IndiGo flight crisis | ইন্ডিগো বিপর্যয়ে স্তব্ধ দেশের আকাশপথ: হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগে প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রও

SHARE:

বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু (Ram Mohan Naidu) ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তিন দিন ধরে দেশের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থার পরিষেবা ভেঙে পড়লেও কেন এত দেরিতে কেন্দ্র ব্যবস্থা নিল? নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ইন্ডিগোকে আগে থেকেই চাপ দিতে পারত কেন্দ্র। অনেকের মত, ইন্ডিগোর ‘চাপের কৌশল’-এ কি সরকার নতি স্বীকার করল?

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশের আকাশপথে সাম্প্রতিক সময়ে এমন চিত্র সম্ভবত খুব কমই দেখা গিয়েছে, ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা, কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই, নেই খাবার, পানীয়, আর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল। দেশজুড়ে বিমান পরিষেবার সবচেয়ে বড় সংস্থা ইন্ডিগো (IndiGo Airlines) পরপর তিন দিন ধরে কার্যত বিপর্যস্ত। শুক্রবার এক দিনেই ৬০০ -এরও বেশি উড়িয়ে দেওয়ার কথা বাতিল করতে হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বাতিল হয়েছিল প্রায় ৫৫০টি উড়ান। ফলে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হাজারে হাজারে যাত্রী অসহনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন।

দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, ব্যাঙ্গালোর, প্রায় সব ব্যস্ত বিমানবন্দরে একই চিত্র। যাত্রীদের অভিযোগ, ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ সময়মতো কোনও তথ্য দিচ্ছে না। এক যাত্রী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি, কেউ জানায় না উড়ান আদৌ ছাড়বে কি না। খাবার-পানীয়ও ঠিকমতো দেওয়া হয়নি।” অনেকেই জানান, তাঁরা বাচ্চা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কংক্রিটের মেঝেতে বসে অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন : Bengal Election 2026, PM Modi Bengal Strategy | ‘বাংলা জিততেই হবে’ : দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের স্পষ্ট টার্গেট ঠিক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

অন্য দিকে, এই সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে অন্য এয়ারলাইন্সগুলোর টিকিটের দাম আচমকা বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ দাবি করেছেন, সাধারণ ৪-৫ হাজার টাকার টিকিট বেড়ে মুহূর্তে ১৫-২০ হাজার হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ইন্ডিগো যে তালগোল পাকিয়েছে তার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দেশের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (Directorate General of Civil Aviation)-এর নতুন নির্দেশিকা। ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ (Flight Duty Time Limitations) নামে এই নিয়মে বলা হয়েছ-

* পাইলট ও ক্রু সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক বিশ্রাম দিতে হবে
* একজন পাইলট সপ্তাহে মাত্র দু’টি নাইট ল্যান্ডিং পরিচালনা করতে পারবেন (আগে ছয়টি ছিল)
* টানা দু’দিন নাইট ডিউটি সপ্তাহে একবারের বেশি নয়।

যদিও বিধিগুলো ২০২৪ সালের জানুয়ারিতেই ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু বিভিন্ন বিমান সংস্থার অনুরোধে কার্যকর করা হয়নি। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) সম্প্রতি ডিজিসিএ-কে দ্রুত বিধি চালুর নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি বদলায়। ধাপে ধাপে জুন এবং নভেম্বর মাসে নিয়ম কার্যকর হয়।

ইন্ডিগো ভারতের সবচেয়ে বড় ‘লো-কস্ট’ এয়ারলাইন্স। দেশের ৯০টি এবং বিদেশের ৪৫টি রুটে তাদের প্রতিদিনের বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট চলে। এর মধ্যে একটি বড় অংশই রাতের ফ্লাইট। নতুন বিধি কার্যকর হওয়ায় হঠাৎ করেই পাইলট এবং বিমানকর্মীর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কমে যায়। ইন্ডিগো স্বীকার করেছে যে তাদের বর্তমানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পাইলট নেই। ফলে নিয়ম মানতে গিয়ে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা ছাড়া উপায় ছিল না।

পাইলট সংগঠন ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস’ (Federation of Indian Pilots) দাবি করেছে, ইন্ডিগো অনেক আগেই জানতে পেরেছিল যে বিধি কার্যকর হবে। তা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে পাইলট নিয়োগ করেনি। আরও এক সংগঠন ‘দ্য এয়ারলাইন্স পাইলটস অ্যাসোসিয়েশন’ (The Airlines Pilots Association) অভিযোগ করেছে-ইন্ডিগো ইচ্ছে করেই সংকট তৈরি করে সরকারকে বিধি শিথিল করতে চাপ দিতে চেয়েছিল। সংগঠনটির এক সদস্য বলেন, “এই অবস্থার জন্য দায়ী ইন্ডিগো নিজেরাই। আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলে এত বিরাট বিপর্যয় ঘটত না।”

বৃহস্পতিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইন্ডিগো জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, শীতকালীন সময়সূচির বদল, খারাপ আবহাওয়া এবং বিমান সংক্রান্ত যানজট, এসব মিলেই তাদের পরিষেবা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক (Civil Aviation Ministry) বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুক্রবার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সমালোচনার মুখে কেন্দ্র শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধি শিথিলও করে। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাইলটদের নেওয়া আগাম ছুটিকে সাপ্তাহিক বিশ্রামের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গণ্য করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত ইন্ডিগোকেই স্বস্তি দেওয়ার জন্য।

বিমানমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু (Ram Mohan Naidu) ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তিন দিন ধরে দেশের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থার পরিষেবা ভেঙে পড়লেও কেন এত দেরিতে কেন্দ্র ব্যবস্থা নিল? নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ইন্ডিগোকে আগে থেকেই চাপ দিতে পারত কেন্দ্র। অনেকের মত, ইন্ডিগোর ‘চাপের কৌশল’-এ কি সরকার নতি স্বীকার করল?

শুক্রবার দুপুরে ইন্ডিগো যাত্রীদের কাছে ফের ক্ষমা চেয়ে জানিয়েছে-
* ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে কোনও বাতিল উড়ানে পুরো টাকা ফেরত দেবে
* বিভিন্ন বিমানবন্দরে খাবার ও জল দেওয়ার ব্যবস্থা করছে
* যাত্রীদের জন্য হোটেল বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে

তবুও কবে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। দেশের বৃহত্তম বিমানসংস্থার এমন বিপর্যয় ভবিষ্যতে আকাশপথের নিরাপত্তা ও কর্মনিয়ম পালনের গুরুত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Navy to Form New MH-60 Romeo Anti-Submarine Helicopter Squadron by December | ডিসেম্বরে ভারতের নৌ শক্তিতে বড় লাফ! আমেরিকা থেকে এসেছে মারাত্মক ‘রোমিয়ো’, শুরু হচ্ছে ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী চপার স্কোয়াড্রন তৈরির কাজ

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন