Indigenous Fish Aquaculture India | দেশীয় মাছেই ভবিষ্যৎ: ভারতীয় অ্যাকোয়াকালচারে স্বনির্ভরতার পথে দেশজ প্রজাতির নতুন জাগরণ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের মৎস্য ও অ্যাকোয়াকালচার খাতে দেশীয় প্রজাতির গুরুত্ব ফের নতুন করে সামনে আসছে। দেশীয় বা আদিবাসী মাছ প্রজাতি, যাদের ‘ইন্ডিজেনাস স্পিসিজ’ (Indigenous Species) বলা হয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল ও জলজ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বিবর্তিত হয়েছে। এই প্রজাতিগুলি শুধু পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকাতেও গভীর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মৎস্য দপ্তর (Department of Fisheries India) দেশীয় মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একাধিক প্রকল্প ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভারতে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য বিপুল। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এখনও পর্যন্ত ২৮০০ -এর বেশি দেশীয় মাছ ও শামুক-ঝিনুক প্রজাতি চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ৯১৭টি প্রজাতি মিঠে জলের, ৩৯৪টি প্রজাতি খাড়িজল বা ব্র্যাকিশওয়াটারের এবং ১৫৪৮টি প্রজাতি সামুদ্রিক অঞ্চলের। প্রতিটি প্রজাতির নিজস্ব বাস্তুতান্ত্রিক ভূমিকা রয়েছে, কিছু প্রজাতি জলাশয়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখে, কিছু আবার স্থানীয় মানুষের খাদ্য ও আয়ের প্রধান উৎস। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈচিত্র্যই ভারতের মৎস্য সম্পদের আসল শক্তি।

আরও পড়ুন : Recipe Tips: Salt reduction in dry dishes, Kitchen hacks for salty food | কষা মাংস বা চিকেন পকোড়ায় নুন বেশি? সহজ ঘরোয়া কৌশলে সমস্যার নিখুঁত সমাধান

তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এত বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও দেশের মোট অ্যাকোয়াকালচার উৎপাদন এখনও কিছু নির্বাচিত প্রজাতির ওপর নির্ভরশীল। কার্প, চিংড়ি বা কয়েকটি বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় প্রজাতিই উৎপাদনের সিংহভাগ দখল করে রেখেছে। অথচ গত কয়েক দশকে ভারত ৮০টিরও বেশি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছ ও শামুক-ঝিনুকের জন্য কৃত্রিম প্রজনন ও বীজ উৎপাদন প্রযুক্তি উন্নত করেছে। তবুও মাঠপর্যায়ে সেই প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রয়োগ এবং দেশীয় প্রজাতির উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনও বড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে। এই ফাঁক পূরণ করতেই কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোগ জোরদার করেছে। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা (Pradhan Mantri Matsya Sampada Yojana- PMMSY), সদ্য চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী মৎস্য কিষান সমৃদ্ধি সহ-যোজনা (Pradhan Mantri Matsya Kisan Samridhi Sah-Yojana- PMMKSSY) এবং ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (Fisheries and Aquaculture Infrastructure Development Fund- FIDF) -এর মতো প্রকল্পগুলির মাধ্যমে দেশীয় মাছ চাষে পরিকাঠামো উন্নয়ন, মানসম্মত বীজ ও খাদ্যের জোগান এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।মৎস্য দপ্তরের একজন আধিকারিকের কথায়, ‘দেশীয় মাছ শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, অনেক ক্ষেত্রে এগুলি রোগ প্রতিরোধে বেশি সক্ষম এবং স্থানীয় জলবায়ুর সঙ্গে মানানসই। তাই দীর্ঘমেয়াদে এগুলির চাষই টেকসই অ্যাকোয়াকালচারের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।’ এই লক্ষ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে প্রশিক্ষণ শিবির, কর্মশালা এবং মাঠপর্যায়ের প্রদর্শনী আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে চাষিরা নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা কৌশল সম্পর্কে অবহিত হন।

দেশীয় প্রজাতির প্রসারে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হল মানসম্মত বীজ ও খাদ্যের অভাব। অনেক সময় স্থানীয় প্রজাতির জন্য উন্নত মানের বীজ পাওয়া যায় না, ফলে চাষিরা ঝুঁকি নিতে চান না। এই সমস্যা দূর করতে PMMSY এবং FIDF প্রকল্পের আওতায় হ্যাচারি, ব্রুডব্যাঙ্ক ও ফিড মিল স্থাপনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও দেশীয় প্রজাতির উন্নত জাত ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় মাছের প্রচার মানে শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেরও একটি বড় পদক্ষেপ। বহিরাগত প্রজাতির অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক সময় স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেখানে দেশীয় প্রজাতি পরিবেশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে নেওয়ায় এই ঝুঁকি কম। তাছাড়া বহু দেশীয় মাছ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, যা গ্রামীণ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনীতির দিক থেকেও দেশীয় প্রজাতির সম্ভাবনা কম নয়। স্থানীয় বাজারে এই মাছগুলির চাহিদা রয়েছে, আবার প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে। মৎস্য দপ্তরের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করা গেলে দেশীয় মাছ চাষ গ্রামীণ কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে।ভারতীয় অ্যাকোয়াকালচারে দেশীয় প্রজাতির উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। সরকারি প্রকল্প, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে এই খাতকে নতুন দিশা দেওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের টেকসই ও স্বনির্ভর মৎস্যখাত গড়ে তুলতে হলে দেশীয় মাছের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করার আর কোনও সুযোগ নেই।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Tibetan Soup Recipe | তিব্বতি সুপের ভাপা উষ্ণতায় সর্দি-কাশি দূরে রাখুন: ঘরেই বানিয়ে ফেলুন চটজলদি হেলদি রেসিপি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন