সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নতুন বছরের প্রথম ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠানেই একাধিক বিষয়ে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেকে শুরু করে পরিবেশ রক্ষা, সাধারণতন্ত্র দিবস, জাতীয় ভোটার দিবস, এমনকী ভজনের আধুনিক রূপ, সব নিয়ে ছিল নানা প্রসঙ্গ। তবে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের একজন সাধারণ মানুষের কাজকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিলেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবার সকালে তাঁর মুখে শোনা গেল কোচবিহারের বিনয় দাস (Binoy Das) -এর নাম ও কাজের প্রশংসা, যা স্থানীয় স্তর থেকে জাতীয় স্তরে এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, ছোট ছোট ব্যক্তিগত উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের বীজ বয়ে আনে। পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে কোচবিহারের বিনয় দাসের কথা। তিনি গত ১৫ বছর ধরে নিরলস ভাবে গাছ লাগিয়ে চলেছেন। সংখ্যাটা নেহাত কম নয়, প্রায় ১৩ হাজার চারাগাছ। শুধু গাছ লাগানোই নয়, বহু পুরনো গাছ রক্ষার কাজেও যুক্ত তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, এমন কাজ প্রমাণ করে দেয় যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, সাধারণ নাগরিকের উদ্যোগেই বদল আসতে পারে। যাঁর নাম প্রধানমন্ত্রীর মুখে উঠে এল, তিনি নিজে কিন্তু সেই মুহূর্তে কিছুই জানতেন না। কোচবিহারের হাজরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিনয় দাস রাজবাড়ির একজন আধিকারিক। নিজের কাজে কখনও প্রচারের আলো খোঁজেননি। তাঁর কথায়, ‘আমি জানতামই না যে আমার কাজের কথা প্রধানমন্ত্রী বলবেন। মন কী বাত-ও শুনিনি। পরে অন্যদের মুখে শুনে জানতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোচবিহারের মতো ছোট শহরে থেকে কাজ করি। কখনও ভাবিনি, এই কাজের কথা দেশের প্রধানমন্ত্রী জানবেন। এটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে বড় স্বীকৃতি।’
বিনয়ের এই প্রতিক্রিয়াই যেন আরও স্পষ্ট করে দেয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল সুর, ব্যক্তিগত উদ্যোগের গুরুত্ব। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের অন্য প্রান্তের মানুষদের কাজও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলরক্ষী জগদীশপ্রসাদ আহিরওয়ার (Jagdish Prasad Ahirwar) -এর কাজের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এর মাধ্যমে পরিষ্কার মেসেজ দিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে দেশের বিভিন্ন কোণে ছড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষই আসল নায়ক।
‘মন কী বাত’-এ উঠে আসে জাতীয় ভোটার দিবসের প্রসঙ্গও। রবিবার, ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবস হিসেবে পালিত হয়। এই দিনেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি হল ভোটার। তাঁর কথায়, ‘১৮ বছর বয়সে ভোটার হওয়া জীবনের একটি সাধারণ ধাপ মনে হতে পারে, কিন্তু ভারতীয়দের জীবনে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।’ তিনি জানান, ভোটদান শুধু একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, এটি নাগরিকের বড় দায়িত্বও। দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভোটারদের ভূমিকা অপরিসীম। এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ‘মাই-ভারত ভলান্টিয়ার’ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখে তিনি ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য নাগরিকদের কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, আর সেই কণ্ঠস্বরের প্রকাশ ঘটে ভোটের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের মানুষকে বেশি করে ভোটদানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সোমবারের সাধারণতন্ত্র দিবস নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণতন্ত্র দিবস শুধু একটি জাতীয় উৎসব নয়, এটি ভারতের সাংবিধানিক চেতনার প্রতীক। এই দিনের সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, সমতা ও ন্যায়ের কথা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান মোদী। ভাষণে উঠে আসে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। তবে শুধু গতি নয়, গুণমানের উপরও জোর দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ গবেষণা, নিউক্লিয়ার শক্তি ও বায়োটেকনোলজির মতো ক্ষেত্রে ভারতীয় উদ্যোগ ইতিমধ্যেই বিশ্বে নিজের ছাপ ফেলেছে। তরুণ ভারতীয়দের স্টার্টআপ সংস্কৃতি দেশের অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ভজন ও ভক্তিগীতির আধুনিক উপস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভক্তিকে কখনওই হালকা ভাবে দেখা উচিত নয়। আধুনিক সুর ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভজন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছোচ্ছে, যা ভারতীয় সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করছে। উল্লেখ যে, বছরের প্রথম ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য ছিল বহুমাত্রিক। কোচবিহারের বিনয় দাসের মতো মানুষের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে তিনি যেমন সাধারণ মানুষের উদ্যোগকে সম্মান জানালেন, তেমনই ভোটাধিকার, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন দেশবাসীর উদ্দেশে। এই ভাষণ নতুন বছরের শুরুতেই নাগরিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনে দিল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan Mahabharata Movie | ‘মহাভারত’ নিয়ে স্বপ্ন ও শঙ্কার দ্বন্দ্ব: কেন এখনও বড় পর্দায় মহাকাব্য আনতে ভয় পাচ্ছেন আমির খান?




