সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে দেশটি অবিলম্বে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করবে। কারণ অন্যান্য দেশগুলোর পরীক্ষার গতিবিধি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন। ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, “আমাদের কাছে অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। এটি আমার প্রথম মেয়াদে বিদ্যমান অস্ত্রের সম্পূর্ণ আপডেট এবং সংস্কার সহ হয়েছে। ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার কারণে আমি ঘৃণা করতাম, কিন্তু কোনও বিকল্প ছিল না!” তিনি আরও লেখেন, “অন্য দেশগুলি পরীক্ষামূলক কর্মসূচী নিচ্ছে, তাই আমি সামরিক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র ‘সমান ভিত্তিতে’ পরীক্ষা শুরু করার। সেই প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হবে।”
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক মুহূর্তে এল যখন রাশিয়ার 9M730 Burevestnik ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং Poseidon নামক পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন ড্রোনের পরীক্ষা করা হয়েছে বলে মস্কো জানিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া দ্বিতীয়, চীন তৃতীয় স্থানে, তবে পাঁচ বছরের মধ্যে তা আরও কম হবে।” এই বিবৃতি আসা মাত্রই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা-মঞ্চে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সাল থেকে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিল।
আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক মহল বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নতুন এক ‘বিশ্ব পারমাণবিক প্রতিযোগিতার যুগ’কে প্রবেশ করাবে। গত কয়েক দিনে রাশিয়া ও চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কেবল কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয় নয়, সঙ্গে রয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইঙ্গিতও। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, যুদ্ধবিধায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি সত্যিই পরীক্ষা শুরু করবে? এবং যদি করে, তাহলে তা বিশ্ব পরিমাপের দ্বন্দ্বকে কতটুকু বাড়িয়ে দেবে? শুধু তাই নয়, এই ঘটনায় United Nations-এর পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধতা-প্রচেষ্টাও নতুন সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনস্থ এক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বলেন, “এটি শুধুই একটি পরীক্ষা নয়, এটি একটি নীতি-রূপান্তর। আমেরিকার দল বলছে, ‘আমরা এখন পরীক্ষা করব’, এবং তার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরা বলছে, ‘আমাদেরও সময় হয়েছে’।”
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin ইতিমধ্যে বলেছিলেন, তাঁর দেশের নতুন প্রযুক্তি যেমন Poseidon-এর মতো সাবমেরিন ও Burevestnik-এর মতো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে বর্তমানে বাধা দেওয়া প্রায় অসম্ভব”। অবার ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই, কিন্তু তাঁদের শীর্ষ অবস্থানে থাকতে হবে। কিন্তু এ ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এর ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চুক্তি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সার্বভৌমত্ব বিরোধিতা গুরুতরভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্রের খবর, ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী, Department of Defense-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, (যেকথায় তিনি “Department of War” বলছেন) দ্রুত পদক্ষেপ নিতে। এই নির্দের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পরীক্ষামূলক নিষিদ্ধ নীতি শেষ হতে পারে, এবং একটি নতুন যুগের সূচনা হতে পারে যেখানে পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় সক্রিয় হবে, এবং বিশ্ব এককভাবে শান্তিপ্রিয় পরিমাপের পথ হারিয়ে ফেলতে পারে। উল্লেখ্য যে, এটি এমন এক বার্তা, যা বলছে: ‘আমরা পিছিয়ে থাকব না, আমরা পরীক্ষায় নামব।’ বাকি বিশ্বের দেশগুলো এখন সেই হুমকিকে নতুনভাবে দেখতে বাধ্য।
ছবি : সংগৃহীত




