সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দিল্লির আকাশে ঘন কুয়াশা ফের একবার বড়সড় প্রভাব ফেলল বিমান চলাচলে। দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Indira Gandhi International Airport)-এ সোমবার সকাল থেকেই চরম বিপর্যয়ের ছবি সামনে এসেছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) -এর খবর অনুযায়ী, খারাপ দৃশ্যমানতার জেরে ৬০টিরও বেশি বিমান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিমান সংস্থাগুলি। পাশাপাশি অন্তত পাঁচটি বিমান অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২৫০টিরও বেশি উড়ান নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে চলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় ঘন কুয়াশার দাপট দেখা যায়। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা এতটাই কমে যায় যে, অনেক ক্ষেত্রেই রানওয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও এয়ারলাইন সংস্থাগুলিকে। দিল্লি বিমানবন্দরের অপারেটর ডায়াল (DIAL – Delhi International Airport Limited) সকাল ১০টার কিছু পরে এক্স (X, আগের টুইটার)-এ পোস্ট করে জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে এখনও ফ্লাইট অপারেশন প্রভাবিত হচ্ছে।
ডায়ালের তরফে জানানো হয়, ‘আমাদের অন-গ্রাউন্ড আধিকারিকরা সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। যাত্রীদের সহায়তা করা এবং টার্মিনাল জুড়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়াই এখন আমাদের অগ্রাধিকার।’ বিমানবন্দর সূত্রে আরও বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে পর্যন্ত মোট ৬১টি উড়ান বাতিল হয়েছে এবং পাঁচটি বিমান অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫০টিরও বেশি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে চলেছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। সকাল থেকে টার্মিনালগুলিতে দীর্ঘ লাইন, অপেক্ষার ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তার ছবি চোখে পড়েছে। অনেক যাত্রীই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। কারও ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, কারও আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বোর্ডিংয়ের জন্য। যদিও ডায়ালের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঘন কুয়াশার প্রভাব শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নয়। উত্তর ভারতের একাধিক বিমানবন্দরেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo) -এর তরফে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ন্যূনতম সীমারও নিচে নেমে গিয়েছে। এর ফলে দিল্লি এবং উত্তর ভারতের অন্যান্য বিমানবন্দরে অপারেশন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে, যা দুর্ভাগ্যবশত আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’
ইন্ডিগোর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচি সামঞ্জস্য করা হচ্ছে। এর ফলে কিছু উড়ান দেরিতে চলতে পারে, আবার নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে দিনের মধ্যে কিছু ফ্লাইট আগাম বাতিলও করা হতে পারে। এতে করে বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা কমানো সম্ভব হবে বলেই মনে করছে সংস্থাটি। যদিও ইন্ডিগো তাদের কতগুলি ফ্লাইট বাতিল বা দেরিতে চলেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। বিবৃতিতে ইন্ডিগো আরও জানিয়েছে, তাদের টিম পরিস্থিতির উপর ‘নিরবচ্ছিন্ন নজর’ রাখছে এবং দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। পাশাপাশি যাত্রীদের অসুবিধা কমাতে আগাম পরামর্শ (অ্যাডভাইজ়রি) জারি করা হয়েছে এবং প্রোঅ্যাকটিভভাবে যাত্রীদের জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, দিল্লি বিমানবন্দর দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৩০০টি ফ্লাইট মুভমেন্ট হয় এখানে। ফলে সামান্য আবহাওয়ার অবনতি হলেই তার প্রভাব পড়ে দেশজুড়ে বিমান চলাচলের উপর। শীতের মরসুমে উত্তর ভারতে কুয়াশা নতুন নয়, তবে চলতি বছরে কুয়াশার ঘনত্ব ও স্থায়িত্ব বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঘন কুয়াশার সময়ে ‘লো ভিজ়িবিলিটি প্রোসিডিওর’ বা এলভিপি কার্যকর করা হয়। কিন্তু দৃশ্যমানতা যদি নির্দিষ্ট সীমার নীচে নেমে যায়, তা হলে অত্যাধুনিক যন্ত্র থাকা সত্ত্বেও উড়ান ওঠানামা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সেই কারণেই নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট বাতিল বা ঘুরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন উত্তর ভারতের বিভিন্ন অংশে সকালের দিকে কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দিল্লি বিমানবন্দরে ফের এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীদের বিমান ধরার আগে ফ্লাইটের স্ট্যাটাস দেখে নেওয়ার এবং বিমান সংস্থার জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, শীতের কুয়াশা দিল্লির আকাশে ফের একবার বড়সড় প্রভাব ফেলল। বাতিল উড়ান, দেরি এবং ভোগান্তির মধ্যে দিয়েই সোমবার শুরু করতে হল হাজার হাজার যাত্রীকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Delhi Pavilion at the India International Trade Fair (IITF)- A Vibrant Showcase of the Capital’s Skills, Innovation, Entrepreneurship, and Cultural Heritage



