Child Murder Due to Extra Marital Affair | যে চোখে ধরা পড়েছিল অপরাধ, সেই চোখ চিরতরে বন্ধ! শিশুহত্যায় দোষী সাব্যস্ত মা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গোয়ালিয়র : পরকীয়া দেখে ফেলেছিল পাঁচ বছরের নিষ্পাপ সন্তান, সেই ভয় থেকেই নিজের ছেলেকেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন মা। প্রায় তিন বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের (Gwalior) একটি আদালত সেই মাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল। এই নৃশংস ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে মানবিক মূল্যবোধ, একই সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে বিশ্বাসঘাতকতা, অপরাধবোধ এবং ভয়ংকর মানসিক বিপর্যয়ের দিকটি।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi : সিঙ্গুর থেকে হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর: ‘আইনশৃঙ্খলা ঠিক না হলে বিনিয়োগ নয়’, তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান

সূত্রের খবর, দোষী সাব্যস্ত ওই মহিলার নাম জ্যোতি রাঠৌর (Jyoti Rathore)। তিনি মধ্যপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল ধ্যানচাঁদ রাঠৌরের (Dhyan Chand Rathore) স্ত্রী। ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল গ্বালিয়রের একটি আবাসনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, তদন্ত যত এগিয়েছে ততই প্রকাশ্যে এসেছে একের পর এক ভয়াবহ তথ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, জ্যোতি রাঠৌরের সঙ্গে তাঁরই পাড়ার একজন যুবকের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। স্বামী ধ্যানচাঁদ কর্মসূত্রে ব্যস্ত থাকায় এই সম্পর্ক দীর্ঘদিন গোপনেই চলছিল। কিন্তু এক দিন আচমকাই সবকিছু বদলে যায়। পাঁচ বছরের ছেলে যতীন রাঠৌর (Jatin Rathore) মাকে প্রতিবেশী ওই যুবকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। শিশুমন যা দেখে, তা লুকিয়ে রাখবে, এই ভরসা করতে পারেননি জ্যোতি।তদন্তকারীদের দাবি, ওই মুহূর্ত থেকেই জ্যোতির মনে ভয় কাজ করতে শুরু করে। তাঁর আশঙ্কা ছিল, যতীন বাবাকে সব বলে দেবে। সেই ভয় থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম দেখে এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। অভিযোগ, ঘটনার দিন জ্যোতি তাঁর ছেলেকে দোতলার ছাদে নিয়ে যান। সেখানে সুযোগ বুঝে শিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় যতীনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা প্রাণ বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ২৪ ঘণ্টা পর মৃত্যু হয় ওই শিশুর।

প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলেই চালানোর চেষ্টা করা হয়। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল, খেলতে খেলতে ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিল যতীন। পুলিশও প্রাথমিক ভাবে অস্বাভাবিক কিছু পায়নি। কিন্তু ঘটনার কয়েক দিন পর থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে ধ্যানচাঁদ রাঠৌরের মনে। ছেলের মৃত্যুর পরিস্থিতি, স্ত্রীর আচরণ, সব কিছু মিলিয়ে, তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন পর ভেঙে পড়েন জ্যোতি। স্বামীর কাছে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। এরপরই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ধ্যানচাঁদ রাঠৌর। পুলিশ নতুন করে তদন্ত শুরু করে এবং জ্যোতিকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে ওই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে একজন প্রতিবেশী যুবককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে আদালতে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় পরে তাঁকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

এই মামলার শুনানি চলে আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে। প্রসিকিউশনের তরফে আদালতে জানানো হয়, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন। শিশুর মৃত্যু ঠেকাতে অভিযুক্ত মা কোনও চেষ্টা করেননি, বরং নিজের গোপন সম্পর্ক বাঁচাতেই সন্তানকে বলি দিয়েছেন। আদালতে অভিযুক্ত জ্যোতির স্বীকারোক্তিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।রায় ঘোষণার সময় বিচারক মন্তব্য করেন, ‘এটি শুধু একটি খুনের মামলা নয়, এটি মাতৃত্বের বিশ্বাস ভাঙার ঘটনা। যে সন্তান জন্ম দিয়েছে, তাকেই পরকীয়ার ভয় থেকে হত্যা করা সমাজের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।’ আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের অপরাধ অত্যন্ত গুরুতর এবং তার কোনও লঘুকরণ সম্ভব নয়। তাই তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে নীরবতা নেমে আসে। ধ্যানচাঁদ রাঠৌর কোনও মন্তব্য না করলেও তাঁর চোখে মুখে ছিল গভীর যন্ত্রণার ছাপ। এক দিকে সন্তানহারা বাবা, অন্য দিকে স্ত্রীকে আজীবনের জন্য কারাগারে পাঠানোর বাস্তবতা, দুইয়ের ভারই তাঁকে যেন বহন করতে হচ্ছে।
এই ঘটনা নতুন করে সমাজে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পরকীয়া, পারিবারিক টানাপড়েন কিংবা মানসিক চাপ, কোনও কিছুরই অজুহাত কী একটি শিশুর প্রাণ কেড়ে নেওয়া হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় সমাজকে কড়া বার্তা দিল যে, অপরাধ যতই ব্যক্তিগত হোক না কেন, তার শাস্তি এড়ানো সম্ভব নয়। উল্লেখ্য যে, গোয়ালিয়রের এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, বরং মানবিকতার চরম বিপর্যয়ের দলিল হয়ে রইল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajasthan mobile ban, camera phone ban for women | প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল নিষিদ্ধ! রাজস্থানের গ্রাম পঞ্চায়েতের ফরমান ঘিরে তীব্র বিতর্ক

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন