সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নয়াদিল্লি: ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক তারকার উত্থান যেন চোখের সামনে প্রত্যক্ষ করল ক্রিকেট দুনিয়া। রাজস্থানের ২৩ বছরের তরুণ অলরাউন্ডার সুতার (Sutar) প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেই ম্যাচসেরা পুরস্কার জিতে নিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আফগানিস্তান (Afghanistan) -এর বিরুদ্ধে ইনিংস ও ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিল ভারত (India), যা টেস্ট ইতিহাসে দেশের অন্যতম বৃহত্তম জয় হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। অভিষেক ম্যাচেই ৬২ রান খরচ করে ৭টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে ২৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন সুতার। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে তিনি যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছেন, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, মনে হচ্ছে যেন হাওয়ায় ভাসছি।’ তাঁর কথায় উঠে আসে আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং পরিশ্রমের এক অনন্য মিশেল।
ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন এই তরুণ। প্রথম টেস্টেই এমন সাফল্য বিরল, আর সেই জায়গাতেই নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন সুতার। ম্যাচের শুরু থেকেই তাঁর পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কার। তিনি জানান, ‘প্রথম কয়েকটা বল খেলার পর বুঝেছিলাম, রান করতে পারব। তারপর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং নির্দিষ্ট লেংথে বল করার দিকে মন দিই।’ তাঁর এই কৌশলই শেষ পর্যন্ত আফগান ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেয়। বল হাতে সুতারের নিয়ন্ত্রণ ছিল চোখে পড়ার মতো। পিচের চরিত্র বুঝে তিনি লাইন ও লেংথে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘পিচটা একটু ধীরগতির ছিল, তাই উইকেট পেতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি একই জায়গায় বল করতে।’ এই মনোভাবই তাঁকে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। অভিষেক ম্যাচে প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নেওয়া তাঁর জন্য বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে সুতার বলেন, ‘ওই মুহূর্তটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।’ টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্যের গুরুত্ব নিয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তাঁর মতে, ‘লাল বলের ক্রিকেটে ধৈর্য ধরে একই জায়গায় বল করে যাওয়া খুব জরুরি।’
শুভমন গিল (Shubman Gill) -এর নেতৃত্বে ভারতীয় দল এই ম্যাচে যে আধিপত্য দেখিয়েছে, তা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিন বিভাগেই ভারত ছিল অনেক এগিয়ে। আফগানিস্তানকে কার্যত ম্যাচের কোনও পর্যায়েই লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই জয়ের ব্যবধানও নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ইনিংস ও ৩০০ রানের জয় শুধু পরিসংখ্যান নয়, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রতিফলন। ভারতীয় টেস্ট ইতিহাসে এত বড় ব্যবধানে জয় বিরল, ফলে এই ম্যাচ ইতিমধ্যেই রেকর্ডবুকে জায়গা করে নিয়েছে। সুতারের পারফরম্যান্স নিয়ে সতীর্থদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। দলের ড্রেসিংরুমে তাঁর সাফল্য উদ্যাপিত হয়েছে। তরুণ এই অলরাউন্ডার ভবিষ্যতে ভারতীয় ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সুতারের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মানসিক দৃঢ়তা। প্রথম ম্যাচেই চাপ সামলে যেভাবে পারফর্ম করেছেন, তা তাঁর দীর্ঘ পথচলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যাট হাতে অবদান এবং বল হাতে বিধ্বংসী স্পেল, দুটো মিলিয়েই তিনি হয়ে উঠেছেন দলের ভরসার জায়গা। ভারতের এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক শক্ত ভিত তৈরি করা। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের আত্মপ্রকাশ এবং সিনিয়রদের সমর্থন, এই সমন্বয়ই দলকে আরও শক্তিশালী করছে।
আগামী ম্যাচগুলিতে সুতারের উপর নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তিনি নিজেও জানিয়েছেন, ‘আমি চাই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।’ তাঁর এই মনোভাবই তাঁকে আরও বড় সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে। ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন নক্ষত্রের আবির্ভাব যেন আরও একবার প্রমাণ করল, প্রতিভার অভাব নেই। সুযোগ পেলেই তরুণরা নিজেদের মেলে ধরতে প্রস্তুত। সুতারের অভিষেক সেই ধারারই উজ্জ্বল উদাহরণ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma dream Indian cricket | ভারতকে ক্রিকেটের শীর্ষে দেখতে চান রোহিত শর্মা, মুম্বাইয়ে তরুণদের সাফল্যের মন্ত্র দিলেন



