সাশ্রয় নিউজ ★ পটনা: বিহারের রাজনীতিতে ফের জোর গুঞ্জন। মুখ্যমন্ত্রীর পদে নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) -এর ইস্তফা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। নতুন সরকার গঠনের ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি, তার মধ্যেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহল উত্তাল। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডিইউ (Janata Dal United)-এর এই বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর জায়গায় বিহারের দায়িত্ব নিতে পারেন ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর কোনও মুখ। যদিও এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত জেডিইউ বা এনডিএ (National Democratic Alliance) -এর তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক সূত্রে খবর, জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন নীতীশ কুমার। তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। বুধবার সকালে জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝা (Sanjay Jha) দিল্লি থেকে পটনায় ফিরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরই জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। দলীয় সূত্রের দাবি, ‘দিল্লির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’
প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা? গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট ফের ক্ষমতায় ফিরলেও আসন সংখ্যার হিসাবে বিজেপি এগিয়ে ছিল। ৮৯টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, যেখানে জেডিইউ-এর ঝুলিতে যায় ৮৫টি আসন। ফলে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বিজেপির কাউকে বসানো হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোট নেতৃত্ব নীতীশ কুমারের উপরই আস্থা রাখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেটি হয়ত ছিল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। একজন পর্যবেক্ষকের কথায়, ‘প্রথমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। এখন পরিস্থিতি অনুকূল হলে বিজেপি নিজের মুখ সামনে আনতে চাইতে পারে।’ যদিও এই দাবির কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই।
নীতীশ কুমারের ইস্তফার জল্পনার পাশাপাশি আর একটি নাম ঘুরছে বিহারের রাজনৈতিক অন্দরে, নিশান্ত কুমার (Nishant Kumar)। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, নীতীশ-পুত্র সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখতে পারেন। জেডিইউ-এর একাংশের দাবি ছিল, ‘নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে আনতে হবে।’ সূত্রের খবর, যদি নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়, তবে নিশান্ত কুমারকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে আনা হতে পারে। যদিও এই নিয়ে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরছে, নীতীশ কুমারকে যদি রাজ্যসভায় পাঠানো হয়, তবে কী জাতীয় স্তরে তাঁকে বড় ভূমিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে? গত কয়েক বছরে তিনি একাধিকবার জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। বিজেপির সঙ্গে জোট, জোট ত্যাগ, পুনরায় জোট এসব নিয়ে তাঁর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে চর্চা কম হয়নি। এখন যদি তিনি দিল্লিমুখী হন, তবে তা নিঃসন্দেহে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
এদিকে বিরোধী শিবিরও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তাদের বক্তব্য, ‘সরকার গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী বদলের জল্পনা প্রমাণ করে জোটের ভিত কতটা নড়বড়ে।’ যদিও এনডিএ-এর ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করছে, ‘সব সিদ্ধান্তই হবে জোটের ঐকমত্যে।’ উল্লেখ্য, বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাসে নেতৃত্ব পরিবর্তন নতুন নয়। তবে সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ‘এটি শুধুমাত্র রাজ্য রাজনীতির বিষয় নয়; এর প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও পড়তে পারে।’ বিশেষত লোকসভা নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন কৌশলগত গুরুত্ব বহন করতে পারে।
আরও একটি দিক আলোচনায় এসেছে, তা হল নীতীশ কুমারের জনপ্রিয়তা। একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা কমেছে। যদিও নির্বাচনী ফলাফল বলছে, এখনও তিনি বিহারের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ। এনডিএ নেতৃত্বও তা স্বীকার করেছে। তবু বিজেপি যদি সংখ্যার নিরিখে নিজেদের দাবিকে জোরদার করে, তবে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু, বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। মুখ্যমন্ত্রীর পদে নীতীশ কুমারের ইস্তফা কী শুধুই জল্পনা, নাকি সত্যিই বড় রদবদল আসন্ন, তা পরিষ্কার হবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন পটনার দিকেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Nitish Kumar son JDU, Bihar political news | নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কী অবশেষে জেডিইউ -এর সক্রিয় মুখ? বিহার রাজনীতিতে জল্পনার পারদ চড়ছে




