প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, মুম্বাই: রাজকীয় জীবন, রুপালি পর্দার প্রেম আর এক বিতর্ক, এই তিনে মিলেই গড়ে উঠেছিল এক সময়ের বলিউড ও ক্রিকেট দুনিয়ার সবচেয়ে আলোচিত প্রেমকাহিনি। তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের রাজবংশীয় বংশধর, নবনগরের মহারাজ শত্রুশল্য শিনজির উত্তরসূরি অজয় জাডেজা (Ajay Jadeja)। আর তিনি ছিলেন বলিউডের ধক ধক গার্ল, মাধুরী দীক্ষিত (Madhuri Dixit)। দু’জনের সম্পর্ক যেন সিনেমার মতোই রোমান্স, গ্ল্যামার, নাটক, আর এক আকস্মিক পতন।
অজয় জাডেজা, নবনগর রাজপরিবারের একজন সদস্য, যাঁদের ঐতিহ্য ও সম্পত্তির পরিমাণ আজও চমকে দেয়। নবনগরের মহারাজ শত্রুশল্য শিনজি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে রাজপরিবারের প্রায় ১৪৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি পাবেন অজয়। এই অঙ্ক ভারতের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মোট সম্পদের থেকেও বেশি। রাজরক্তে জন্ম নেওয়া অজয় শুধু মাঠেই নয়, ব্যক্তিজীবনেও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাধুরী-অজয়ের সম্পর্ক শুরু হয় ফটোশুটের মাধ্যমে। সেই প্রথম দেখাতেই বলিউডের এই সুন্দরী অভিনেত্রীর প্রেমে পড়ে যান নবনগরের রাজপুত্র। মাধুরীর হাসি, অভিজাত আভা আর পর্দার উজ্জ্বলতা যেন অজয়ের জীবনের মন্ত্র হয়ে উঠেছিল।
সেসময় বলিউডে মাধুরীর নাম জড়িয়েছিল অনিল কাপুর (Anil Kapoor) ও সঞ্জয় দত্তের (Sanjay Dutt) -এর সঙ্গে, কিন্তু অজয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল ভিন্ন স্বাদের রোমাঞ্চকর ও বাস্তব। বাইশগজের রাজা আর রুপালি পর্দার রানির প্রেম যেন এক সোনালি যুগের সূচনা করেছিল। এক সাক্ষাৎকারে অজয় বলেছিলেন, “মাধুরী শুধু সুন্দরী নয়, ওর মধ্যে একরকম শান্তি আছে। ওর চোখের দিকে তাকালে সময় থেমে যায়।” মাধুরীর কাছের এক বন্ধু তখন বলেছিলেন, “অজয় মাধুরীর জন্য আক্ষরিক অর্থেই বলিউডে কেরিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন। মাধুরীও চেয়েছিলেন ওর পাশে থাকতে।”

তবে সেই স্বপ্নময় সম্পর্কের সমাপ্তি হয় এক কুখ্যাত অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে। ১৯৯৯ সাল। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এক কালো বছর। আচমকা অজয় জাডেজার নাম জড়িয়ে যায় ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে (Match Fixing Scandal)। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিনের (Mohammad Azharuddin) সঙ্গে একসঙ্গে অভিযুক্ত হন তিনিও। দেশজুড়ে শুরু হয় ক্ষোভ, অজয়ের বিরুদ্ধে ওঠে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাসিত করে। এই ঘটনার পর মাধুরীর সঙ্গে সম্পর্কেও পড়ে ছায়া। শোনা যায়, মাধুরী তখন ভয় পান যে এই বিতর্ক তাঁর বলিউড কেরিয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে। ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হয় তাঁদের মধ্যে। একসময় দু’জনের সম্পর্ক ভেঙে যায়।ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, “মাধুরী নিজে কখনও চেয়েছিলেন না সম্পর্কটা প্রকাশ্যে আসুক। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, প্রেমের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় নিজের সম্মান আর ভবিষ্যৎ।”
অজয়ের জন্য সময়টা ছিল কঠিন। কেরিয়ার হারানোর পাশাপাশি তিনি হারান জীবনের ভালবাসাকেও। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি আবার ঘুরে দাঁড়ান। রাজপরিবারের অংশ হিসেবে ব্যবসা ও সমাজসেবায় যুক্ত হন। এবং অবশেষে বিয়ে করেন তাঁর ছোটবেলার বন্ধু অদিতি জেটলিকে (Aditi Jaitly), যিনি রাজনীতিবিদ জয়া জেটলি (Jaya Jaitly) ও অশোক জেটলির (Ashok Jaitly) কন্যা। অন্যদিকে, মাধুরী দীক্ষিতের জীবনও এগিয়ে যায় নিজের গতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক শ্রীরাম নেনেকে (Dr. Shriram Nene) বিয়ে করে স্থায়ী হন বিদেশে। এখন তিনি বলিউডে মাঝে মধ্যেই ফিরে আসেন নাচ ও বিচারকের ভূমিকায়। যদিও মাধুরী ও অজয়ের সম্পর্ক অতীত, তবু বলিউড ও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আজও থেকে গেছে সেই গল্পের রোমান্স আর ট্র্যাজেডির ছোঁয়া। কেউ কেউ বলেন, “যদি ফিক্সিং কেলেঙ্কারি না ঘটত, মাধুরী আজ নবনগরের রাজবধূ হতে পারতেন।”
অজয় জাডেজা এখনও সেই অতীতের কথা খুব একটা বলতে চান না। তবে একবার তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, “কখনও কখনও জীবনের একটা ভুলই ঠিক করে দেয়, কে পাশে থাকবে আর কে থাকবে না।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দু’জনের পথ আলাদা হলেও, তাঁদের গল্প আজও ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতির এক চিরন্তন চ্যাপ্টার, যেখানে প্রেম, খ্যাতি আর বিতর্ক একসঙ্গে গেঁথে গিয়েছে সময়ের সুতোর মতো।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Madhuri Dixit Interview | সবসময় ব্যাগে স্বামীর ছবি রাখেন মাধুরী দীক্ষিত, জানালেন ব্যস্ত জীবনের গোপন রহস্য




