প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউডের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিংবদন্তির মতো ছড়িয়ে পড়ে। তেমনই একটি বিতর্কিত অধ্যায় ঘিরে ফের আলোচনায় উঠে এলেন অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত (Madhuri Dixit) এবং পরিচালক টিনু আনন্দ (Tinu Anand)। আশির দশকের শেষভাগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা আজও চলচ্চিত্র জগতে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে, একটি দৃশ্য নিয়ে মতবিরোধ, আর তার জেরেই থমকে যায় গোটা ছবির শুটিং। ১৯৮৯ সাল। মাধুরী তখন ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা পোক্ত করছেন। কয়েকটি সফল ছবির পর তিনি বড় ব্যানারের প্রস্তাব পাচ্ছেন। সেই সময়েই অমিতাভ বচ্চন (Amitabh Bachchan) -এর বিপরীতে ‘শনাক্ত’ (Shanakht) ছবির জন্য তাঁকে বেছে নেন টিনু আনন্দ। ছবিটি ঘিরে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে, কারণ এই জুটি প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করতে চলেছিলেন।

কিন্তু শুটিং শুরু হওয়ার পরই তৈরি হয় জটিলতা। চিত্রনাট্যের একটি বিশেষ দৃশ্য নিয়ে মতান্তর দেখা দেয় অভিনেত্রী এবং পরিচালকের মধ্যে। জানা যায়, সেই দৃশ্যে নায়িকাকে এমনভাবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল, যা নিয়ে মাধুরীর অস্বস্তি তৈরি হয়। প্রথমদিকে তিনি স্ক্রিপ্ট পড়ে রাজি থাকলেও, ক্যামেরার সামনে সেই দৃশ্য ধারণের সময় তিনি সিদ্ধান্ত বদলান। ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুটিংয়ের দিন মাধুরী প্রায় ৪০ মিনিট মেকআপ রুমে নিজেকে আটকে রাখেন। ইউনিটের সদস্যরা অপেক্ষা করছেন, অমিতাভ বচ্চন প্রস্তুত, তবুও তিনি বাইরে আসেননি। পরে পরিচালক টিনু আনন্দ নিজেই তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে অভিনেত্রী জানান, তিনি ওই দৃশ্যে কাজ করতে স্বচ্ছন্দ নন। মাধুরীর অবস্থান ছিল পরিষ্কার, ‘আমি এমন কোনও দৃশ্যে অভিনয় করব না, যেখানে নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলতে হয়।’ তাঁর এই সিদ্ধান্তে শুটিং ফ্লোরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অমিতাভ বচ্চনও কথোপকথনে যুক্ত হন বলে জানা যায়, তবে তাতেও অবস্থান বদলাননি মাধুরী।

অন্যদিকে, পরিচালক টিনু আনন্দ নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘আমি শুরুতেই পুরো দৃশ্যটি ব্যাখ্যা করেছিলাম। বলেছিলাম কীভাবে শুট করা হবে। কোনও কিছু গোপনে করার ইচ্ছে ছিল না। গল্পের জন্য এই অংশটি জরুরি ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘মাধুরী প্রথমে রাজি হয়েছিল, পরে হঠাৎ মত বদলায়।’ এই টানাপোড়েনের জেরে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। শেষপর্যন্ত টিনু আনন্দ কঠোর সিদ্ধান্ত নেন এবং মাধুরী দীক্ষিতকে প্রকল্প থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রী অপমানিত বোধ করেছিলেন বলেই জানা যায়। শুটিং কয়েক দিন চলার পরই পুরো প্রকল্প থমকে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ছবিটি আর সম্পূর্ণ হয়নি।

বলিউডের অন্দরমহলে এই ঘটনা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। অনেকেই মনে করেন, এটি শুধুমাত্র একটি দৃশ্য নিয়ে মতবিরোধ নয়, তা একজন অভিনেত্রীর নিজের সীমারেখা নির্ধারণের উদাহরণ। অন্যদিকে, পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তিনি গল্পের প্রয়োজনে দৃশ্যটির গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঘটনা নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যখন চলচ্চিত্র জগতে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সম্মতি, স্বাচ্ছন্দ্য এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। বর্তমান সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণত আগেভাগেই স্পষ্ট চুক্তি এবং শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়, যাতে শুটিংয়ের সময় কোনও বিভ্রান্তি তৈরি না হয়।

মাধুরী দীক্ষিত পরবর্তীকালে বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন। ‘তেজাব’, ‘দিল’, ‘বেটা’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন জয় করে।

অন্যদিকে টিনু আনন্দও নিজের পরিচালনায় বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। তবে ‘শনাক্ত’ ছবির অসম্পূর্ণ গল্প আজও কৌতূহল জাগায়। যদি সেই সময় এই মতবিরোধ না ঘটত, তাহলে হয়ত বলিউড আরও একটি স্মরণীয় ছবি পেত। কিন্তু ইতিহাস অন্য পথে এগিয়েছে, আর সেই কারণেই এই ঘটনাটি আজও চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Madhuri Dixit interview | খ্যাতির অন্ধকার দিক: ‘আমাকে দত্তক নিন’ দাবি করে বাক্সপ্যাঁটরা নিয়ে মাধুরী দীক্ষিতের বাড়িতে হাজির এক পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি, আতঙ্কে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন অভিনেত্রী



