সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে একটি বিরল ঘটনার সাক্ষী হল দেশ। মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে ব্যতিক্রমী সাধনা সাধারণ মানুষের বিস্ময় জাগাতে পারে, সেই অসাধারণ কীর্তি তৈরি করেছেন তরুণ বৈদিক সাধক দেবব্রত মহেশ রেখে (Devabrata Mahesh Rekhe)। তাঁর এই কঠোর সাধনা ও নিষ্ঠার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেবব্রত-এর এই অবিশ্বাস্য সাধনা জেনে তাঁর মন পরিপূর্ণ গর্ব ও আনন্দে ভরে উঠেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এটি অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘মাত্র ১৯ বছর বয়সেই দেবব্রত মহেশ রেখে যে অনন্য সাধনা ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা জানতে পেরে মন সত্যিই উচ্ছ্বসিত ও গর্বে ভরে উঠেছে। তাঁর এই অসামান্য সাধনাপূর্তি আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার দীপ্ত প্রতীক হয়ে থাকবে।”
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Japan Visit | মোদীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
তাঁর এই কথায় বোঝা যায়, দেবব্রতর সাধনা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, তা ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃতির পুনর্জাগরণের প্রতীকও বটে।দেবব্রতর অর্জন যে কতটা দুষ্কর এবং ব্যতিক্রমী, তা বোঝা যায় তাঁর সম্পন্ন করা উপনিষদীয় পাঠ থেকে। তিনি শুক্ল যজুর্বেদের মধ্যন্দিন (Madhyandina) শাখার ২,০০০ মন্ত্রসমৃদ্ধ ‘দণ্ডকর্ম পারায়ণম্ (Dandakarma Parayanam)’ -এর পাঠ টানা ৫০ দিন ধরে একটিও দিন বিরতি না দিয়ে সম্পূর্ণ করেছেন। এই পারায়ণ এমনিতেই অত্যন্ত কঠোর নিয়মবিধি, উচ্চারণ-শুদ্ধি এবং মানসিক মনোনিবেশের দাবি করে। সেখানে দীর্ঘ ৫০ দিন ধরে প্রতিদিনের নিয়ম মেনে বিপুল শাস্ত্রসংহিতা আবৃত্তি করা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক সাধনা।

বৈদিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দণ্ডকর্ম পারায়ণম্’ -এ যে বৈদিক ঋচা, স্তোত্র ও পবিত্রতম শব্দসমূহ রয়েছে, তা সম্পূর্ণ শুদ্ধ উচ্চারণে পাঠ করতে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকে দেখলে দেবব্রতের এই সাফল্য বয়সের তুলনায় এক বিস্ময়। তিনি নিখুঁত নিয়মশৃঙ্খলা, বেদীয় স্বরচিহ্ন, ছন্দ ও আচার অনুসরণ করে পাঠ সম্পূর্ণ করেছেন, যা বৈদিক গুরু-শিষ্য পরম্পরার সার্থকতা আরও উজ্জ্বল করেছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও লেখেন, ‘অসংখ্য বৈদিক ঋচা ও সর্বাধিক পবিত্র শব্দে গঠিত এই পারায়ণ তিনি পূর্ণ শুদ্ধতা, নিয়মশৃঙ্খলা ও শ্রুতিনুসারে উচ্চারণ করেছেন। তাঁর এই সিদ্ধি আমাদের পরম্পরাগত গুরু-শিষ্য ধারার মহিমান্বিত রূপকে নতুন করে আলোকিত করে।’ কাশীর সাংসদ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এর সঙ্গে আরও গর্ব প্রকাশ করে বলেন যে, দেবব্রত-এর এই বিরল সাধনা সম্পন্ন হয়েছে তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের মধ্যেই, পবিত্র কাশীর (Kashi) মাটিতে। তাঁর ভাষায়, ‘কাশীর সাংসদ হিসেবে আমার বিশেষ গর্ব হয় যে তাঁর এই বিরল সাধনা কাশীর পবিত্র ভূমিতেই সার্থক পরিণতি পেয়েছে। তাঁর পরিবার, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এবং সকল সন্ন্যাসী-মুনি-ঋষি-বেদজ্ঞ বিদ্বান যাঁরা তাঁকে এই কঠোর তপস্যায় সহযোগিতা ও আশীর্বাদ করেছেন- তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
কাশীতে বহু আশ্রম, বেদ বিদ্যালয় ও বৈদিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বৈদিক পাঠ, যজ্ঞ, পুরোহিত্য ও আধ্যাত্মিক সাধনার ধারা বহমান। সেই পবিত্র ভূমিতে দেবব্রতের এই সাধনা কাশীর আদি ঐতিহ্যের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।স্থানীয় বেদজ্ঞ গুরুদের দাবি, দেবব্রতর মতো তরুণরা যখন এই সাধনাকে নতুনভাবে গ্রহণ করে, তখন ভারতীয় জ্ঞানতত্ত্ব ও শাস্ত্রপরম্পরার ভবিষ্যৎ আলোকময় হয়ে ওঠে। তাঁর এই সাফল্য বৈদিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও এক নতুন উত্তেজনা ও উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। দেবব্রত মহেশ রেখে -এর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মধ্যে বৈদিক শাস্ত্রের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল। শৃঙ্খলার প্রতি তাঁর আগ্রহ, সাধনার প্রতি নিবেদিত মনোযোগ এবং মানসিক দৃঢ়তাই তাঁকে এই কঠিন পথ অতিক্রম করতে সাহায্য করেছে। শুধু পাঠ নয়, পাঠের সঙ্গে থাকা আচার, শুদ্ধতা, ভক্তি, সব কিছুই তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা এই কঠোর সাধনাকে জাতীয় পর্যায়ে এক মর্যাদায় তুলে ধরেছে। এসবের মধ্যেই দেবব্রত নতুন প্রজন্মের কাছে এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠে এসেছে, অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও আত্মনিবেদন যে কোনও বয়সেই অসাধারণ সাফল্য এনে দিতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Security Vision, DGP IGP Conference 2025 | ‘বিকসিত ভারতের নিরাপত্তা-দিশা’: ডিপিজি-আইজিপি সম্মেলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানালেন পুলিশের নতুন রোডম্যাপ



