সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: গরমের দাপটের মাঝেই হঠাৎ আবহাওয়ার বদল। আকাশে কালো মেঘ, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া আর বজ্রবিদ্যুৎ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই দৃশ্য এখন প্রায় নিত্যদিনের। প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণবঙ্গেও কি তবে আগাম বর্ষার ইঙ্গিত মিলছে? আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই বর্ষা প্রবেশ করেছে এবং তার প্রভাব ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের অন্যান্য অংশে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) এবং আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) জেলায় আজ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), কোচবিহার (Cooch Behar), উত্তর দিনাজপুর (North Dinajpur) এবং দক্ষিণ দিনাজপুর (South Dinajpur)-এ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস। আবহাওয়ার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই এই বায়ুপ্রবাহ প্রবেশ করেছে। এর জেরে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়ছে এবং পাহাড়ি ও ডুয়ার্স অঞ্চলে জলস্তরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে।
আরও পড়ুন : Sutar debut test performance | অভিষেকেই ঝড় তুললেন সুতার! ৭ উইকেট ও ম্যাচসেরা, ঐতিহাসিক জয়ে ভারত
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। দিনের বেলায় গরম ও আর্দ্রতা অস্বস্তি বাড়াচ্ছে, আবার বিকেলের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি পরিস্থিতি কিছুটা বদলে দিচ্ছে। আবহাওয়ার এই ওঠানামা আগামী সাত দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানা গিয়েছে। কলকাতা (Kolkata) শহরেও আবহাওয়ার একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সকালে রোদ আর ভ্যাপসা গরম থাকলেও দুপুরের পর আকাশের চেহারা বদলাতে শুরু করছে। বিকেলের দিকে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে অফিস ফেরত মানুষের জন্য তৈরি হতে পারে কিছুটা ভোগান্তি।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে এখনও বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করেনি, তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। বিহার (Bihar), ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) এবং ওড়িশা (Odisha)-তেও আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে মৌসুমি বায়ু পৌঁছে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়বে দক্ষিণবঙ্গেও। ফলে খুব শীঘ্রই বর্ষার আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা। কখনও তীব্র গরম, আবার হঠাৎ ঝড়বৃষ্টি, এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে। কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে, কারণ সময়মতো বৃষ্টি না হলে ফসলের ক্ষতি হতে পারে, আবার অতিবৃষ্টি হলেও সমস্যা তৈরি হয়।
উত্তরবঙ্গে লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। পর্যটকদের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পং অঞ্চলে ভ্রমণ করার সময় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর প্রবণতা নতুন কিছু নয়, তবে এবার তার তীব্রতা কিছুটা বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। বজ্রপাতের ঘটনাও বাড়ছে, তাই খোলা জায়গায় থাকার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছ ভেঙে পড়া বা বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তন যে বর্ষার আগমনের পূর্বাভাস দিচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি, তবুও বর্তমান পরিস্থিতি দেখলে মনে হচ্ছে খুব শীঘ্রই দক্ষিণবঙ্গেও বর্ষা পা রাখতে চলেছে। পরবর্তী কয়েকদিন আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি কী থাকে, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের। আপাতত উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি আর দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির দ্বৈত ছবি রাজ্যের আবহাওয়াকে এক ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Adhir Ranjan Chowdhury statement, Mamata Banerjee Congress speculation | মমতা জল্পনায় বিস্ফোরক অধীর, কংগ্রেস-তৃণমূল সমীকরণে নতুন বিতর্ক



