সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের কৃষি ও আর্থিক প্রশাসনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বার্ষিক সার ভর্তুকিকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হল ২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকেই। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সূচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং রসায়ন ও সার মন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (Jagat Prakash Nadda)। দিল্লির কর্তব্য ভবন (Kartavya Bhavan) থেকে এই কর্মসূচির সূচনায় তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল সাবসিডি বিকশিত ভারতের পথে এক অত্যন্ত বড় পদক্ষেপ’। জে. পি. নাড্ডা (J. P. Nadda) তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর (Narendra Modi) ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ ও ‘বিকশিত ভারত’ ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সার দফতরের এই উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা নেবে। তাঁর কথায়, ‘পুরো ইকোসিস্টেম ডিজিটাল হয়ে গেলে শুধু দফতরের কাজের গতি বাড়বে না, বরং সার সংস্থাগুলি ও তাদের মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন’। দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্র, বিল জমা ও অনুমোদনের জটিলতায় যে বিলম্ব হতো, এই ব্যবস্থায় তা কার্যত অতীতের বিষয় হয়ে যাবে বলেই মত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত সরকারের সার দফতর (Department of Fertilizers) তাদের সঙ্গে যুক্ত সব পিএসইউ, সমবায় সংস্থা ও বেসরকারি কোম্পানির আর্থিক লেনদেনকে একত্রিত করেছে। ইন্টিগ্রেটেড ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা আইএফএমএস-কে (Integrated Financial Management System- iFMS) অর্থ মন্ত্রকের পাবলিক ফিনান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Public Financial Management System- PFMS) -এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সার ভর্তুকির প্রতিটি লেনদেন এখন একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নজরদারির আওতায় আসবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সচিব রজত কুমার মিশ্র (Rajat Kumar Mishra) বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র কাগজের বিল তুলে দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সার শিল্পের জন্য এটি একটি নতুন গতি তৈরি করবে’। তাঁর ব্যাখ্যায়, নতুন বিলিং ব্যবস্থায় এমন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য তৈরির পুরো প্রক্রিয়া একটি প্ল্যাটফর্মেই দেখা যাবে। এর ফলে উৎপাদন, পরিবহণ ও বিক্রির প্রতিটি ধাপ যে কোনও স্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
মুখ্য হিসাব নিয়ন্ত্রক সন্তোষ কুমার (Santosh Kumar) জানান, iFMS ও PFMS -এর মধ্যে এই বিশেষ প্রযুক্তিগত সংযোগ একটি বড় সাফল্য। তাঁর কথায়, ‘এই পরিবর্তনের পর সার দফতরের সমস্ত আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ ডিজিটাল হয়ে যাবে। ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা যে কোনও সময় রিয়েল-টাইমে নজরদারি করতে পারবেন’। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
যুগ্ম সচিব (F&A) মনোজ শেঠী (Manoj Sethi) জানান, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার ফলে ভর্তুকি বিল পরিশোধে যে দীর্ঘসূত্রিতা ছিল, তা কার্যত দূর হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ‘সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ভর্তুকির অর্থ সময়মতো ছাড় করা সম্ভব হবে’। ‘ই-বিল’ (e-Bill) পোর্টালের মাধ্যমে সার সংস্থাগুলি এখন অনলাইনে দাবি জমা দিতে পারবে এবং রিয়েল-টাইমে তাদের পেমেন্টের অবস্থা জানতে পারবে। এর ফলে সরকারি দফতরে দফায় দফায় যেতে হবে না, কমবে কাগজপত্রের ঝক্কিও। এই ডিজিটাল রূপান্তর কৃষকদের জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভর্তুকির অর্থ সময়মতো সার সংস্থার হাতে পৌঁছলে বাজারে সারের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে। কৃষকরা প্রয়োজনের সময়ে সার পেতে সমস্যায় পড়বেন না, পাশাপাশি কালোবাজারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির সম্ভাবনাও কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব অনিতা সি. মেশ্রাম (Anita C. Meshram), অতিরিক্ত সচিব অপর্ণা শর্মা (Aparna Sharma), যুগ্ম সচিব কে. কে. পাঠক (K. K. Pathak), যুগ্ম সচিব অনুরাগ রোহতগি (Anurag Rohatgi), জাতীয় তথ্য বিজ্ঞান কেন্দ্রের (NIC) পরিচালক লাবুনি দাস দত্ত (Laboni Das Dutta), সিনিয়র টেকনিক্যাল ডিরেক্টর অসীম গুপ্ত (Asim Gupta), যুগ্ম পরিচালক আশুতোষ তিওয়ারি (Ashutosh Tiwari) এবং ডেভেলপার হরে কৃষ্ণ তিওয়ারি (Hare Krishna Tiwari)। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই বৃহৎ ডিজিটাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানানো হয়। নীতিনির্ধারকদের মতে, ২ লক্ষ কোটি টাকার মতো বিশাল ভর্তুকি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করা মানে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, এটি প্রশাসনিক সংস্কারেরও এক বড় উদাহরণ। স্বচ্ছতা, গতি ও দক্ষতার এই সমন্বয় ভবিষ্যতে অন্যান্য ভর্তুকি ও সরকারি লেনদেন ক্ষেত্রেও অনুসরণীয় মডেল হয়ে উঠতে পারে। জে. পি. নাড্ডা-এর (J. P. Nadda) কথায়, ‘ডিজিটাল ব্যবস্থাই আগামী দিনের ভারতকে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর করে তুলবে’। উল্লেখ্য, সার ভর্তুকির সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কৃষকবান্ধব করে তুলবে, এমনটাই আশা কেন্দ্রীয় সরকারের। এই পদক্ষেপ ‘বিকশিত ভারত’-এর পথে এক দৃঢ় অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Narendra Modi receives Order of Oman | ভারত-ওমান সম্পর্ক : সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠকের পর ‘অর্ডার অফ ওমান’ সম্মানে ভূষিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




