সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Revision of Electoral Roll) শুরু হয়ে যাওয়ায় ভোটের আবহ যেন আরও ঘন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই বুধবার দিল্লিতে বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলায় জিততে হলে লড়াই আরও তীব্র করতে হবে, বুথভিত্তিক সংগঠনকে শক্ত করতে হবে, আর কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পগুলির সুবিধা রাজ্যের সাধারণ মানুষ কেন পাচ্ছেন না, তা বোঝাতে হবে তৃণমূল সরকারের ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরে।

বৈঠক সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদী একাধিকবার উল্লেখ করেছেন এসআইআর (SIR) বা স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকার ‘শুদ্ধিকরণ’ হচ্ছে, এবং তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সাংসদদের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই থামানো চলবে না। বাংলা জিততে গেলে সংগঠনের শক্তিকে আরও বাড়াতে হবে। দল যেভাবে এগোচ্ছে, সেই গতি বজায় রাখতে হবে।” এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের প্রচারের ওপরই জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষ এই প্রকল্পগুলির যথাযথ সুবিধা পাচ্ছেন না, এবং সে জন্য দায়ী রাজ্যের তৃণমূল সরকার। এই বিষয়টি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, জল জীবন মিশন এসব প্রকল্পকে সামনে রেখে প্রচারে আরও ধার আনতে বলেছেন।
বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, এবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘ডেলিভারি ব্যর্থতা’কে বড় করে দেখানোই হবে বাংলায় বিজেপির মূল প্রচারের কৌশল। তাই বুথভিত্তিক কমিটিকে আরও শক্তিশালী করা, প্রত্যেক এলাকায় মাটি-স্তরের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে যাওয়া, এসবই প্রচার কৌশলের অঙ্গ হিসেবে সামনে এসেছে। বৈঠক শেষে দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista) জানান, “নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের দল ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। বুথ লেভেলে আমরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছি। গতবার (২০২১) আমাদের জেতার সম্ভাবনা ছিল প্রচুর। কিন্তু বুথ ব্যবস্থাপনায় কিছু ভুল হয়েছিল। এবার সেই ভুল আমরা করব না।” বিস্তার কথায় স্পষ্ট, এইবার বিজেপির নজর সরাসরি বুথে, কারণ ‘বুথ জিতলেই নির্বাচন জেতা যায়’, এটাই দলীয় নীতি। রাজু বিস্তা আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে বিজেপির বড় বড় নেতারা সরাসরি বুথে গিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের এই নজরদারি দলীয় নেতৃত্বকে উজ্জীবিত করেছে বলেই দাবি বিজেপির। এদিনের বৈঠকে মোট ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট আলোচনা চলে। উপস্থিত ছিলেন বঙ্গ বিজেপির লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদরা।
এছাড়া বৈঠকে খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) -এর উপর হামলা নিয়েও খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। দলীয় সূত্রের দাবি, আক্রমণের ঘটনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জানতে চান এবং সাংসদকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক মহল বলছে, বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি এবার শুরু থেকেই আগ্রাসী ভূমিকায়। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চাইছে, দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে বুথ পর্যায়ে মজবুত করে ২০২৬ -এর নির্বাচনে লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়া। আর প্রধানমন্ত্রী মোদির এই বৈঠক সেই দিকেই বড় পদক্ষেপ।পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় শাসকদলের এই কৌশল মাঠে কতটা ফল দেবে, তা বলবে সময়ই। কিন্তু দিল্লির বৈঠক যে বঙ্গ রাজনীতির তাপমাত্রা আরও কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই যায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Abhijit Gangopadhyay reaction, Primary teacher recruitment scam |ডিভিশন বেঞ্চের রায় প্রশ্নের মুখে? প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ বললেন, ‘২৬ হাজারও তো বহু বছর চাকরি করেছে, তা হলে কি সেই রায় ভুল?’



