সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের শাসনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সময়ানুবর্তী করে তুলতে ‘প্রগতি’ (PRAGATI- Pro-Active Governance and Timely Implementation) ব্যবস্থার ভূমিকা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ফের একবার স্পষ্ট করল কেন্দ্রীয় প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) -এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রগতি বৈঠকগুলির ফলাফল নিয়ে মিডিয়াকে বিস্তারিত তথ্য দেন ক্যাবিনেট সচিব (Cabinet Secretary) এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবরা। ‘প্রগতি @৫০’ শীর্ষক এই পর্যালোচনায় তুলে ধরা হয়, কীভাবে সক্রিয় কর্মপদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে শাসনব্যবস্থাকে একটি স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ক্যাবিনেট সচিব জানান, প্রগতি-ভিত্তিক ইকোসিস্টেমে একটি সুসংগঠিত প্রকল্প ও ইস্যু এসকেলেশন মেকানিজম কার্যকর রয়েছে। এই কাঠামোর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, রাজ্য সরকার এবং বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনের মধ্যে ওঠা সমস্যাগুলিকে ধারাবাহিকভাবে চিহ্নিত করা হয়, নজরদারিতে রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমাধানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর কথায়, ‘এই পদ্ধতি কেবল রিপোর্টিং নয়, বরং সমস্যা সমাধানের একটি কার্যকর শৃঙ্খলা তৈরি করেছে।’ ক্যাবিনেট সচিব আরও ব্যাখ্যা করেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যাগুলির নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রক স্তরেই করা হয়। কিন্তু যেসব বিষয় জটিল, বহু দফতরের সঙ্গে যুক্ত বা জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন, সেগুলিকে নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে উচ্চতর স্তরে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলির পর্যালোচনা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাপতিত্বে প্রগতি বৈঠকে। এই ধাপে ধাপে এগোনো কাঠামো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ও গতি, দুই-ই নিশ্চিত করেছে বলে তিনি জানান।
প্রগতি ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয়। ক্যাবিনেট সচিবের মতে, ‘একটি বড় প্রকল্পে প্রায়শই একাধিক মন্ত্রক ও রাজ্যের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। প্রগতি সেই সমন্বয়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।’ এর ফলে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় না এবং বাস্তবায়নের পথে যে জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, তা দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে। জাতীয় মহাসড়ক, রেল, বিদ্যুৎ, জলসম্পদ, নগর উন্নয়ন কিংবা শিল্প পরিকাঠামো, প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই ব্যবস্থার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। মিডিয়াকে দেওয়া একটি ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে বলা হয়, ‘প্রগতি’ বৈঠক-নির্ভর প্রক্রিয়া নয়, তা প্রযুক্তিনির্ভর শাসন মডেল। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়মিত আপডেট হয়, ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে নজরদারি করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করেছে। ক্যাবিনেট সচিব উল্লেখ করেন, প্রগতি বৈঠকে প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি খুঁটিয়ে দেখা হয় এবং সময়সীমা মানা হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর ফলে দফতরগুলির মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘যখন সর্বোচ্চ স্তরে নিয়মিত পর্যালোচনা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সবাই দায়িত্বশীল থাকে।’ এই ধারাবাহিক নজরদারি প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
প্রগতি @৫০ উপলক্ষ্যে আধিকারিকরা আরও জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু নতুন প্রকল্প নয়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বহু প্রকল্পও গতি পেয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত ছাড়পত্র, আন্তঃরাজ্য সমন্বয়, এই ধরনের জটিল ইস্যুগুলি প্রগতি কাঠামোর আওতায় এনে সমাধানের পথ বের করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের শাসনব্যবস্থায় একটি মৌলিক সংস্কার, যেখানে সমস্যা লুকিয়ে রাখার প্রবণতার বদলে তা প্রকাশ্যে এনে সমাধানের দিকে এগোনো হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর (Narendra Modi) নেতৃত্বে প্রগতি যে একটি কার্যকর প্রশাসনিক মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এই ব্রিফিংয়ে বারবার উঠে এসেছে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নজরদারি এবং সময় মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা এই ব্যবস্থাকে প্রাণবন্ত করে রেখেছে। তাঁর সভাপতিত্বে হওয়া বৈঠকগুলিতে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিক সংশোধনী নির্দেশও দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নীতিনির্ধারক মহলের মতে, ‘প্রগতি’ ভারতের শাসন কাঠামোকে আরও ফলপ্রসূ করেছে। এটি কেবল কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজ্য সরকারগুলিকেও এই প্রক্রিয়ার অংশীদার করেছে। ফলে সমগ্র দেশজুড়ে একটি সমন্বিত ও সময়ানুবর্তী প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। তবে, প্রগতি @৫০ উপলক্ষ্যে যে চিত্র উঠে এল, তা বলছে, সক্রিয় শাসন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং সর্বোচ্চ স্তরের জবাবদিহির সমন্বয়ই আধুনিক প্রশাসনের মূল চাবিকাঠি। এই মডেল আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হয়ে ভারতের উন্নয়নযাত্রাকে নতুন গতি দেবে বলেই আশাবাদী প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mukhyamantri Mahila Udyamita Abhiyan, Himanta Biswa Sarma | বজালীতে নারীর ক্ষমতায়নের নতুন অধ্যায়, ২৮ হাজারের বেশি উপভোক্তাকে চেক প্রদান শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা




