Rahul Sinha Rajya Sabha | রাজ্যসভা নির্বাচন ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাহুল সিংহ, বিহার থেকে নিতিন নবীন, বিজেপির প্রার্থী তালিকায় চমক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ নতুন দিল্লি/কলকাতা: আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল ভারতীয় জনতা পার্টি। ছ’টি রাজ্যের মোট ন’টি আসনের জন্য নাম প্রকাশ করেছে দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে রাহুল সিংহকে (Rahul Sinha) এবং বিহার থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। দলীয় অন্দরে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকলেও আলোচনার বাইরে থাকা একাধিক নেতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে এই ঘোষণায়। রাজ্যসভা নির্বাচন, বিজেপি প্রার্থী তালিকা, পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি এই তিনটি ইস্যু ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় আসন বিন্যাস অনুযায়ী পাঁচটি শূন্য আসনের মধ্যে চারটি পাওয়ার কথা All India Trinamool Congress (All India Trinamool Congress)-এর এবং একটি বিজেপির। শাসকদল তাদের চার প্রার্থীর নাম আগেই জানিয়েছে। ফলে বিজেপির একমাত্র প্রার্থী হিসাবে রাহুল সিংহের জয় প্রায় নিশ্চিত। বড় কোনও অঘটন না ঘটলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাজ্যসভায় পৌঁছতে চলেছেন রাহুল সিংহ। অতীতে একাধিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করলেও জয় পাননি রাহুল; তাই এবারই প্রথম তিনি সংসদের সদস্য হতে চলেছেন বলে দলীয় শিবিরে মত।

আরও পড়ুন : Prime Minister Seva Sankalp | ‘সেবা সংকল্প’ পুনর্নবীকরণে সার দপ্তরের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দর্শন সামনে রেখে কর্তব্য ভবনে শপথ

রাহুল সিংহ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং পরে জাতীয় সম্পাদক ছিলেন। কয়েক বছর তিনি সংগঠনের কোনও পদে ছিলেন না। জাতীয় সম্পাদক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে অনুপম হাজরাকে (Anupam Hazra) দায়িত্ব দেওয়া হলে রাহুল প্রকাশ্যে আপত্তি তুলেছিলেন। তবু দল ছাড়েননি। পরবর্তীতে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর সংগঠনে রাহুলের ভূমিকা ধীরে ধীরে বাড়ে। ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র একাধিক সভায় তাঁকে প্রধান বক্তা করা হয়। এবার তাঁর নাম ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনার অবসান হয়েছে। মনোনয়ন ঘোষণার পরে রাহুল বলেন, ‘হোলি মানে অশুভের পতন এবং শুভের সূচনা। আজ আমাদের দলের কর্মীদের কাছে একটি বার্তা গেল, দল সবার কাজ নজরে রাখে, কাউকে ভুলে যায় না।’ তিনি আরও জানান, অনেক সময় দলের ভেতরে কেউ কেউ নিজেকে উপেক্ষিত মনে করতে পারেন, কিন্তু সংগঠন ঠিক সময়ে ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সুরে তাঁর মন্তব্য, ‘দু’-আড়াই মাসের বেশি সংসদে বাংলার কথা তোলার সুযোগ হয়ত পাব না। কারণ, তার পরেই অগণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে নতুন সরকার আসবে। তবে জাতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বে যে কাজ হচ্ছে, তা তুলে ধরব।’

দলীয় সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের আগে অন্তত ন’টি নাম আলোচনায় ছিল। রাজ্য নেতৃত্বের মত, সংঘ পরিবারের মতামত এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুমোদন সব দিক বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে দিল্লির পছন্দে নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে (Nagendra Ray alias Ananta Maharaj) রাজ্যসভায় পাঠানোর পর নানা বিতর্কে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল দলকে। কখনও কোচবিহারের পৃথক রাজ্যের দাবি, কখনও তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর মঞ্চে উপস্থিতি, এসব ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল বিজেপি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার রাজ্য নেতৃত্বের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

অন্য দিকে, বিহার থেকে প্রার্থী হয়েছেন নিতিন নবীন। গত ডিসেম্বরে তাঁকে কার্যনির্বাহী সর্বভারতীয় সভাপতি করা হয় এবং চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিহারের পটনার বাঁকিপুর কেন্দ্র থেকে তিনি বিধায়ক হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনে অধিকাংশ সময় দিল্লিতে থাকতে হওয়ায় রাজ্য বিধানসভায় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। দলের মতে, সর্বভারতীয় দায়িত্বে থাকা নেতার দেশের আইনসভার সদস্য হওয়াই অধিক উপযুক্ত। সেই কারণেই তাঁকে বিহার থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়াও বিহারে দু’টি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। নিতিন নবীনের পাশাপাশি শিবেশ কুমার (Shivesh Kumar) -এর নামও রয়েছে তালিকায়। এছাড়া অসম থেকে তেরশ গোয়ালা (Terash Gowala) ও যোগেন মোহন (Yogesh Mohan), ওড়িশা থেকে মনমোহন সামল (Manmohan Samal) ও সুজিত কুমার (Sujit Kumar), হরিয়ানা থেকে সঞ্জয় ভাটিয়া (Sanjay Bhatia) এবং ছত্তীসগঢ় থেকে লক্ষ্মী বর্মাকে (Lakshmi Verma) প্রার্থী করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে বিজেপির এই প্রার্থী তালিকাকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনভিত্তিক নেতাকে তুলে ধরা এবং বিহারে সর্বভারতীয় সভাপতিকে সংসদে পাঠানো দুই সিদ্ধান্তেই ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও সাংগঠনিক সমীকরণের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। লোকসভা নির্বাচন ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন রাজ্য বিধানসভা ভোট এবং জাতীয় স্তরের সমীকরণ, এসব দিক মাথায় রেখে বিজেপির এই প্রার্থী ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। আপাতত রাহুল সিংহ ও নিতিন নবীনের মনোনয়ন ঘোষণায় বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস, আর বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে নতুন করে সমীকরণ কষার পালা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Congress West Bengal Election | সিপিএমকে ছেড়ে একার পথে কংগ্রেস, পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনেই লড়াইয়ের ঘোষণা খড়্গে-রাহুলের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন