প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই : রুপোলি পর্দার ঝলমলে আলো, জনপ্রিয়তার উচ্ছ্বাস আর ভক্তদের উন্মাদনার আড়ালেও লুকিয়ে থাকে ভয়ের ছায়া। সেই ভয় কতটা বাস্তব আর কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই জানালেন বলিউডের ‘ধক ধক গার্ল’ মাধুরী দীক্ষিত (Madhuri Dixit)। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী প্রকাশ্যে ভাগ করে নিলেন তাঁর জীবনের এক অস্বস্তিকর এবং আতঙ্কজনক ঘটনার কথা, যা শুনে রীতিমতো চমকে উঠেছেন অনুরাগীরা। ঘটনাটি ঘটেছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। তখন মাধুরী দীক্ষিত মুম্বইয়ের আন্ধেরিতে (Andheri) পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। ঠিক সেই সময়েই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর সুপারহিট ছবি ‘তেজ়াব’ (Tezaab)। ছবির সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যান মাধুরী। কিন্তু সেই সাফল্যের পরপরই ঘটে যায় এক অদ্ভুত এবং ভয়ংকর ঘটনা, যা আজও তাঁকে শিউরে উঠতে বাধ্য করে।

মাধুরী জানান, একদিন হঠাৎই একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে হাজির হন। শুধু হাজিরই নন, সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন নিজের সমস্ত বাক্সপ্যাঁটরা। দরজায় কড়া নাড়তেই দরজা খুলেছিলেন অভিনেত্রীর মা। সামনে দৃশ্য দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। অচেনা ওই ব্যক্তি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি আর কোথাও যাবেন না। তাঁর দাবি, তাঁকে মাধুরীর পরিবার দত্তক নেবে এবং তিনি সেখানেই থাকবেন। এই ঘটনার স্মৃতি রোমন্থন করে মাধুরী বলেন, ‘উনি বলেছিলেন, উনি এখান থেকে নড়বেন না। ওঁর দাবি ছিল, আমাদের ওঁকে দত্তক নিতে হবে। উনি আমাদের পরিবারের অংশ হয়ে থাকতে চান।’ একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের এমন দাবি যে কতটা অস্বাভাবিক এবং ভীতিকর, তা সহজেই অনুমেয়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে মাধুরী ও তাঁর পরিবার বুঝে উঠতে পারছিলেন না, কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেবেন।

পরিস্থিতি ক্রমশঃ ভয়াবহ হয়ে উঠছিল। বাড়ির ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মাধুরীর পরিবার প্রতিবেশীদের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়। অভিনেত্রী জানান, ‘আমাদের প্রতিবেশীদের বাড়ি গিয়ে কড়া নাড়তে হয়েছিল। আমরা ওঁদের বলেছিলাম, ‘কিছু একটা করুন।’ প্রতিবেশীরাই কোনওভাবে ওই ব্যক্তিকে বোঝান এবং তাঁকে বাড়ি ছাড়তে রাজি করান। শেষমেশ একটি গাড়িতে তুলে তাঁকে তাঁর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যদিও সেই দিন সমস্যার সাময়িক সমাধান হয়েছিল, কিন্তু মানসিক আতঙ্ক কাটেনি। মাধুরী ও তাঁর পরিবার বুঝে গিয়েছিলেন, জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। সেই ঘটনার পরেই তাঁরা বড় সিদ্ধান্ত নেন। আন্ধেরির বাড়ি ছেড়ে জুহুতে (Juhu) চলে যান মাধুরী ও তাঁর পরিবার। অভিনেত্রীর কথায়, এই ঘটনাই তাঁদের এলাকাবদলের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এই অভিজ্ঞতা শুধু একজন অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়, তা তারকাদের জীবনের অদৃশ্য ঝুঁকির কথাও সামনে আনে। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে যে অন্ধভক্তি কখনও কখনও বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ এই ঘটনা। বহু তারকাই বিভিন্ন সময়ে এমন অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন, তবে মাধুরীর এই অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তির জন্য। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত ছবি ‘মিসেস দেশপাণ্ডে’ (Mrs. Deshpande)। এই ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছে একজন সিরিয়াল কিলারের চরিত্রে, যা তাঁর কেরিয়ারের একেবারে ভিন্ন ধাঁচের অভিনয় বলে মনে করছেন সমালোচকরা।

বাস্তব জীবনে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলেও, পর্দায় সেই ভয়ের রূপই যেন নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী, এমনটাই মত দর্শকদের একাংশের। মাধুরীর এই সাক্ষাৎকার সামনে আসার পর ফের একবার আলোচনা শুরু হয়েছে তারকাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষ করে নবাগত বা হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা যে কতটা মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে, তা নতুন করে ভাবাচ্ছে অনেককে। বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে যে এমন অজানা আতঙ্ক লুকিয়ে থাকে, মাধুরী দীক্ষিতের অভিজ্ঞতা তারই এক বাস্তব দলিল।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Madhuri Dixit Ajay Jadeja love story, Bollywood cricket affair | রাজবংশের বউ হতে পারতেন মাধুরী, এক ভুলে ভেঙে গেল প্রেম! অজয় জাডেজার জীবনের সেই অজানা চ্যাপ্টার




