Dilip Ghosh : পুলিশের শরীরী ভাষা বদল মানেই বদলের ইঙ্গিত! ভোটের পর বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক উত্তাপ যখন ক্রমেই চড়ছে, তখনই পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। ভোট প্রক্রিয়া, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং পুলিশের আচরণ, সব মিলিয়ে তাঁর মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ‘পুলিশের শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছে’ এই মন্তব্য ঘিরে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ভোট পরিচালনা নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar) -এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। একই সঙ্গে অতীতে তাঁকে উদ্দেশ্য করে করা কটাক্ষের প্রসঙ্গ তুলে কারও নাম না করে তিনি পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘যাঁরা জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলেছিলেন, তাঁরাই এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে।’ এই মন্তব্যে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress) নিশানা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : Mann Ki Baat, Narendra Modi | পরিবেশ, ভোটাধিকার ও ভারতীয় সংস্কৃতি : বছরের প্রথম ‘মন কী বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বহুমুখী বার্তা

আরও পড়ুন : Priyanka Chopra celebrates Karwa Chauth | করবা চৌথে প্রিয়াঙ্কার মেহেন্দিতে হিন্দিতে ‘নিকোলাস’, বিদেশে থেকেও সংস্কৃতির টানে মাতলেন অভিনেত্রী!

দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, ‘দুই দফায় ভোট করানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু তিনি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করেছেন।’ তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন চাইলে প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করে সুষ্ঠভাবে ভোট আয়োজন করা সম্ভব, এই নির্বাচন তারই প্রমাণ। এই প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘চাইলে প্রশাসন অনেক কিছু করতে পারে, সেটাই এবার দেখা গেল।’ প্রসঙ্গত, ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, ‘কেন্দ্রীয় আধা সেনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের বাহিনী নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে।’ তবে তাঁর বক্তব্যের মূল আকর্ষণ ছিল রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের আচরণ নিয়ে মন্তব্য। তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছে।’ এই বক্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) মতে, এই পরিবর্তন শুধু বাহ্যিক নয়, এর মধ্যে একটি বার্তা লুকিয়ে রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘পুলিশ এখন সুযোগ পেলে কাজ করতে চায়। তারা নিজেদের ভূমিকা প্রমাণ করতে আগ্রহী।’ এই মন্তব্যকে অনেকে প্রশাসনিক মানসিকতার পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন। এদিকে, ভোট পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থান নিয়েও প্রশংসা করেছেন তিনি। বিশেষ করে SIR (Special Intensive Revision) প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘যেদিন থেকে SIR-এর কথা উঠেছে, সেদিন থেকেই বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। BLO ইউনিয়ন তৈরি, কালো পতাকা দেখানো সবই হয়েছে। কিন্তু তাতেও সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।’ তাঁর দাবি, এই দৃঢ়তাই ভোট প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছে। রাজনৈতিকভাবে এই মন্তব্যের আরেকটি দিকও রয়েছে। দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) সরাসরি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা দলের কাছে এবারের ভোটে আর কোনও ইস্যু ছিল না।’ তাঁর মতে, ভোটাররা পরিস্থিতি বুঝেই ভোট দিয়েছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ‘বাঙালির ঘিলু শুকিয়ে যায়নি যে আবার একই জায়গায় ভোট দেবে।’ এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার নজরকাড়া ছিল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই জোর দেওয়া হয়েছিল শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজনের উপর। ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে আগেভাগেই মোতায়েন করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রশাসনিক তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) বক্তব্যে সেই প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে। তাঁর মতে, ‘ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ‘পুলিশের শরীরী ভাষা’ সংক্রান্ত মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই এখন বেশি আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন বিজেপি নেতা। আবার অন্য অংশের মতে, এটি নিছক রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল।

ভোটের ফল ঘোষণার আগে এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক আবহকে আরও তীব্র করে তুলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের মাত্রা বাড়াল। আগামী দিনে ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এই মন্তব্যগুলির প্রাসঙ্গিকতা আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশ, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই চর্চা অব্যাহত রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Election 2026 analysis, Bengal vote war TMC BJP | ভোট যুদ্ধ ২০২৬: বাংলার মাটিতে ক্ষমতার মহারণ, কার দখলে যাবে নবান্ন?

Sasraya News
Author: Sasraya News