সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance–DA) ও মূল বেতন (Basic Pay) একত্র করার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনও দাবি তুলেছিল, ডিএ যদি মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে বেতন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসবে এবং কর্মীদের আর্থিক উন্নতি হবে। কিন্তু সোমবার লোকসভায় অর্থ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এখনই ডিএ এবং বেসিক একত্র করার কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের। অর্থাৎ, বহু প্রতীক্ষিত মার্জিং-এর সম্ভাবনা আপাতত মিলিয়ে গেল।
সোমবার লোকসভায় একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজা মুন্ডে (Pankaja Munde) স্পষ্টভাবে জানান, মহার্ঘ ভাতাকে বেসিক পের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার কোনও প্রস্তাব সরকারের কাছে নেই। তাই বর্তমানে বিষয়টি বিবেচনার মধ্যেও রাখা হয়নি। তাঁর বক্তব্যে পরিষ্কার, সরকার এমন কোনও উদ্যোগ এখনই নিতে আগ্রহী নয়। অর্থ মন্ত্রকের মতে, কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রতি ছয় মাস অন্তর সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI) অনুসারে ডিএ হিসাব করা হয়। অর্থাৎ, বর্তমানে যেভাবে ডিএ বৃদ্ধি পায়, সেই প্রথা বজায় থাকবে। মুদ্রাস্ফীতির হার বাড়লে ডিএ বাড়বে, আর কমলে ডিএ সে অনুযায়ী সমন্বয় হবে। সরকারের দাবি, কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এই নিয়ম দীর্ঘ সময় ধরে বজায় আছে।
সম্প্রতি একাধিক কেন্দ্রীয় কর্মচারী সংগঠন দাবি তুলেছিল, ডিএ যদি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তবে তা বেসিকের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হোক। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বেসিক বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত। একই সঙ্গে নতুন বেতন সীমার ভিত্তিতেই পরবর্তী আর্থিক কমিশনে ডিএ পুনঃনির্ধারণ হত। ফলে কর্মচারীদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুবিধা আরও বাড়ত। তাই কর্মচারীদের মধ্যে এই দাবি ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সরকারের স্পষ্ট বক্তব্যে এই জল্পনা আপাতত স্তিমিত। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই এসে গেল এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও এখনই বেতনের কাঠামোয় এমন বড় পরিবর্তন আনার পক্ষে নয় সরকার। অর্থ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অষ্টম বেতন কমিশনের কাজ যতক্ষণ না শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ সরকার কোনও কাঠামোগত বদল আনতে নারাজ। এদিকে, কয়েক সপ্তাহ আগেই অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠনের শর্তাবলি (Terms of Reference) অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই (Justice Ranjana Desai) -এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিশন ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। সদস্য পুলক ঘোষ (Pulak Ghosh) এবং পঙ্কজ জৈনকে (Pankaj Jain) নিয়ে গঠিত এই কমিশন ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে বলে সরকার জানিয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে চলেছে নতুন বেতন কাঠামো।
অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হলে ৫০ লক্ষের বেশি কেন্দ্রীয় কর্মচারী সরাসরি উপকৃত হবেন, দাবি কেন্দ্রের। একইসঙ্গে প্রায় ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগীও পাবেন আর্থিক সুবিধা। নতুন কমিশন কী ধরনের সুপারিশ করে, তা এখন নজর কাড়ছে কর্মচারী মহলে। তবে ডিএ-কে বেসিকের সঙ্গে একত্র করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অনেক কর্মচারীর হতাশা থাকলেও সরকার বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনকেই মূল ফোকাসে রাখছে। আর্থিক ভারসাম্য, রাজস্ব আদায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিএ বেসিক মার্জিং করলে সরকারের অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বাড়তে পারে, তাই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে সরকার যেতে চায় না। অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, ডিএ যখন ৫০ শতাংশ ছুঁয়ে যায়, তখন তা বেসিকের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই উচিত। যদিও এই দাবির প্রতিক্রিয়া সরকার এখনই দিচ্ছে না। মোবিলাইজেশনের জোর থাকলেও কেন্দ্রের বার্তা পরিষ্কার, ডিএ ও বেসিক একত্র করার বিষয়টি এখন বিবেচনায় নেই। তবে কর্মচারীরা আশায় আছেন, অষ্টম বেতন কমিশন হয়তো তাঁদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের রাস্তা খুলে দেবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi, Mission Sudarshan Chakra | উড়ুপিতে মোদীর কণ্ঠে ‘মিশন সুদর্শন চক্র’ শত্রুর দুঃসাহস দেখালেই ভস্মীভূত করার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী



