সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পাটনা: বিহার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার-এর পুত্র নিশান্ত কুমার কী অবশেষে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন? শাসক দল জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-এর একজন বর্ষীয়ান নেতা ও মন্ত্রী শারওয়ান কুমার-এর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘দু-এক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।’ শুধু তাই নয়, দলে নিশান্তকে ‘বড় দায়িত্ব’ দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংবাদসংস্থা সূত্রে জেডিইউ নেতার দাবি, দলের অভ্যন্তরে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। নিশান্তের সম্ভাব্য ভূমিকাকে ঘিরে নানা জল্পনা ছড়িয়েছে। তাঁকে কী রাজ্যসভায় পাঠানো হবে? নাকি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হবে? সরাসরি কিছু না বললেও শারওয়ান কুমারের মন্তব্য, ‘যে কোনও কিছু ঘটতে পারে!’ আর এই উক্তিই কৌতূহল বাড়িয়েছে।
৪৯ বছর বয়সী নিশান্ত অবিবাহিত। পাটনার কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি রাঁচির বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে একটি বহুজাতিক সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন মূলত প্রযুক্তি ও কর্পোরেট ক্ষেত্রকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল। রাজনীতির অন্দরে তাঁর উপস্থিতি খুব কমই দেখা গিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে বাবার পাশে একাধিকবার দেখা গিয়েছে নিশান্তকে। বিশেষত বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনি প্রচারমঞ্চে উপস্থিত থেকেছেন। কিন্তু সক্রিয়ভাবে দলের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে এত দিন অনাগ্রহই প্রকাশ করেছেন। ২০১৭ সালে একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে আমার কোনও আগ্রহ নেই, এই ক্ষেত্র সম্পর্কে আমার তেমন জ্ঞানও নেই।’ সেই সময় তিনি আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের দিকে ঝোঁকার কথাও জানিয়েছিলেন।
বিহারের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে বহুবার গুঞ্জন উঠেছে, নীতীশ কুমারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কে নেবেন? জেডিইউ-এর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে নিশান্তের নাম সামনে এসেছে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী নিজে বা তাঁর পুত্র এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনার স্তরেই আটকে ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে জেডিইউ-র সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। রাজ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে সামনে আনতে দল যে নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে নিশান্তের সম্ভাব্য আগমন রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে দলকে নতুনভাবে উপস্থাপনের কৌশল হিসেবে এটি দেখা হতে পারে।
বিরোধী শিবিরও বিষয়টি নজরে রাখছে। বিহারে ক্ষমতার সমীকরণ প্রায়শই পরিবর্তিত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজনৈতিক আলোচনাকে নতুন মাত্রা দেবে বলেই ধারণা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে দলীয় মহল মুখে কুলুপ এঁটেছে। রাজনৈতিক মহলে আরেকটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, নিশান্ত কী সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে নামবেন, নাকি সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করা হবে? জেডিইউ-এর অন্দরে কেউ কেউ মনে করছেন, প্রথমে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। আবার অন্য অংশের ধারণা, তাঁকে সংসদের উচ্চকক্ষে পাঠানো হলে জাতীয় স্তরে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ মিলবে।
নীতীশ কুমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার ক্ষমতার পালাবদল সামলেছেন। জোট রাজনীতির কৌশলে তাঁর দক্ষতা সুবিদিত। সেই ধারাবাহিকতায় পারিবারিক সদস্যকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত নিলে তা নিছক আবেগের বিষয় নয়, বরং কৌশলগত হিসাবের ফল হতে পারে বলেই অনেকে মনে করছেন। কিন্তু সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিশান্ত নিজেই। অতীতে তিনি রাজনীতির প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এখন যদি সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়, তা হলে সেটি তাঁর অবস্থানের বড় পরিবর্তন হিসেবে ধরা হবে। সময়ই বলবে, তিনি আদৌ দলের নেতৃত্বের সারিতে জায়গা করে নেন কি না। তবে বিহার রাজনীতিতে এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ যে আলোড়ন তুলেছে, তা বলাই বাহুল্য। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলে ছবিটা পরিষ্কার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলবে নিশান্ত কুমারের সম্ভাব্য অভিষেক ঘিরেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan Mahabharata Movie | ‘মহাভারত’ নিয়ে স্বপ্ন ও শঙ্কার দ্বন্দ্ব: কেন এখনও বড় পর্দায় মহাকাব্য আনতে ভয় পাচ্ছেন আমির খান?




