সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভারত ও ওমানের (India-Oman Relations) কূটনৈতিক সম্পর্কে বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল আন্তর্জাতিক মহল। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বৃহস্পতিবার ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের (Sultan Haitham bin Tarik) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সদ্য স্বাক্ষরিত ভারত-ওমান সমগ্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বা Comprehensive Economic Partnership Agreement (CEPA) -এর পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি একাধিক কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।PMO-র পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়, বৈঠকে মূলত বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শক্তি, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং যুব বিনিময় কর্মসূচীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উঠে আসে। ভারত ও ওমানের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক (people-to-people connect) আরও গভীর করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভবিষ্যতের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই কূটনৈতিক সফরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ওমানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অফ ওমান (ফার্স্ট ক্লাস)’ প্রদান করা হয়। এই সম্মান পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, ‘অর্ডার অফ ওমান (ফার্স্ট ক্লাস) সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত। মহামান্য সুলতান হাইথাম বিন তারিক, ওমান সরকার এবং ওমানের জনগণের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। এই সম্মান ভারত ও ওমানের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ভালবাসার প্রতীক।’ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে দুই দেশের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা। তিনি উল্লেখ করেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারত ও ওমানের মানুষ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। প্রাচীনকাল থেকেই সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আরব সাগর (Arabian Sea) দুই জাতির মধ্যে এক দৃঢ় সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে তিনি বলে মন্তব্য করেন। নরেন্দ্র মোদী তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ‘আমি এই সম্মান ভারতের জনগণকে উৎসর্গ করছি। একই সঙ্গে আমি এই সম্মান উৎসর্গ করছি আমাদের সেই পূর্বপুরুষদের, যাঁরা মান্ডভি (Mandvi) থেকে মাস্কাট (Muscat) পর্যন্ত সমুদ্রপথে যাত্রা করে ভারত-ওমান সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন।’ তাঁর কথায়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে যে নাবিক ও সমুদ্রযাত্রীরা বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের অগ্রগতিতে অবদান রেখেছেন, এই সম্মান তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধার নিদর্শন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সম্মান কেবল ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন যেমন তেমনি ভারত-ওমান সম্পর্কের গভীরতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার স্বীকৃতি। বিশেষ করে CEPA স্বাক্ষরের পর এই সম্মান দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও ওমানের মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ হবে, শুল্ক কাঠামো সরলীকরণ হবে এবং নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলবে।
আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করার ক্ষেত্রে ওমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার। শক্তি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। যুব বিনিময় এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় হবে বলেও মত তাঁদের। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফর এবং সম্মান আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের কূটনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত যে কেবল অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেই নয়, বরং একটি বিশ্বাসযোগ্য বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে, এই ঘটনাকে তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য যে, সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠক, CEPA-র বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা এবং ‘অর্ডার অফ ওমান’ সম্মান- এই তিনটি বিষয় মিলিয়ে ভারত-ওমান সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। আগামী দিনে এই সম্পর্ক কেবল কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও কীভাবে দুই দেশের জনগণের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর সবার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Delhi Airport Fog, Flight Cancellations | ঘন কুয়াশায় স্তব্ধ দিল্লি বিমানবন্দর, বাতিল ৬০-এর বেশি উড়ান, দেরিতে ২৫০-এরও বেশি ফ্লাইট



