West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৭

SHARE:

২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 

বিরোধী দলগুলি শাসককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করে জানতে চান, একজন মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক পদে থেকে কিভাবে আরও এক সাংবিধানিক সংস্থাকে তদন্তে বাধা দেন? শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্য নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব ওই ফাইলের মধ্যেই রয়েছে বলে শাসককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে থাকে। লিখেছেন : অগ্নি প্রতাপ 

পর্ব -৭

২০২৫ শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে বছরটা মোটেই ভাল ছিল না। বছরের দিনগুলো যত গড়িয়েছে ততই শাসক দলের ওপর চাপ বাড়তে থাকে বলাই যেতে পারে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। আর ২০২৬ শুরুতেই শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা এবং ভোট কুশলী সংস্থা ipac এর অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং বিধাননগরে আইপ্যাক অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি’র তল্লাশি অভিযান চলাকালীন তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সঙ্গে পুলিশ কমিশনার সহ রাজ্যের প্রশাসনিক সিনিয়র অফিসাররা যান, কিছুক্ষণ পর বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসার সময় মুখ্যমন্ত্রীর হাতে কিছু ফাইল দেখা যায় এবং পুলিশকর্তাদের সেই ফাইলগুলো গাড়িতে রাখতে বলেন। আর কারণ সম্পর্কে তিনি প্রেসকে জানান, সেখানে দলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক তথ্য তল্লাশির নামে হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছিল বলে তিনি খবর পান। এই কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির নাম করে ভারতীয় জনতা পার্টিকে আক্রমণ করেন। শেষ পর্যন্ত মামলা গড়ায় শীর্ষ আদালতে।আদালতে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং এনভি আঞ্জারিয়া -এর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
শুনানিতে ইডির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পশ্চিমবঙ্গে সংস্থা “আতঙ্কের মধ্যে” কাজ করছে। ইডি এই মামলায় জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার জেড-প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে জোরপূর্বক তল্লাশি অভিযানে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তথ্য প্রমাণ ছিনিয়ে নেবার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চেয়ে আবেদন করেছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৫

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হলফনামায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দাবি, তিনি শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। রাজ্য সরকার ইডির মামলা খারিজ করার দাবি জানিয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল ইডির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এই ধরনের আবেদন করতে পারে না।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, যদি কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার তল্লাশি অভিযানে বাধা দেন, তবে তাদের কী উপায় থাকবে? আদালতের তরফে রাজ্য সরকারকে হলফনামা পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা বিরোধী দলগুলি শাসককে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করে জানতে চান, একজন মুখ্যমন্ত্রী সাংবিধানিক পদে থেকে কিভাবে আরও এক সাংবিধানিক সংস্থাকে তদন্তে বাধা দেন? শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ লোপাট করার উদ্দেশ্য নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব ওই ফাইলের মধ্যেই রয়েছে বলে শাসককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে সারা বাংলা উত্তাল হয়ে ওঠে। ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ খসড়া তালিকায় নাম বাদ পড়ে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন (মৃত, স্থানান্তরিত, একাধিক নাম, অনুপস্থিত)। ২৮ শে ২০২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পায় এবং আরো ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ যায়। সব মিলিয়ে হিসাব দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন। আরও ৬০ লক্ষ ৬৬ হাজার ৭৫ জনকে(একই বাবার ১০০ সন্তান, বাপ, ঠাকুর দাদা ও সন্তানদের বয়সের ফারাক একদম ন্যূনতম, একই নাম ভিন্ন সম্পর্ক ইত্যাদি) নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে চিহ্নিতকরণের ফলে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে শীর্ষ আদালতে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ষড়যন্ত্র করে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত অভিযোগে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কলকাতা উচ্চ আদালতের তত্ত্বাবধানে বিচারক মণ্ডলী দাড়া নির্বাচন কমিশন দ্বারা চিহ্নিতকরণ ভোটারদের অর্থাৎ বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন।ভারতীয় জনতা পার্টি ষড়যন্ত্র করে জোর করে বাংলা দখল করতে চাইছে তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে চক্রান্ত করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেবার খেলায় মেতে উঠেছে বলে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিয়ত তোপ দাগতে থাকে আর বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে আদালতের তত্ত্বাবধানে বিচারক মণ্ডলী দ্বারা সম্পূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি করার প্রক্রিয়াতে স্বচ্ছ ভোটার লিস্টের মাধ্যমে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় যে নিশ্চিত তাতে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ভয় পেয়ে এসব কথা বলছেন তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৪

তৃণমূল সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি হলেন দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ এবং মাননীয়া জানেন কোন স্ট্র‍্যাটেজিতে কীভাবে যে কোনও খেলা যে-কোনও সময় ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। মাননীয় মমতা ব্যানার্জি জানেন যে, পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয় না ভোট করাতে হয় তাই একদা তারই দলের বিধায়ক, ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং সাংসদ বর্তমানে বিরোধী দল নেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য একই যে পশ্চিমবঙ্গে ভোট করাতে হয় আর কিভাবে করাতে হয় তা জানা আছে। সাংগঠনিকভাবে বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী যিনি একমাত্র ব্যক্তি বর্তমানে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের মাথা ব্যাথার প্রধান কারণ হল দীর্ঘদিন একই দলে থেকে রাজনীতি করার সময় তিনি শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলারই দলের অবজারভার বা জেলার দায়িত্ব নিয়ে সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্তিশালী করেছিলেন আর শাসক তৃণমূল কংগ্রেস সাংগঠনিকভাবে কোথায় কতটা শক্ত বা দুর্বল বা প্রশাসনিক স্তরে কে বা কারা তৃণমূল কংগ্রেসের ইয়েস ম্যান আবার কোনও নেতৃত্ব কোথায় কী কী দুর্নীতি বা অপকর্ম করেছেন তা সবই তার নখ দর্পণে। ২০২০ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী তিনি এবং তাঁর অনুগামী বহু বিধায়ক এবং নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন।

২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে অভূতপূর্ব সাফল্যে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২০ সালে এই যোগদানের ফলে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস বিপাকে পড়ে যায়। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে টানটান উত্তেজনার মধ্যে সবার নজর ছিল নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র যেখান থেকে দুই তরফে ই ছিল অস্তিত্বের লড়াই। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলন কে ঘিরে ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করে সরকার গঠন করেছিলেন সেই নন্দীগ্রাম বিধানসভার কেন্দ্রকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন অপরদিকে মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী, তিনি একদা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক নেতা ছিলেন এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কান্ডারী ছিলেন অতএব, দল পরিবর্তনের পর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ণায়ক ছিল এই নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। অনেকেই বলেছিলেন মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি এই সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক ছিল না। কিন্তু রাজনীতিতে স্ট্রাটেজি হচ্ছে সব থেকে বড় গেম চেঞ্জার কারণ এই নির্বাচন কেন্দ্র কে বেছে নেবার কারণ হিসেবে তিনি তাঁর দলের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক নেতাকে একটি নির্বাচন কেন্দ্রে আটকে রেখে ভারতীয় জনতা পার্টি কোন অবস্থাতেই যাতে করে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্বল জায়গা গুলো যেন আঘাত না আসে সেই দিকে পাখির চোখ করে মাননীয়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। দেখতে গেলে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তিনি নিজে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছিলেন মাননীয় শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ঠিকই কিন্তু সঠিক স্ট্রাটেজির ফলে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঠিক কাজে না লাগিয়ে ভোটদান পর্ব থেকে গণনা পর্যন্ত রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ভারতীয় জনতা পার্টির কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বার সরকার গড়েন। অনেকেই বলেছিলেন ২০২১ সালে পরিবর্তন হচ্ছেই কিন্তু বাস্তবে তা মেলানো যায়নি। আসলে অনেকেই বলে থাকেন সরকার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা আগে থাকতে আঁচ করতে পারেন হ্যাঁ ঠিকই ২০১৯ সালে বাংলার মানুষ যে প্রকৃত পরিবর্তন চায় সেই জন্য ভারতীয় জনতা পার্টিকে ১৭ টি লোকসভা আসনে জিতিয়ে একটি পূর্বাভাস দিয়েছিল কিন্তু স্ট্রাটেজিকালি মাননীয়া মমতা ব্যানার্জি সম্পূর্ণ খেলা ঘুরিয়ে দেন আইপ্যাক নামক ভোট কুশলী সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে। সাংগঠনিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি দুর্বল হলেও জাতীয় স্তরে সাংগঠনিক ক্ষমতার বিচারে যার ধারে কাছে বর্তমানে যে কোন রাজনৈতিক দল অনেকটাই দুর্বল কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন ভোল পাল্টে সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রচারকে হাতিয়ার করে মানুষের ক্ষোভকে প্রশমিত করার একটি নির্দিষ্ট ফোন কলের মাধ্যমে অভিযোগের ভিত্তিতে সমাধানের ভিত্তি স্থাপন করা সঙ্গে সঙ্গে কিছু সামাজিক প্রকল্পকে সামনে রেখে বিরোধীদল থেকে আরম্ভ করে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকাংশেই সফল হয়েছিলেন। আবার ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফলে ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি ভেবেই নিয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনে কমবেশি ৩০ টি আসনে তারা জয়লাভ করতে যাচ্ছেন হ্যাঁ ঠিকই যদি এবারও তাদের সংগঠন যদি মজবুত থাকত এবং নির্বাচন কাজে যদি ই ডি থেকে সিবিআই -এর উপরে বেশি ভরসা না করে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরে ভর করে ভেবেছিলেন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তারা সফল হয়ে যাবেন কিন্তু বাস্তবে এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস গণনার শেষে ফলাফল ২০১৯ সালে ছিল ১৭ আর ২০২৪ সালে দাঁড়ালো ১২ তত্ত্বাবধানে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। উঠে এল রিপোর্ট কার্ড। পরবর্তীকালে নির্বাচনের ভরাডুবির কারণ যা বিরোধী দলনেতা মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী থেকে বঙ্গ সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বুঝতে পারেন। যা জানিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন সেই মতো গর্জে উঠেছিলেন এবং রাজ্য নেতৃত্ব এই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পশ্চিমবঙ্গে যে ভোট হয় না ভোট করাতে হয় এই তথ্য প্রমাণ বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন বুঝতে পেরে শুরু থেকে ভোট করানোর যে তত্ত্ব তাতেই সিলমোহর দিয়েছেন। বামফ্রন্টের সময় সাধারণ মানুষ বলতো ভোট দিয়েছি কি জানি বাবু কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না। প্রত্যেক বার বিধানসভা ভোট এলে গেল গেল রব পড়ে যেত কিন্তু ফলাফল হত বামফ্রন্টের পক্ষে। ২০১১ সালেও নির্দিষ্ট করে কোন নিশ্চিত পরিবর্তনের পূর্বাভাস ছিল না। কী আজব ব্যাপার তাই না? তবে রাজনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পরাজয় শিকার যা নৈতিকভাবে এবং রাজনৈতিক ভাবে দলের অস্তিত্ব যে বিপন্ন বা তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয় তা এই ফলাফলের মধ্যে দিয়ে উসকে দেয় কারণ নৈতিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনী হার যা দিয়ে সমগ্র দলের পরাজয় সরকার পরিবর্তনে মানুষের প্রতিফলনের আস্ফালন হিসেবেই ধরা হয়। 🍁 (চলবে) 

আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৬

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন