দেবব্রত সরকার, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করে তুলতে কেন্দ্র যে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য উঠে এল সংসদের। সোমবার রাতে রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) একটি ফেসবুক পোস্টে জানান, রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্নের উত্তরে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানান যে ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’ -এর আওতায় পশ্চিমবঙ্গের মোট ১০১টি রেলস্টেশন আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মোট ১,৩৩৭টি স্টেশন, যার মধ্যে বাংলার অংশ যে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তা সংসদের নথিতেই উঠে এসেছে।
রেলমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র স্টেশন ভবনের সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়, বরং যাত্রী পরিষেবার সামগ্রিক মানোন্নয়ন। আধুনিক স্টেশন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি উন্নতমানের অপেক্ষা কক্ষ, পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচালয়, পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, লিফট ও এস্কেলেটর, আধুনিক ফুট ওভার-ব্রীজ এবং পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মাল্টি-মোডাল কানেক্টিভিটি অর্থাৎ বাস, মেট্রো, অটো বা অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে স্টেশনগুলির সহজ সংযোগ নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, সংসদে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে এই উন্নয়ন প্রকল্পে দিব্যাঙ্গন-বান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য র্যাম্প, স্পর্শযোগ্য টাইলস, ব্রেল সাইনেজ এবং সহজে চলাচলের উপযোগী প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল যাত্রী তথ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রেনের আগমন-প্রস্থান, প্ল্যাটফর্ম নম্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আরও সহজে পাওয়া যাবে। রেলমন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে এই স্টেশন উন্নয়ন যাত্রী পরিষেবায় বড় পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল, শিলিগুড়ি-নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) সহ উত্তরবঙ্গের স্টেশনগুলি এবং রাজ্যের একাধিক বাণিজ্যিক ও পর্যটন জেলায় এই প্রকল্পের প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে কর্মরত শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, পর্যটক ও নিত্যযাত্রী সবাই এর সুফল পাবেন বলে দাবি রেলমন্ত্রকের।
সংসদে দেওয়া তথ্যে আরও উল্লেখ যে, ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’ -এর কাজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে স্টেশনগুলির উন্নয়ন করা হবে, যাতে ট্রেন চলাচল ও যাত্রী পরিষেবায় অযথা বিঘ্ন না ঘটে। রেল আধিকারিকদের একাংশের মতে, আধুনিক পরিকাঠামোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হবে। সিসিটিভি নজরদারি, উন্নত আলো ব্যবস্থা এবং প্ল্যাটফর্মের পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উন্নত স্টেশন মানেই পর্যটনের প্রসার, বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে শিলিগুড়ি- NJP রুটকে রাজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে ধরা হয়। সেখানে স্টেশন পরিকাঠামো উন্নত হলে পাহাড়ি পর্যটন, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।ভরেলমন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’ একটি দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে দেশের রেলস্টেশনগুলিকে আধুনিক শহুরে কেন্দ্রের মতো করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন রেখে স্টেশনগুলির নকশা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় সংস্কৃতি ও স্থাপত্যের ছাপও বজায় থাকে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও স্থানীয় ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে স্টেশন উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) তাঁর পোস্টে এই উদ্যোগকে বাংলার রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের এই প্রকল্প রাজ্যের সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির তরফে এই উন্নয়নের বাস্তবায়ন নিয়ে নজরদারির দাবি উঠতে পারে বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর আওতায় পশ্চিমবঙ্গের ১০১টি রেলস্টেশনের আধুনিকীকরণ রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। যাত্রী পরিষেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে আগামী দিনে বাংলার রেলযাত্রার অভিজ্ঞতা যে অনেকটাই বদলে যাবে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samik Bhattacharya, Rajya Sabha debate on heritage | আদিনাথ মন্দির নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক: মালদার ঐতিহ্য রক্ষায় জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের



