সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রানিনগর : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ -এর প্রথম দফার ভোট শেষ হয়েছে ২৩ এপ্রিল। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সেই আবহেই মুর্শিদাবাদের রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে তৈরি হয়েছে অন্য এক রাজনৈতিক চিত্র, যেখানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও সামনে এসেছে সৌজন্যের দৃশ্য। প্রথম দফার ভোটে এই কেন্দ্রেও উল্লেখযোগ্য হারে ভোটদান হয়েছে। এলাকায় ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। সেই সময়ই এক চমকপ্রদ মুহূর্ত ধরা পড়ে রানিনগরের রাস্তায়। সিপিআই (এম) -এর প্রার্থী জামাল হোসেন (Jamal Hossain) যখন এলাকায় ঘুরছিলেন, তখনই হঠাৎ দেখা হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক সৌমিক হোসেনের (Saumik Hossain) সঙ্গে।
রাজনৈতিক মঞ্চে যাঁরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী, বাস্তবে তাঁদের মধ্যে এই স্বাভাবিক সাক্ষাৎ অনেককেই চমকে দিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের মতে, দুই প্রার্থীর মধ্যে কথোপকথন ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং সৌজন্যপূর্ণ। এমনকী সৌমিক হোসেন হাসতে হাসতে মন্তব্য করেন, ‘জামাল হোসেন আমাদের এলাকার জামাই। ভাল মানুষ।’ এই মন্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক মহলে। এই ঘটনাকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। সিপিআই (এম) শিবিরের দাবি, এটি নিছকই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ, যার সঙ্গে ভোটের অঙ্কের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁদের মতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক আলাদা জায়গা রাখে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরও বিষয়টিকে হালকা মেজাজেই দেখছে। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনের উত্তাপ থাকলেও পারস্পরিক সম্পর্কের জায়গায় কোনও তিক্ততা নেই।
রানিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ বরাবরই জটিল। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এখানে মূলত চতুর্মুখী লড়াই দেখা যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআই (এম), কংগ্রেস (Congress) এবং অন্যান্য শক্তি সবাই নিজেদের মতো করে প্রচার চালিয়েছে। ফলে ফলাফল নিয়ে আগাম কোনও পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বাম শিবির সূত্রে থেকে জানানো হয়, এই কেন্দ্রে তাঁদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। স্থানীয় স্তরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। একজন বাম নেতা বলেন, ‘লড়াই কঠিন হলেও আমরা আশাবাদী। মানুষের সমর্থন আমাদের পক্ষে আসবে।’
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও এই আসন ধরে রাখতে মরিয়া। বিদায়ী বিধায়ক হিসেবে সৌমিক হোসেন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রচারে সেই কাজগুলির উল্লেখই প্রধান হাতিয়ার ছিল। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ভোটাররা তাঁদের সমর্থন করবেন। কংগ্রেস শিবিরও এই কেন্দ্রে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা চালিয়েছে। ঐতিহ্যগত ভাবে মুর্শিদাবাদ জেলার একাধিক আসনে কংগ্রেসের প্রভাব থাকায় রানিনগরেও তারা ভাল ফলের আশায় রয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য ছোট দল ও নির্দল প্রার্থীরাও ভোটের সমীকরণে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও সন্তোষের ছবি দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ লাইন, সকাল থেকে বুথে ভিড়, এসব মিলিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে। একজন ভোটারের কথায়, ‘আমরা চাই উন্নয়ন আর শান্তি। সেই অনুযায়ী ভোট দিয়েছি। আর অনেকদিন পরে মানুষের ভেতর ভোট নিয়ে এত উন্মাদনা দেখলাম। মানুষ সাগ্রহে নিজেদের ভোট প্রদান করেছেন।
ভোট মিটে গেলেও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। এখন নজর ফলাফলের দিকে। কোন দল শেষ হাসি হাসবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ করে চতুর্মুখী লড়াইয়ের কারণে ফলাফল যে কোনও দিকেই যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। উল্লেখ্য, রানিনগরের এই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ এক ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে আলাদা জায়গা পেতে পারে, সেই ছবিই ধরা পড়েছে এই ঘটনায়। তবে ভোটের অঙ্কে তার কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে গণনার দিনের। ফল প্রকাশের দিনই পরিষ্কার হবে, এই কেন্দ্রে শাসক দলের প্রভাব বজায় থাকে, নাকি অন্য কোনও শক্তি জায়গা করে নেয়। আপাতত রানিনগরে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সৌজন্যের এই মুহূর্তই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Afreen Begum CPIM candidate, West Bengal Assembly Election 2026 | কোটি টাকার রাজনীতির মাঝে ৫০০ টাকার প্রার্থী! আলোচনায় আফরিন বেগম



