সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন আর অর্থনৈতিক অগ্রগতি এই দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখে কেন্দ্রের উদ্যোগে জোরদার হচ্ছে সবুজ শক্তি (Green Energy) ক্ষেত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বে চালু হওয়া নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণ কর্মসূচি এবার কর্মসংস্থানের দিক থেকেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা জানাচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে দেশে প্রায় ৪৪ লক্ষেরও বেশি নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই সম্ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে সৌরশক্তি (Solar Energy) খাত। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সৌর প্যানেল তৈরি থেকে শুরু করে তার স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ সঞ্চয় ও গ্রিড সংযোগ, প্রতিটি স্তরেই বিপুল কর্মীর প্রয়োজন হবে। ফলে বিভিন্ন স্তরের দক্ষতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি-নির্ভর কাজের পাশাপাশি আধা-দক্ষ এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্যও বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হবে।
বায়ুশক্তি (Wind Energy) ক্ষেত্রেও একই ধরনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। উইন্ড টারবাইন তৈরির কারখানা, তার স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, এই সব কাজের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি গ্রিন হাইড্রোজেন (Green Hydrogen) প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই কর্মসংস্থান শুধু শহরকেন্দ্রিক থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকাতেও সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রসারের ফলে বহু যুবক-যুবতী কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে রাজস্থান (Rajasthan), গুজরাট (Gujarat), মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh), কর্ণাটক (Karnataka), তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) এবং অন্ধ্রপ্রদেশ (Andhra Pradesh) -এর মতো রাজ্যগুলিতে বৃহৎ পরিসরে সৌর ও বায়ু প্রকল্প গড়ে উঠছে। ফলে ওই অঞ্চলগুলিতে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
সমীক্ষায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই উদ্যোগ দেশের উৎপাদন ক্ষেত্রকেও শক্তিশালী করতে পারে। সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি এবং অন্যান্য সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। এর ফলে নতুন শিল্প গড়ে ওঠার পাশাপাশি ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Atmanirbhar Bharat) কর্মসূচিও আরও জোর পাবে। উৎপাদন থেকে পরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের বিস্তার ঘটবে। বর্তমানে ভারতের অ-জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা ইতিমধ্যেই ২০০ গিগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ গিগাওয়াট নতুন ক্ষমতা যুক্ত করতে হবে। এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণ দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। ফলে সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি যৌথভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উপর জোর দিচ্ছে।
প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর উপর। সৌর প্যানেল স্থাপন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, ডাটা মনিটরিং, এই সব ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইটিআই এবং পলিটেকনিক স্তরেও নতুন কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতের প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল প্রস্তুত থাকে।
উল্লেখ্য, সবুজ শক্তির প্রসার শুধু পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যেমন সম্ভব হবে, তেমনই নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হতে পারে। ফলে এই উদ্যোগকে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। এছাড়াও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (Electric Vehicles) প্রসার এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং স্টেশন তৈরির ক্ষেত্রেও বড়সড় কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গাতেই এই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ফলে নির্মাণ, প্রযুক্তি এবং পরিষেবা তিন ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মহলে এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলিরও প্রসার ঘটবে। সমস্ত বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, সবুজ শক্তিকে কেন্দ্র করে দেশের সামনে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা এবং কর্মসংস্থান দুই ক্ষেত্রেই এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ২০৩০ সালের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারলে ভারত শুধু শক্তি উৎপাদনে নয়, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi 12 years PM | বাংলা জয়ের পর দিল্লিতে ‘বেমিসাল বারা সাল’: মোদীর হাতে ঝালমুড়ি তুলে দিলেন শুভেন্দু, প্রধানমন্ত্রিত্বের ১২ বছর ঘিরে এনডিএর বড় বার্তা



