Israel Death Penalty Bill | ইজরায়েলে ‘সন্ত্রাসে মৃত্যুদণ্ড’ বিল ঘিরে তীব্র বিতর্ক 

SHARE:

ইজ়রায়েলের পার্লামেন্টে সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড বিল প্রথম দফায় পাস। মানবাধিকার সংগঠনের আশঙ্কা, আইন হলে প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সুযোগ বাড়বে। Israel’s parliament passes the first phase of a controversial death penalty bill. Rights groups warn this may allow excessive force against Palestinians.

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ জেরুজালেম : ইজ়রায়েলের (Israel) পার্লামেন্ট কনেসেট (Knesset) -এ প্রথম দফায় পাস হয়ে গেল এক অত্যন্ত বিতর্কিত খসড়া আইন, ‘সন্ত্রাসবাদী ও রাষ্ট্রদোহীদের মৃত্যুদণ্ড বিল’। ১২০ সদস্যের কনেসেটের মোট ভোটাভুটিতে এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন ৩৯ জন সদস্য, বিরোধিতায় দাঁড়িয়েছেন ১৬ জন। আরও দু’বার ভোটাভুটিতে পাশ হলে পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে কার্যকর হবে এই বিল। আর সেখানেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, বিশেষ করে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে। বিলটি পাস হওয়ার পরই ইজ়রায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই বিল আইন হয়ে গেলে প্যালেস্টাইনিদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সুযোগ পেয়ে যাবে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সরকার। তাঁদের মতে, যুদ্ধরত পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রের হাতে মৃত্যুদণ্ডের ক্ষমতা খুব সহজেই হয়ে উঠতে পারে রাজনৈতিক অস্ত্র।

ইজ়রায়েল রাষ্ট্র গঠনের পর থেকে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার খুবই সীমিত। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ইজ়রায়েলে এখন পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকবারই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইতিহাস বলছে, শেষবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৬২ সালে, নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডল্ফ আইখম্যান (Adolf Eichmann) -এর ক্ষেত্রে। সেই সময়ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের প্রায় নিষ্ক্রিয় নীতি মানা হলেও, এবার আবার সেই অন্ধকার অধ্যায় ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই বিলের প্রস্তাবক ইজ়রায়েলের অতি দক্ষিণপন্থী কট্টর নেতা ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইটামার বেন-গাভির (Itamar Ben-Gvir)। বিলটি প্রথম দফায় পার্লামেন্টে পাশ হওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এর পরে সন্ত্রাসবাদীদের একটা জায়গাতেই ঠাঁই হবে, নরকে!” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের দাবি, এমন কড়া শব্দচয়ন সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

আরও পড়ুন : La Nina India 2025, India winter forecast | ভারতে আসছে তীব্র শীত, ‘লা নিনা’ -এর (La Nina) প্রভাবে কাঁপবে উত্তর-মধ্য ভারত! বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

বেন-গাভিরের প্রস্তাবিত এটিই একমাত্র বিতর্কিত বিল নয়। একইসঙ্গে আরও একটি বিল পাস হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, আদালতের অনুমতি ছাড়াই ইজ়রায়েল সরকার যে কোনও বিদেশি সংবাদসংস্থার অফিস বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখবে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই আইন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত। যুদ্ধ পরিস্থিতি বা রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সংক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দু’টি বিল পাশ হওয়া আগামী দিনে ইজ়রায়েলের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করবে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আইনের দু’টি দফাই যদি কনেসেটে সফলভাবে পাশ হয়, তবে মৃত্যুদণ্ডের পুনরুজ্জীবন শুধুমাত্র একটি আইনগত পরিবর্তন নয়, এটি হতে পারে ইজ়রায়েলের রাষ্ট্রনীতির বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন।প্যালেস্টাইন সমর্থক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ইতিমধ্যে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাঁদের মতে, সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা কীভাবে নির্ধারিত হবে, কোন অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট না থাকায় এই আইন ব্যবহৃত হতে পারে অন্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল (Amnesty International) -এর অবস্থানও একই। তারা দাবি করেছে, মৃত্যুদণ্ড কোনওভাবেই সন্ত্রাস দমন করতে পারে না, তা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের দরজা খুলে দিতে পারে।

অন্যদিকে, ইজ়রায়েলি ডানপন্থী শিবির এই বিলকে ‘দেশরক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক’ বলে উল্লেখ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, বারবারের সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইজ়রায়েলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হবে। সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে “সবচেয়ে কড়া শাস্তি” কার্যকর করতে পারলেই নাকি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে, এমনই দাবি তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলের রাজনীতি যে আরও অস্থির হয়ে উঠবে, তা বলাই যায়। আগামী দু’দফা ভোটাভুটি দেশের ভবিষ্যৎ আইনব্যবস্থা ও মানবাধিকার কাঠামোকে কোনদিকে নিয়ে যাবে, আন্তর্জাতিক মহল এখন তাকিয়ে সেই দিকেই।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Modi-Netanyahu Call: ‘বন্ধু’র ফোনেই থামল ইজ়রায়েলের জরুরি বৈঠক! মোদী-নেতানিয়াহু ফোনালাপে কী বার্তা দিল দুই নেতা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন