ সারা ভারতবর্ষের অন্যতম উল্লেখযোগ্য রাজ্য বলেই মান্যতা পেতে কিন্তু আজ সেই পশ্চিমবঙ্গ যে আর্থিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে সবদিক থেকে পিছিয়ে পড়েছে সেখান থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা এবং আশীর্বাদের দরকার। তবেই আবার এই পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষের অন্যতম বিশেষ রাজ্য বলে মান্যতা পাবে।পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য জোয়ার আনতে পারে একমাত্র ভারতীয় জনতা পার্টি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আজ বিকশিত ভারত সারাবিশ্বে সবার কাছে উল্লেখযোগ্য নজির সৃষ্টি করেছে।দিনের শুরুতে নন্দীগ্রামে প্রচার করে তার সঙ্গে রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় দলের হয়ে প্রচার শেষে রাত্রিতে আবার ভবানীপুর। যা দেখে মানুষের জিজ্ঞাসা এত অসম্ভব এবং অক্লান্ত পরিশ্রম মাননীয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কে দলের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে কি এই পরিস্থিতির শিকার? জবাবে মাননীয় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় বলেন,বদলা নয় বদল চাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকার পরিবর্তন হয়েছিল আর আজকের দিনে সবাই বুঝতে শিখে গেছে এই সরকার এবং তার তোলাবাজ তৃণমূল কংগ্রেস দল সবকিছুর মধ্যেই বদল ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত সমাজ থেকে সর্বস্তরের মানুষ এবং পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সমস্ত বিভাগকে কার্যত পঙ্গু করে দিয়েছেন। যেভাবে বামফ্রন্টকে তাড়িয়ে সরকার পরিবর্তনের সামিল ছিলাম তাই যতক্ষণ না এই অত্যাচারী, সংবিধান অমান্যকারী, চাকরি চুরির সরকার, ভোট লুট কারী সরকার, তোলাবাজ সরকার, প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি সরকার, গরিব মানুষের রেশন চুরির সরকার কে সম্পূর্ণ উৎখাত করতে পারছি ততক্ষণ আমাকে থামাতে পারবে না। আমি এক দলের সৈনিক আর দল আমার ওপর আস্থা এবং ভরসা রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা আমি সমস্ত আস্থা এবং ভরসার সম্পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি দলের প্রচারে বিভিন্ন জায়গায় এক একদিনে ততধিক সভা করে চলেছেন। প্রতিটি জনসভায় নির্বাচন কমিশন ও ভারতীয় জনতা পার্টি কে তীব্র আক্রমণ করে সুর চড়িয়েছেন সাথে সাথে মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি ভবানীপুর কেন্দ্রে বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় একভোটেও ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তিনি চতুর্থবার জিতবেন বলে হুংকার দিয়েছেন।
২০২৬ সালে SIR -এ শুধুমাত্র ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট ৫১ হাজার ৫ জনের নাম বাদ যায়। প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে উপনির্বাচনের ফলাফল যা কিনা সম্পূর্ণ শাসকের পক্ষে রায় যায় সেখানে আগামীতে কি ফলাফল হবে তা অধির আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ১
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে গড় ৮০ শতাংশের বেশি। SIR হবার ফলে যে নাম বাদ গেছে এতে কোন সন্দেহ নেই যে এই বাদ যাওয়া নামের শতকরা অংশটাই প্রায় শাসকের পক্ষেই যেত। এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছ ভোট করার পক্ষে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ভয় মুক্ত, হুমকি মুক্ত, ছাপ্পা মুক্ত, খুন,সন্ত্রাস মুক্ত, গণনায় কারচুপি মুক্ত এবং মানুষের আস্থা ভরসা জাগিয়ে ভোটমুখী করা। যদি সত্যি সম্ভব করতে পারে তাহলে এই নির্বাচনে শতাংশ বিচারে কমপক্ষে ১০ থেকে ১১ শতাংশ ভোট অর্থাৎ কমবেশি ৯০ থেকে ৯২ শতাংশের বেশি ভোট দানের হার অনুমান করা যায়। যা বর্তমান শাসকের পক্ষে মোটেই সুখকর নয়।
সমস্ত বিরোধী দল এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আভাস অনুযায়ী অনুমান সাপেক্ষ এই নির্বাচন যা সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে।
১) এই বিধানসভা নির্বাচন মূলত দুটি দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘটবে।
২) SIR এর ফলে বিরোধীদল অর্থাৎ ভারতীয় জনতা পার্টি ভোট শতাংশ এক লাফে সরাসরি কমবেশি ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।
৩) SIR এর ফলে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কম বেশি ৮ শতাংশ সরাসরি কমতে পারে।
৪) ভয় মুক্ত ভোটদান পরিবেশ যা মানুষের আস্থা ভরসা নির্বাচন কমিশন গড়ে তুলতে সক্ষম হলে সরাসরি কমবেশি ৫ শতাংশ ভোট ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে সংযুক্ত হতে পারে।
৫) এই প্রথম ভোট ভাগাভাগি হলে সুবিধা শাসক নয় সম্পূর্ণ ফায়দা বিরোধী দল পাবে।
৬) শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কোন্দল বিরোধীদের বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে।
৭) তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তাদের সমস্ত দুর্নীতি ও অপকর্ম এর দায় ঝেড়ে ফেলতে ভিতর ভীতর শাসকের ভিত কাটতে পারে বিরোধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে। অর্থাৎ এই বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাথমিকভাবে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের কমবেশি ভোট ৩৮ শতাংশ এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি কমবেশি ভোট ৪৮ শতাংশ দাঁড়াতে পারে। অন্যান্য বিরোধী দল প্রাথমিকভাবে সম্মিলিত কমবেশি ভোট ১৪ শতাংশ দাঁড়াতে পারে।
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ১৫২ টি কেন্দ্রে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৬১ টি আসন এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে ৫৬ শতাংশ অর্থাৎ কম-বেশি ৮৫ টি আসন পেতে পারে। অন্যান্য বিরোধী দল ৪ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৬ টি আসন পেতে পারে।
দ্বিতীয় দফায় আগামী ২৯ এ এপ্রিল ১৪২ টি কেন্দ্রে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে ৪১ শতাংশ অর্থাৎ কমবেশি ৫৮ টি আসন এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে ৫৭ শতাংশ অর্থাৎ কম-বেশি ৮১ টি আসন পেতে পারে। অন্যান্য বিরোধী দল ২ শতাংশ অর্থাৎ কম বেশি ৩ টি আসন পেতে পারে।
সম্ভাব্য আসন সংখ্যা তৃণমূল কংগ্রেস – ১১৯
ভারতীয় জনতা পার্টি – ১৬৬
অন্যান্য বিরোধী – ৯
তবে ভোট সুইং এর ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু ভোট ৩ শতাংশ বেশি সুইং হলে অর্থাৎ যা শাসক বা বিরোধী পক্ষে ফলাফল বিস্তর ফারাক করে দিতে পারে। সমস্ত অনুমান বাস্তবে সম্পূর্ণ কি ফলাদেশ নিয়ে আসে তার জন্য ৪ ঠা মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন শান্তির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, যাতে করে বিজয় উল্লাসের নাম করে কোনরূপ ক্ষতি কাম্য নয়। ভোট যুদ্ধে জয় পরাজয় থাকবে তা বলে হিংসা দ্বারা কোন জনমত কে দমন বা নিপীড়ন করা গণতন্ত্র হত্যা এবং সংবিধান অমর্যাদার শামিল। 🍁 (সমাপ্ত)
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৭




