সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ চলাকালীনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন আফগানিস্তানের তারকা স্পিনার রশিদ খান (Rashid Khan)। দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) -এর বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিলেন, দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে (Test Cricket) তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। লাল বলের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনার কথাও স্বীকার করে নেন এই বিশ্বখ্যাত লেগস্পিনার বলে উল্লেখ। বুধবারের ম্যাচে গুজরাট টাইটান্স (Gujarat Titans) -এর হয়ে বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন রশিদ। চার ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন তিনি। আইপিএলের শুরুতে কিছুটা ছন্দহীন দেখালেও এই ম্যাচে তাঁর বোলিংয়ে পুরনো ধার ফিরে আসার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে তাঁর ক্রিকেট-জীবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
রশিদ বলেন, ‘লাল বলের ক্রিকেট খেলা আমার জন্য এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শেই এই সিদ্ধান্তের দিকে ঝুঁকছেন। তাঁর কথায়, ‘ডাক্তাররা আমাকে বলেছেন, যদি দীর্ঘদিন খেলতে চাই, তবে টেস্ট থেকে দূরে থাকা ভাল।’ এই মন্তব্যেই পরিষ্কার, শরীরের অবস্থা এবং দীর্ঘ কেরিয়ারের কথা মাথায় রেখে তিনি এই পথ বেছে নিতে পারেন। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের সামনে চলতি বছর জুন মাসে ভারতের (India) বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচ রয়েছে। কিন্তু সেই ম্যাচে রশিদের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। নিজেই জানিয়েছেন, ‘আমি সেই ম্যাচে খেলব কি না, তা এখনও নিশ্চিত নই।’ ফলে ভারত সফরের আগে আফগান দলের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। রশিদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তাঁর চোটের ইতিহাস। পিঠের অস্ত্রোপচারের পরেও তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ফিরেছিলেন। জ়িম্বাবোয়ে (Zimbabwe) -এর বিরুদ্ধে একটি ম্যাচে দীর্ঘ সময় বল করে দলের হয়ে লড়াই করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। রশিদ বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পরেও আমি টেস্ট খেলেছিলাম। প্রায় ৬৭ ওভার বল করেছিলাম। সেটা দেখে আমার চিকিৎসক বলেছিলেন, “তুমি কি পাগল হয়ে গিয়েছো? যদি দীর্ঘ সময় খেলতে চাও, তবে টেস্ট থেকে দূরে থাক।” এই ঘটনার পর থেকেই তিনি নিজের শরীরের উপর চাপ কমানোর বিষয়ে আরও সতর্ক হয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করা, বিশেষ করে লেগস্পিনারের ক্ষেত্রে, শারীরিকভাবে বেশ চাপের। সেই চাপই এখন তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় চিন্তার বিষয়।
আফগানিস্তান ২০১৭ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে মোট ১২টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে ছ’টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন রশিদ। যদিও সংখ্যাটা খুব বেশি নয়, তবুও তাঁর উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। রশিদ জানিয়েছেন, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন সীমিত ওভারের ক্রিকেট, বিশেষ করে এক দিনের ম্যাচ এবং টি-টোয়েন্টি। তিনি বলেন, ‘আমি এক দিনের ক্রিকেট খেলতে খুবই স্বচ্ছন্দ। ৫০ ওভারের ম্যাচে কোনও সমস্যা নেই।’ একই সঙ্গে তিনি বোঝাতে চান, লাল বলের তুলনায় সাদা বলের ক্রিকেটে শরীরের উপর চাপ তুলনামূলক কম। তিনি আরও বলেন, ‘শেষ দুই টেস্টে আমি মোট ১২৬ ওভার বল করেছি, যা প্রায় ১২টি এক দিনের ম্যাচের সমান।’ এই পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর উপর কতটা শারীরিক চাপ পড়ছে। ফলে ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি নিজের ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করতে চাইছেন। পাশাপাশি, আইপিএলে তাঁর প্রত্যাবর্তনও কম আলোচনার বিষয় নয়। দু’মাস বিরতির পর মাঠে ফিরে শুরুতে কিছুটা ছন্দ খুঁজছিলেন রশিদ। প্রথম দুই ম্যাচে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স দেখিয়ে দিয়েছে, তিনি ধীরে ধীরে নিজের সেরা ফর্মে ফিরছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আইসিসি (ICC) ক্রমতালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রাখা এই বোলার আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিলেন।
ক্রিকেটবিশ্বে রশিদ খানের গুরুত্ব অপরিসীম। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি দলের অন্যতম ভরসা। তাই তাঁর এই সিদ্ধান্ত আফগান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ালে দলের বোলিং আক্রমণে বড় ফাঁক তৈরি হবে। কিন্তু, রশিদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার এবং ফিটনেস। সামনে ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপকে (ODI World Cup 2027) লক্ষ্য করে তিনি এগোতে চান। তাই আপাতত নিজের শরীরকে সঠিকভাবে সামলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই মন দিতে চাইছেন। আইপিএলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা নিঃসন্দেহে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে। এখন দেখার, ভবিষ্যতে রশিদ খান কী সিদ্ধান্ত নেন এবং আফগান ক্রিকেট সেই অনুযায়ী কীভাবে নিজেদের পরিকল্পনা সাজায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IPL 2026 proposal video | আইপিএল ম্যাচে বিয়ের প্রস্তাব, আংটি হারিয়ে ফের খুঁজে পেলেন প্রেমিক, ভাইরাল ভিডিও




