সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : কলকাতা ও আহমেদাবাদ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে নতুন চ্যাপ্টার লিখতে প্রস্তুত নিউ জিল্যান্ড (New Zealand)। বুধবার ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে (South Africa) হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner) স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium) একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাঁদের লক্ষ্য। অন্য দিকে, লড়াই করেও শেষ চারে থেমে যাওয়ায় আক্ষেপ লুকোননি প্রোটিয়া অধিনায়ক এডেন মার্করাম (Aiden Markram)। সেমিফাইনালের পর স্যান্টনার বলেন, ‘ফাইনালেও যদি এ রকম নিখুঁত ক্রিকেট খেলতে পারি, তা হলে দারুণ হবে। তবে প্রতিটি মাঠ আলাদা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। বিশ্বকাপে এই মাঠে আগে খেলিনি। লাল মাটির পিচ না কালো মাটির পিচ দলগঠনের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় মাথায় রাখতে হয়। মাঠের আকার-আকৃতিও প্রভাব ফেলে। আজকের জয় উপভোগ করছি। সামনে দু’দিন সময় আছে, তারপর দেখা যাবে।’ তাঁর কথায়, ইডেনে এদিন দল ব্যাট-বল-ফিল্ডিং সবেতেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
ম্যাচের চিত্রনাট্য কিন্তু শুরুতে একতরফা ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে লড়াই করে তারা পৌঁছে যায় ১৬৬ রানে। শেষ দিকে কিছু কার্যকর শট ও গুরুত্বপূর্ণ জুটি ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবু স্যান্টনারের বিশ্বাস নড়েনি। তিনি জানান, ‘মিথ্যে বলব না, ১৭০ -এর কম রান দেখে খুশিই হয়েছিলাম। পাওয়ার প্লেতে পিচ কেমন আচরণ করবে তা নিয়ে কিছুটা দুঃশ্চিতা ছিল। কিন্তু আমাদের ওপেনাররা যেভাবে শুরু করেছে, তাতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। পাওয়ার প্লেতে এমন দাপট দেখালে দল বাড়তি সুবিধা পায়।’ নিউ জিল্যান্ডের ইনিংসে ফিন অ্যালেন (Finn Allen) -এর ঝোড়ো শতরান ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের চাপে রাখেন। মার্করাম পরে স্বীকার করেন, ‘প্রথম দিকে ব্যাট করা সহজ ছিল না। বল ব্যাটে ঠিক মতো আসছিল না, কখনও নিচু হয়ে যাচ্ছিল, কখনও থমকে থাকছিল। আমরা বড় রান তুলতে পারিনি। আর বিপক্ষের কেউ যদি ওই রকম ইনিংস খেলে দেয়, তখন ম্যাচ ধরা কঠিন হয়ে যায়।’
অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের স্মৃতি নিউ জিল্যান্ডের শিবিরে ছিলই। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেমিফাইনালে পরিকল্পনায় বদল আনা হয়। স্যান্টনার বলেন, ‘হার-জিত দুটো থেকেই শেখার আছে। আগের ম্যাচে হয়ত আজকের মতো ক্রিকেট খেলতে পারিনি। ওরা খুব ভাল খেলেছিল। আজ চেষ্টা ছিল শুরু থেকেই ওদের চাপে রাখা। তাই প্রথমে স্পিনারদের আক্রমণে এনেছি, যা আগেরবার করিনি।’ কৌশলগত এই বদলই প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইন-আপে ছন্দ নষ্ট করে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসে মাঝের ওভারে রান তোলার গতি কমে যায়। উইকেট পড়ার চাপ কাটিয়ে উঠতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় গতি আনতে পারেনি। শেষদিকে কিছু বড় শট সত্ত্বেও স্কোরবোর্ডে পর্যাপ্ত রান ওঠেনি। মার্করাম বলেন, ‘এই হার আমাদের কষ্ট দিচ্ছে। তবে পুরো টুর্নামেন্টে দল যেভাবে খেলেছে, তাতে গর্বিত। আজকের রাতটাই আমাদের পক্ষে গেল না।’
একইভাবে, নিউ জিল্যান্ডের শিবিরে প্রথম টি২০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল। অতীতে একাধিকবার আইসিসি (ICC) ইভেন্টের ফাইনালে উঠেও শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে কিউইদের। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ। স্যান্টনারের নেতৃত্বে দল তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের মিশেলে ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটিং অর্ডারে আগ্রাসন, মিডল অর্ডারে স্থিরতা এবং বোলিংয়ে বৈচিত্র সব নিয়ে তারা পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ হিসেবেই ধরা দিচ্ছে।
আহমেদাবাদের উইকেট ও আবহাওয়ার প্রেক্ষাপট ফাইনালে বড় ভূমিকা নিতে পারে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের বিশাল আউটফিল্ড, দর্শক সমাগম এবং পিচের প্রকৃতি সমস্ত কিছু মাথায় রেখে দল নির্বাচন হবে। স্যান্টনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি বুঝে একাদশ সাজানো হবে। ইডেনে স্পিনারদের সফলতা ফাইনালেও কাজে লাগতে পারে, তবে পিচের রং ও গঠন অনুযায়ী পরিকল্পনায় বদল আসতে পারে। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটে টি২০ ফরম্যাটে ধারাবাহিক সাফল্য পেতে হলে সূক্ষ্ম কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তা জরুরি। সেমিফাইনালে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে নিউ জিল্যান্ড। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি আরেকটি হারানো সুযোগ হিসেবে থেকে গেল। তবু তাদের লড়াই বিশ্বকাপের মান বাড়িয়েছে, সন্দেহ নেই। এখন সব চোখ আহমেদাবাদের ফাইনালে। ইডেনের রাত কিউইদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, কিন্তু শিরোপা জিততে হলে শেষ ধাপ পেরতেই হবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় যে, নিউ জিল্যান্ড কী প্রথমবার টি২০ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলতে পারবে, নাকি ভাগ্য অন্য গল্প লিখবে? অথবা কার সঙ্গেই বা তাঁদের ফাইলে মুখোমুখি হতে হবে? তা অবশ্য নিশ্চিত হবে বৃহস্পতিবার ভারত ও ইংল্যান্ড দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচের ফলাফলের ওপর।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sanju Samson 97 not out | সমাজমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা, মাঠে দাপট : সঞ্জুর ৯৭*-এ উচ্ছ্বসিত ক্রিকেটমহল




