সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : নতুন দিল্লিতে কর্তব্য ভবন (Kartavya Bhawan) আজ সাক্ষী থাকল এক তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের। সার দপ্তর বা ডিপার্টমেন্ট অফ ফার্টিলাইজার্স (Department of Fertilizers) -এর আধিকারিক ও কর্মীরা একত্র হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ঘোষিত ‘সেবা সংকল্প’ পুনরায় উচ্চারণ করলেন। প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে জনকল্যাণ ও জাতি নির্মাণের অঙ্গীকারকে নতুন করে দৃঢ় করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন সার দপ্তরের সচিব রাজত কুমার মিশ্র (Rajat Kumar Mishra)। তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে কর্মসংস্কৃতিকে ‘তীর্থের পবিত্রতা’র সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী যে ধারণা সামনে এনেছেন, তা বাস্তবায়নের কথা উঠে আসে। আলোচনায় বলা হয়, কর্মক্ষেত্র কেবল দায়িত্ব পালনের জায়গা নয়; তা সেবা ও নিষ্ঠার মিলনভূমি হওয়া প্রয়োজন।
সভায় অতিরিক্ত সচিব অপর্ণা এস. শর্মা (Aparna S. Sharma) গৃহস্থালী শৌচালয় উদ্যোগকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই কর্মসূচী নারীর মর্যাদা রক্ষায় নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে যুগ্ম সচিব ড. কৃষ্ণ কান্ত পাঠক (Krishna Kant Pathak) ‘জ্যাম ট্রিনিটি’ জনধন-আধার-মোবাইল (Jan Dhan-Aadhaar-Mobile) ব্যবস্থাকে ভর্তুকি প্রদানে একটি নতুন যুগের সূচনা বলে বর্ণনা করেন। তাঁর কথায়, সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীর অবসান ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা দ্রুত পৌঁছনোর পথ প্রশস্ত হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। ডিজিটাল ইন্ডিয়া (Digital India), আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat), অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিস্তার নিয়ে আলোচনা হয়। ডিজিটাল পরিকাঠামো বিস্তারের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি কীভাবে উপকৃত হয়েছে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবায় সহজপ্রাপ্যতা কীভাবে বেড়েছে—তা নিয়েও মতামত উঠে আসে। এই কর্মসূচীর প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নতুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘সেবা তীর্থ’-তে (Seva Teerth) প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে দেশের ১৪০ কোটির নাগরিকের কল্যাণকে সামনে রেখে প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জাতি গঠনের বৃহত্তর লক্ষ্যে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়।
আজকের অনুষ্ঠানে সচিব রাজত কুমার মিশ্র বলেন, ‘ভিভিআইপি সংস্কৃতি’ (VVIP Culture) বিলোপের ২০১৪ সালের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ শাসন ব্যবস্থায় সমতা ও বিনয়ের চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। সরকারি কর্মীবাহিনীর প্রতি সরকারের আস্থা যত বৃদ্ধি পায়, দায়িত্ববোধও তত গভীর হওয়া প্রয়োজন, এই বার্তাই তিনি তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, কর্তব্য ভবনের আধুনিক কর্মপরিবেশে প্রত্যেক আধিকারিককে নিজের দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করার আহ্বান জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘সেবা সংকল্প’ যেন দৈনন্দিন দাপ্তরিক আচরণের অংশ হয়ে ওঠে। গুণগত মানসম্পন্ন পরিষেবা প্রদানই হোক মূল লক্ষ্য, এই নির্দেশনা দেন তিনি। নিজের কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকাই জ্ঞানের সর্বোচ্চ রূপ, এই ভাবনা নিয়েই কর্মীদের এগিয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়। সার দপ্তরের এই উদ্যোগ প্রশাসনিক মহলে তাৎপর্য বহন করছে। কৃষিক্ষেত্রে সার সরবরাহ ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় এই দপ্তরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষকের উৎপাদনশীলতা ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই বিভাগে সুশাসনের মান উন্নত হলে তার ইতিবাচক প্রভাব বৃহত্তর অর্থনীতিতেও পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সেবা সংকল্প’ কেবল একটি স্লোগান নয়; তা প্রশাসনিক সংস্কৃতির পুনর্গঠনের একটি রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্তব্য ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কর্মীদের মনোভাব আরও সুদৃঢ় করেছে। জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করায় সার দপ্তরের এই উদ্যোগ নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya on rail development, Amrit Bharat Station Scheme West Bengal | অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম-এ নতুন রূপ পেতে চলেছে বাংলার ১০১ রেলস্টেশন, সংসদে জানাল রেলমন্ত্রক




