বিনীত শর্মা ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : বিরোধীদের টানা চাপ, সংসদের ভেতরে-বাইরে প্রতিবাদ এবং শীতকালীন অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই তীব্র বিতর্ক। সব মিলিয়ে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision–SIR) কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকারের তরফে ইঙ্গিত মিলেছে, নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হবে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণাকে বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju) সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, সর্বদল বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৮ ডিসেম্বর লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) -এর ১৫০তম বর্ষপূর্তিতে আলোচনা হবে, আর ৯ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা। যদিও তাঁর পোস্টে ‘SIR’ শব্দটি নেই, কিন্তু রাজনৈতিক মহল নিশ্চিত, এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকতে চলেছে বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন। লোকসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, এই আলোচনার জন্য মোট ১০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বিরোধীদের তোলা প্রশ্ন, সরকারের ব্যাখ্যা, নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ, সব কিছু নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হবে। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দু’দিনেই বিরোধীরা যে সরব ছিলেন, তা ক্রমেই গতি পেয়েছে। ঘটনায় নতুন দিক খুলে দিল রিজিজুর এই বিবৃতি। শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতেই রাজ্যসভা এবং লোকসভায় বিরোধী সদস্যরা সরব হয়ে ওঠেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় বহু গরমিল, বাদ-যাওয়ার ঘটনা এবং ‘ইচ্ছাকৃত ত্রুটি’ আছে, যা দ্রুত সংশোধন না করলে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস কমে যেতে পারে। বিরোধীদের এই অবস্থান ঘিরেই দু’কক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বড়সড় বিতর্ক, ক্ষোভ এবং পাল্টা সওয়াল-জবাবে বারবার মুলতুবি হয়ে যায় লোকসভার অধিবেশন।
সোমবার লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) বিরোধীদের দাবি শুনে জানান, প্রশ্নোত্তর পর্ব স্থগিত রাখা হবে না, তবে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনা করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তাঁর এই অবস্থানেই ইঙ্গিত মিলেছিল, সরকারও আলোচনা থেকে পিছিয়ে নেই। অবশেষে রিজিজুর ঘোষণায় পরিষ্কার হল, এবার সংসদেই হবে ভোটার তালিকা সংশোধনসহ নির্বাচনী সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা। ইতিমধ্যেই সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, ১০ ডিসেম্বর রাজ্যসভাতেও এই বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। অর্থাৎ, দুই কক্ষেই একই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের সম্ভাবনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি বিরোধীদের বড় জয়। কারণ গত কয়েক দিন ধরে তাঁরা বারবার দাবি তুলছিলেন, SIR প্রক্রিয়ায় রয়েছে ব্যাপক গরমিল, যা সংসদে বিশদ আলোচনার দাবি রাখে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে জোর বিতর্কের শুরু কয়েক সপ্তাহ আগেই। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ভোটার নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ আসে। বিরোধী দলগুলির দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হলে এই সংশোধন পদ্ধতি নিয়ে এখনই স্বচ্ছ ব্যাখ্যা জরুরি। রিজিজুর পোস্টে যদিও ‘SIR’ শব্দটি উল্লেখ নেই, তবে তাঁর বার্তায় যে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে, তা স্পষ্ট। এতে বিরোধী নেতারা আশাবাদী, শেষ পর্যন্ত সংসদেই হবে সত্য উদঘাটন। তবে শাসকদল বিজেপি (BJP) বলছে, এই আলোচনা সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলবে না, বরং ভুল ধারণা দূর করবে। সংসদীয় পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, এই আলোচনা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ SIR ইস্যুতে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, আর নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও বিতর্ক জড়ালে তা গণতন্ত্রের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আসন্ন সপ্তাহের এই আলোচনা ঘিরে সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ তুঙ্গে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এখন নজর ৮ ও ৯ ডিসেম্বরের দিকে, এই দুই দিনে দেশ প্রত্যক্ষ করবে ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, স্বচ্ছতা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় বিতর্ক। বলা যায়, শীতকালীন অধিবেশনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাই হতে চলেছে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে এই বিতর্ক।
ছবি : সংগৃহীত



