সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আবারও তুঙ্গে উত্তাপ। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসকে ঘিরে জল্পনার আবর্তে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ, আর সেই প্রেক্ষাপটেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে শিরোনামে উঠে এলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত, বিরোধিতা এবং অবস্থানের পর হঠাৎ বদলে যাওয়া সমীকরণ নিয়ে তিনি যা বললেন, তা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কংগ্রেসের সর্বভারতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) -এর নামও জাতীয় স্তরের পদে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে কোনও দলই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি, তবুও একের পর এক বৈঠক এবং রাজনৈতিক তৎপরতা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই মুখ খুলেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। বরাবরই রাজ্যে তৃণমূল বিরোধিতার অন্যতম মুখ হিসেবে তিনি পরিচিত, তাঁর বক্তব্য ঘিরেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অধীর বলেন, ‘তৃণমূল আমার পার্টিকে খতম করতে চেয়েছে, আমি আমার পার্টিকে রক্ষা করতে চেয়েছি। মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছি।’ তাঁর এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, রাজনৈতিক সংঘাত কতটা গভীর ছিল। একই সঙ্গে তিনি এ-ও জানিয়েছেন যে এই লড়াই কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নয়। তাঁর কথায়, ‘আমার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই, কখনও ছিলও না।’ এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে কংগ্রেস বনাম তৃণমূল সংঘাত ছিল তীব্র, এবং সেই সংঘাতে অধীর ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘এখন কে কার কাছে আসছে যাচ্ছে সেটা তাঁরা জানে। তবে এটা তো সত্যি যে মমতা ভোটে হেরেছে বলেই আসছে। আগে তো কোনওদিন আসেনি।’ এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে তৃণমূল এবং কংগ্রেস উভয় শিবিরকেই আক্রমণ করতে শুরু করেছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মুহূর্তে তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙনের ছবি সামনে এসেছে, তা রাজ্যের ক্ষমতার সমীকরণকে নাড়িয়ে দিয়েছে। একাধিক বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন, দলের ভিতরে নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও রাজ্যে নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনের পথ খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরে ভূমিকা দেওয়ার প্রস্তাবকে অনেকেই বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি, তবুও একাধিক বৈঠক এবং আলোচনার খবর রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) এ-ও জানিয়েছেন যে, দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিছু জানেন না। তাঁর বক্তব্য, ‘কংগ্রেস যদি কোনও বড় সিদ্ধান্ত নেয়, তা সময়মতো জানানো হবে।’ এই মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বর্তমানে যা চলছে, তা মূলত জল্পনার স্তরেই রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যে যে রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। দীর্ঘদিনের বিরোধিতা এবং রাজনৈতিক অবস্থানের পর হঠাৎ সম্ভাব্য সমঝোতা এই পরিবর্তন সহজে গ্রহণ করতে পারছেন না অনেকেই। বিশেষ করে কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের নেতৃত্বের মধ্যে এই নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। যদি তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে কোনও ধরনের সমঝোতা বাস্তবে রূপ নেয়, তা হলে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। আবার অন্যদিকে, যদি এই আলোচনা ভেস্তে যায়, তা হলে উভয় দলের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তৃণমূলের ভাঙন, কংগ্রেসের সম্ভাব্য কৌশল পরিবর্তন এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব, পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উল্লেখ্য, এখন নজর রয়েছে আগামী কয়েকটি দিনের উপর। রাজনৈতিক মহল অপেক্ষা করছে, এই জল্পনা বাস্তবে পরিণত হয় কি না, এবং হলে তার প্রভাব কতটা গভীর হয়। আপাতত একটাই বিষয় পরিষ্কার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে কংগ্রেস-তৃণমূল সমীকরণ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Congress proposal, Rahul Gandhi Mamata controversy | ‘এপ্রিলে আক্রমণ, জুনে আমন্ত্রণ’! মমতা নিয়ে কংগ্রেসের ভোলবদল ঘিরে তুঙ্গে রাজনীতি, দ্বিচারিতার অভিযোগে সরগরম বঙ্গ




