সুজয়নীল দাশগুপ্ত সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বলা হয় ‘হিটম্যান’। শুভমন গিলকে নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সে ছাড়িয়ে এক দিনের ক্রিকেটে বিশ্বসেরা ব্যাটার হলেন রোহিত শর্মা (Rohit Sharma)। শুধু তাই নয়, ৩৮ বছর ১৮২ দিনের বয়সে এই কৃতিত্ব অর্জন করে তিনি লিখলেন এক নতুন অধ্যায়, এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (ODI Cricket) সবচেয়ে বেশি বয়সে এক নম্বর ব্যাটার হওয়ার ইতিহাস।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন রোহিত। প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৬৩ রান ও তৃতীয় ম্যাচে দারুণ শতরান করে দলকে জেতান। তিন ম্যাচে তাঁর মোট সংগ্রহ ২০২ রান। ফাইনাল ম্যাচে কেবল শতরানই নয়, তিনি তাঁর নেতৃত্বগুণেও নজর কাড়েন। পুরস্কার হিসেবে পান সিরিজ সেরা ক্রিকেটারের (Player of the Series) সম্মান। এই অসাধারণ ধারাবাহিকতা তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষে তুলে দিয়েছে। আইসিসি (ICC) প্রকাশিত সর্বশেষ ক্রমতালিকা অনুযায়ী, ৭৮১ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে রোহিত এখন এক নম্বরে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জ়াদরান (Ibrahim Zadran) ৭৬৪ রেটিং নিয়ে, আর শুভমন গিল নেমে গেছেন তিনে। ভারতীয় দলের আরেক তারকা বিরাট কোহলি (Virat Kohli) রয়েছেন ছ’নম্বরে। শ্রেয়স আয়ার (Shreyas Iyer) শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে না নামলেও তিনি উঠে এসেছেন ন’নম্বরে।রোহিতের এই অর্জন এক ঐতিহাসিক রেকর্ডও ছুঁয়ে গেছে। তাঁর আগে ৩৮ বছর বয়সে একমাত্র শচীন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) বিশ্বসেরা হয়েছিলেন, তবে সেটি টেস্টে, ২০১১ সালে। রোহিত এবার এক দিনের ফরম্যাটে সেই ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁলেন। ক্রিকেট মহলে অনেকেই বলছেন, “রোহিতের মতো অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তা খুব কম ক্রিকেটারের মধ্যেই দেখা যায়।” উল্লেখ্য যে, অস্ট্রেলিয়া সফরের পর রোহিতের রেটিং বেড়েছে ৪০ পয়েন্ট। তাঁর কেরিয়ারের সেরা রেটিং ছিল ৮৮২, যা তিনি অর্জন করেছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপের পর। এবার যদিও তা স্পর্শ করেননি, তবুও নিজের বয়সে এমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যে কতটা কঠিন, তা রোহিতের রেকর্ডেই স্পষ্ট।
বোলারদের দিকেও নজর ফেললে দেখা যাচ্ছে, প্রথম তিন স্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। রশিদ খান (Rashid Khan), কেশব মহারাজ (Keshav Maharaj) এবং মাহিশ থিকশানা (Maheesh Theekshana) যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছেন নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner)। প্রথম দশে থাকা একমাত্র ভারতীয় বোলার কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav), তিনি রয়েছেন অষ্টম স্থানে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে রোহিত বলেন, “খেলা শুরু করার পর থেকে কখনও কোনও সিরিজের জন্য এতটা সময় হাতে পাইনি। এবার চার-পাঁচ মাস সময় পেয়েছিলাম নিজের মতো করে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। পুরোপুরি নিজের ইচ্ছা মতো ট্রেনিং করেছি, এবং সেটাই কাজে লেগেছে।” তিনি আরও যোগ বলেন, “দেশে অনুশীলন করলেও ওখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। এখানকার পিচ, আবহাওয়া, বলের গতি সবই আলাদা। তবে আমি বহুবার অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছি। তাই অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে, শুধু ছন্দে ফিরতে হতো।” ক্রিকেট সমালোচকদের মতে, শুভমন গিলের তরুণ উদ্যম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যেমন উজ্জ্বল, তেমনি রোহিত শর্মার অভিজ্ঞতা ও ক্লাস এখনও ভারতের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই র্যাঙ্কিং শুধু তাঁর ফর্ম নয়, নেতৃত্বেও এক নতুন বার্তা দেয়, বয়স নয়, পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
অস্ট্রেলিয়া সফরে রোহিতের পারফরম্যান্সে খুশি ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। গৌতম গম্ভীর জানিয়েছেন, “রোহিতের অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও স্থিরতা তরুণদের জন্য দারুণ উদাহরণ। শুভমনকেও ওর মতো ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা রপ্ত করতে হবে।” অন্যদিকে, সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ। রোহিতের বর্তমান ফর্ম দেখে মনে হচ্ছে, তিনি শুধু ব্যাটে নয়, মস্তিষ্কেও ক্রিকেটকে নতুন মাত্রা দিচ্ছেন। তাঁর ব্যাট যেন আবারও প্রমাণ করছে, বয়স কেবল সংখ্যা, আসল খেলা মানসিকতায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli : সিডনিতে রোহিত-কোহলির ব্যাটে ভারতীয় জয়, ভাইকে আবেগে ভাসিয়ে ভাবনা কোহলির ইনস্টা পোস্টে ভাইরাল ভালবাসা




