আবু সাইম, সাশ্রয় নিউজ ★রানিনগর : মুর্শিদাবাদের রানিনগর (Raninagar) ৬৩ নম্বর বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে রবিবার সন্ধ্যায় চোখে পড়ল এক বিস্তৃত রাজনৈতিক কর্মসূচী। বিশাল বাইক মিছিল ও পরবর্তী পথসভাকে ঘিরে এলাকায় জমজমাট হয়ে ওঠে নির্বাচনী আবহ। বামফ্রন্ট (Left Front) -এর ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচীতে অংশ নেন হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক, যাঁদের উপস্থিতি কার্যত জনসমাবেশের রূপ নেয়। সূত্রের খবর, এসডিপিআই (SDPI), আইএসএফ (ISF) এবং সিপিআইএম (CPIM) সহ বামফ্রন্টের বিভিন্ন শরিক দলের কর্মী ও সমর্থকেরা এদিনের বাইক মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। মিছিলটি রামনগর ডিএন ক্লাব থেকে শুরু হয়। এরপর রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে, বিভিন্ন গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় অতিক্রম করে। স্থানীয়দের মধ্যে এই কর্মসূচী ঘিরে কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
বাইক মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) প্রার্থী জামাল হোসেন (Jamal Hossain)। মিছিলের অগ্রভাগে তাঁকে দেখা যায় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। পথ চলতি মানুষের সঙ্গে কথোপকথন, হাত নেড়ে অভিবাদন এসব মিলিয়ে জনসংযোগের একটি অপূর্ব দৃশ্য তৈরি হয়। মিছিলের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করে বাম শিবির। স্থানীয় মানুষজনের মতে, বহুদিন পরে এত বড় মিছিল দেখা গেল। উল্লেখ্য, মিছিল শেষে রানিনগর বাজার এলাকায় সিপিআই(এম)-এর পার্টি অফিসের সামনে আয়োজন করা হয় একটি স্ট্রিট কর্নার। এই সভায় বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বালিগঞ্জ (Ballygunge) বিধানসভা কেন্দ্রের বামপ্রার্থী আফরিন বেগম শিল্পী (Afreen Begum Shilpi)। তিনি তাঁর বক্তব্যে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একযোগে আক্রমণ করেন এবং বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরেন। আফরিন বেগম শিল্পী বলেন, ‘রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরিষেবা, সব ক্ষেত্রেই অনিয়ম ও দুর্বলতা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা আজও সমাধান হয়নি, কৃষকদের অবস্থাও উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন দরকার।’
আফরিন-এর বক্তব্যে রাজনৈতিক তীক্ষ্ণতা যেমন ছিল, তেমনই ছিল স্থানীয় সমস্যার উল্লেখ। তিনি রানিনগর কেন্দ্রের ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের ভোটে জামাল হোসেনকে জয়ী করে বিধানসভায় পাঠান, যাতে আপনাদের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়।’ এই আহ্বানে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সাড়া পড়ে। সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) প্রার্থী জামাল হোসেন (Jamal Hossain) নিজেও। তিনি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবি এবং মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, ‘রানিনগরের মানুষ উন্নয়ন চায়, কর্মসংস্থান চায়, নিরাপত্তা চায়। আমরা সেই দাবিগুলিকেই সামনে রেখে লড়ছি।’ প্রসঙ্গত, এদিনের সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির সদস্য সিপিআই(এম) নেতা ইকবাল হক (Iqbal Haque)। তিনি সংগঠনের ভূমিকা এবং নির্বাচনী লড়াইয়ের কৌশল নিয়ে বক্তব্য রাখেন। সভার সভাপতিত্ব করেন জুলফিক্কার আলি (Zulfikar Ali)। এছাড়াও এসডিপিআই (SDPI)-এর নেতৃত্ব ও অন্যান্য শরিক দলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বড় আকারের বাইক মিছিল ও পথসভা নির্বাচনের আগে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। রানিনগরের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বামফ্রন্টের এই কর্মসূচী রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত এই অঞ্চল। কর্মসংস্থানের অভাব, স্বাস্থ্য পরিষেবার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষার সুযোগের ঘাটতি এই সমস্ত বিষয়ই মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। ফলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলির কর্মসূচী ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে।
রবিবারের এই মিছিল ও সভা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজরে পড়ার মতো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল ও সভা সম্পন্ন হয় বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রানিনগরে বামফ্রন্টের এই সক্রিয়তা আগামী নির্বাচনে লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিভিন্ন দলের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার ইঙ্গিতও মিলছে এই ধরনের কর্মসূচী থেকে।
উল্লেখ্য, রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে রবিবারের বাইক মিছিল ও পথসভা একদিকে যেমন বামফ্রন্টের সংগঠনিক শক্তির প্রকাশ ঘটিয়েছে, অন্যদিকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়িয়ে তুলেছে। এখন দেখার, এই ধরনের কর্মসূচীর প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়। তবে রাজ্যের শাসক দল এই মিছিল ও সভাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। একইভাবে তৃণমূল কংগ্রেসও নিজেদের জয় নিয়ে নিঃসন্দেহ। তবে রাজনৈতিক দলগুলি যা-ই বলুন, শেষ কথা বলবেন সাধারণ ভোটাররা ২৩ এপ্রিল ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যদিয়েই।
ছবি : সংগৃহীত




