India Canada energy partnership | ভারত-কানাডা সম্পর্কে নতুন গতি: জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা ও নিরাপত্তায় বিস্তৃত রূপরেখা ঘোষণা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : নতুন দিল্লি ও অটোয়ার কূটনৈতিক সমন্বয়ে ভারত (India) ও কানাডা (Canada) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে এক যৌথ নেতৃবৃন্দের বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ, শিক্ষা-গবেষণা, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক সহযোগিতা ইত্যাদি বহু স্তরে সহযোগিতার নতুন পথরেখা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলা আরও স্থিতিশীল করা হবে।’ এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। জ্বালানি সহযোগিতায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে। উভয় দেশ জানিয়েছে, ভারতের প্রথম দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি সরবরাহ চুক্তি কানাডার সঙ্গে চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হাইড্রোকার্বন মূল্যশৃঙ্খলে ঋণ, ইকুইটি বিনিয়োগ ও আর্থিক সহায়তার মতো উপায় ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ‘শিপিং খরচ ও কানাডীয় হেভি অয়েলের প্রাপ্যতা’ এই দু’টি বিষয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত-কানাডা এনার্জি ডায়ালগের (India-Canada Energy Dialogue) অধীনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন : UP CM Yogi Adityanath Meets PM Narendra Modi in New Delhi | নতুন দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সহযোগিতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দুই দেশের শিল্প ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি, পারস্পরিক বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করবে। জি৭ ক্রিটিক্যাল মিনারেলস অ্যাকশন প্ল্যানের (G7 Critical Minerals Action Plan) প্রতি ভারতের সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে নেতারা বলেছেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় মূল্যশৃঙ্খলা শক্তিশালী করতে বহুমুখী ও দায়িত্বশীল উৎপাদন জরুরি। ২০২৬ সালের মার্চে প্রস্পেক্টর্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা (Prospectors and Developers Association of Canada বা PDAC) বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব এবং ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে মন্ত্রী-নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জ্বালানি ও শিল্প প্রতিনিধিদলের কানাডা সফরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় খনিজ মজুত উদ্যোগ সুরক্ষিত করা ও নিঃসরণ হ্রাস প্রযুক্তি ভাগাভাগিতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। কৃষি-খাদ্য গবেষণায় কানাডা-ইন্ডিয়া পালস প্রোটিন সেন্টার অব এক্সেলেন্স স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এনআইএফটিইএম কুন্ডলিতে (NIFTEM Kundli)। সাসকাচুয়ান প্রদেশ (Province of Saskatchewan) বিশ্বে ডাল উৎপাদন ও উদ্ভাবনে অগ্রগণ্য; অন্যদিকে, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ডাল উৎপাদক ও ভোক্তা। এই যৌথ উদ্যোগে ডাল প্রোটিন প্রক্রিয়াকরণ, ফোর্টিফায়েড খাদ্য উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী পুষ্টি-প্রাপ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিল্প-শিক্ষা সংযোগ জোরদার করে উপ-জাতীয় অংশীদারিত্বও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবসম্পদ ও শিক্ষা বিনিময়ে দুই দেশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ, দ্বৈত ডিগ্রি ও টুইনিং প্রোগ্রাম সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছে। শিল্প-সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা প্রশিক্ষণ, উদীয়মান প্রযুক্তিতে গবেষণা সহযোগিতা এবং কানাডীয় প্রতিষ্ঠানের অফশোর ক্যাম্পাস ভারতে স্থাপনের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (All India Council for Technical Education বা AICTE) ও মিটাক্স (MITACS) -এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ফলে গ্লোবালিঙ্ক রিসার্চ ইন্টার্নশিপ (Globalink Research Internship) কর্মসূচীর আওতায় প্রতিবছর প্রায় ৩০০ ভারতীয় স্নাতক শিক্ষার্থী কানাডীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা-সংযুক্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। কানাডার ইন্দো-প্যাসিফিক স্কলারশিপস অ্যান্ড ফেলোশিপস ফর কানাডিয়ানস (Indo-Pacific Scholarships and Fellowships for Canadians বা IPSFC) কর্মসূচীর অধীনে ১১টি কানাডীয় প্রতিষ্ঠানের ৮৫ জনের বেশি স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও গবেষক ভারত সফর করে পরিচ্ছন্ন হাইড্রোজেন, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলা স্থিতিশীলতা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যৌথ কাজ করবেন। শিক্ষা-সম্পর্কিত ২৪টি সমঝোতা স্মারক সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ের নিয়মিত সংলাপকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। সহিংস উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত অপরাধ, মাদক ও ফেন্টানিল প্রিকার্সর পাচার, সাইবার অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি ও মানবপাচারের মতো বিষয়ে তথ্য-অদলবদল ত্বরান্বিত করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লিয়াজোঁ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা ও অভিবাসন প্রয়োগে সহযোগিতা জোরদার এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্রুত বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক গতি বাড়াতে পারস্পরিক মন্ত্রী-নেতৃত্বাধীন চার দফা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সফরের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে-দু’টি সফর কানাডায় এবং দু’টি ভারতে। এতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। ভারত-কানাডা সিইও ফোরাম (India-Canada CEO Forum) পুনর্গঠনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার খাতে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ দেওয়ার পথ খুলবে। অর্থমন্ত্রী পর্যায়ের অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপ শুরু হচ্ছে; তাৎক্ষণিক পেমেন্টের ভবিষ্যৎ, সীমান্ত-পার রেমিট্যান্স ও মার্চেন্ট পেমেন্টে সহযোগিতা খতিয়ে দেখা হবে। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (National Payments Corporation of India বা NPCI) ও পেমেন্টস কানাডা (Payments Canada) অংশগ্রহণ করতে পারে, এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রথম বৈঠক ২০২৬ সালে আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে বলে সূত্রের খবর। উল্লেখ্য যে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি (Prime Minister Carney) ভারত সরকারের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘সমন্বিত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে কানাডা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ দুই দেশের নেতৃত্বের মতে, এই উদ্যোগগুলো আঞ্চলিক স্থিতি, বৈশ্বিক সহনশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শিক্ষা-গবেষণা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ থেকে আর্থিক উদ্ভাবন, বহুমাত্রিক এই রূপরেখা ভারত-কানাডা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | বিধানসভা ভোটের আগে ‘আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী’ খোলা চিঠিতে তোপ নরেন্দ্র মোদীর, ভুয়ো ভোটার-তোষণ-সিএএ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর

Sasraya News
Author: Sasraya News