Uttam Kumar Suchitra Sen Holi | দোলের রঙে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা: বাঙালির উৎসবপঞ্জিতে দোলযাত্রা বা বসন্তোৎসবের আলাদা আবেদন রয়েছে। ফাল্গুনের হাওয়ায় যখন আবিরের গন্ধ ভাসে, তখনই ফিরে আসে নস্টালজিয়া সাদা পাঞ্জাবি, রাঙা গাল আর পুরনো দিনের গান। আর বাঙালির স্মৃতিতে দোলের আবহ মানেই অনিবার্যভাবে উঠে আসে মহানায়ক উত্তম কুমার-এর (Uttam Kumar) নাম। রুপোলি পর্দার চিরসবুজ নায়ক ব্যক্তিজীবনে কীভাবে কাটাতেন দোলের দিন? আর তাঁর পর্দাসঙ্গিনী সুচিত্রা সেন তাঁকে কী কখনও রং মাখিয়েছিলেন মহানায়ক? এই প্রশ্ন ঘিরে আজও কৌতূহল তুঙ্গে। পুরনো বিনোদনপত্রিকা ও সমসাময়িক স্মৃতিচারণে জানা যায়, দোলের সকাল মানেই ছিল মহানায়কের ময়রা স্ট্রিটের বাসভবনে উন্মুক্ত আয়োজন। সহকর্মী, বন্ধু, পাড়া-প্রতিবেশী কারও জন্য দরজা বন্ধ থাকত না। সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামায় সজ্জিত উত্তম কুমার যখন বারান্দায় এসে দাঁড়াতেন, তখন অনুরাগীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠত চারপাশ। আবিরের রাঙা ছোঁয়ায় তাঁর হাসি যেন আরও দীপ্ত হতো। ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি মজা করে বলতেন, ‘দোলের দিন কোনও দূরত্ব নেই, সবাই একসঙ্গে রঙিন হয়ে যাই।’

উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন। ছবি : সংগৃহীত।

শোনা যায়, রং খেলার পাশাপাশি অতিথিদের আপ্যায়নেও ছিল তাঁর আলাদা আনন্দ। শরবত বানানো থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়ার তদারকি, সবকিছুতেই থাকত তাঁর অংশগ্রহণ। তারকাখ্যাতি সরিয়ে রেখে এই দিনটিতে তিনি যেন হয়ে উঠতেন পাড়ারই এক চেনা মানুষ। বহু প্রবীণ শিল্পী পরে স্মৃতিচারণায় বলেছেন, ‘ওঁর বাড়ির দোল মানেই ছিল আড্ডা, গান আর হাসির রোল।’ কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় যে, পর্দার অমর জুটি উত্তম-সুচিত্রার দোল কেমন ছিল? ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, সুচিত্রা সেন ব্যক্তিগত জীবনে খুব একটা রং খেলতে পছন্দ করতেন না। তিনি পরিবারের সঙ্গেই দিনটি কাটাতেন। তাই মহানায়কের সঙ্গে প্রকাশ্যে রং খেলার কোনও নির্ভরযোগ্য ছবি বা তথ্য পাওয়া যায় না। চলচ্চিত্রের ফ্রেমে তাঁদের প্রেম যত রঙিন, বাস্তবের দোল ছিল ততটাই সংযত।

বাংলা ছবিতে দোল ও বসন্তের দৃশ্য বারবার ফিরে এসেছে। সপ্তপদী-র স্মৃতি এখনও তাজা কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার রঙের আবহে নায়ক-নায়িকার প্রেম যেন নতুন মাত্রা পেয়েছিল। যদিও ছবির সেই দৃশ্য সরাসরি দোলকে কেন্দ্র করে নয়, তবু বসন্তের রোমান্টিক আবহে উত্তম-সুচিত্রার রসায়ন আজও দর্শকের মনে দোলা দেয়। আবার হারানো সুর-এ প্রেম ও বিরহের সুরে যে আবেগ ধরা পড়েছিল, তা বসন্তেরই এক রূপান্তর যেন। উত্তম কুমারের অভিনীত একাধিক ছবিতে রঙের ব্যবহার ছিল আবেগের প্রতীক হিসেবে। কখনও প্রেমের উচ্ছ্বাস, কখনও সম্পর্কের টানাপোড়েন সবেতেই রঙিন ফ্রেমে ধরা পড়েছে তাঁর ব্যক্তিত্ব। ‘ওগো নিরুপমা’ গানের সুর বাজলেই এখনও অনেকের মনে পড়ে যায় বসন্তের দুপুর। তাঁর হাসি, তাঁর সংলাপ উচ্চারণ বাংলা সিনেমায় দোল যেন এক আলাদা মাত্রা পেয়েছিল।

উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন। ছবি : সংগৃহীত। 

অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবী একটি সাক্ষাৎকারে একদা বলেছিলেন, ‘দোলের দুপুরে উত্তমদা গান ধরলে সবাই থেমে শুনত। রং খেলার পর মজলিশ জমত অন্য রকম।’ এই স্মৃতিতেই ধরা পড়ে মহানায়কের সহজ-সরল রূপ। তাঁর কাছে দোল ছিল আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ। উল্লেখ্য, বহু দশক পেরিয়ে গিয়েছে। তথাপি দোল এলেই টেলিভিশনের পর্দায় বা ডিজিটাল মাধ্যমে ভেসে ওঠে উত্তম কুমারের ছবি ও গান। বাঙালির বসন্ত যেন তাঁর উপস্থিতিতেই পূর্ণতা পায়। নতুন প্রজন্মও ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে খুঁজে নেয় সেই পুরোনো দৃশ্য। সামাজিক মাধ্যমে প্রতি বছর দোলের দিন মহানায়কের সাদা পাঞ্জাবি পরা ছবিতে ভরে যায় টাইমলাইন। আসলে দোল মানেই রং, গান আর সম্পর্কের উষ্ণতা। মহানায়কের জীবনে এই দিনটি ছিল মিলনমেলার উৎসব। আর সুচিত্রা সেনের সংযত ব্যক্তিত্ব সেই ছবিতে যোগ করেছে অন্য মাত্রা। বাস্তব ও পর্দা দুই জগতের ভিন্ন ছন্দ সত্ত্বেও তাঁদের জুটি আজও বাঙালির হৃদয়ে অমলিন। এই দোলের আবিরে ভেসে উঠুক সেই সোনালি অধ্যায়। মহানায়ক হয়ত আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর হাসি, তাঁর গান আর তাঁর রঙিন স্মৃতি বসন্তের হাওয়ায় এখনও ভেসে আসে। বাঙালির দোলযাত্রা তাই উত্তম-সুচিত্রা নাম উচ্চারণ করলেই যেন আরও আবেগময় হয়ে ওঠে।

সব ছবি : সংগৃহীত। 
আরও পড়ুন : Narendra Modi statement, Nitin Naveen BJP chief | ‘আমি প্রধানমন্ত্রী হতে পারি, কিন্তু বিজেপিতে আমি একজন কার্যকর্তা, নিতিন নবীনই আমার বস’ : দলের সভাপতির শপথ মঞ্চে সংগঠনের দর্শন স্পষ্ট করলেন মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন