সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: নারী ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত মঞ্চ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (Women’s Premier League বা WPL) -এর ফাইনালে আজ বদোদরায় (Vadodara) মুখোমুখি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) ও দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals)। মাঠে নামার আগে থেকেই এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়েছে তুঙ্গে। কারণ, এই ফাইনাল শুধু দুই দলের লড়াই নয়, দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana) ও জেমাইমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues) -এর ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও বটে। বন্ধুত্ব একদিকে, ট্রফির স্বপ্ন অন্য দিকে। এই দুইয়ের সংঘাতই আজকের ফাইনালকে করেছে অনন্য। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে এই নিয়ে টানা চারবার ফাইনালে উঠলেন শেফালি ভার্মা (Shafali Verma)। ধারাবাহিকতা থাকলেও এখনও পর্যন্ত ট্রফির মুখ দেখেনি দিল্লি। বারবার ফাইনালে এসে হতাশায় ভেঙেছে তাদের স্বপ্ন। অন্য দিকে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২০২৪ সালে প্রথম বার ডব্লিউপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন সোফি ডিভাইন (Sophie Devine) ও এলিসে পেরি (Ellyse Perry)। এ বারও স্মৃতির নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী আরসিবি।

২০২৪ সালের ফাইনালে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে দিল্লিকে আট উইকেটে হারিয়ে ছিল আরসিবি। ফলে আজকের ফাইনাল দিল্লির কাছে অতীতের ক্ষত মুছে ফেলার সুযোগ। এবার পরিস্থিতিও আলাদা। দিল্লি এই প্রথম এলিমিনেটর জিতে ফাইনালে উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগের প্রতিটি মরসুমে যে দল এলিমিনেটর জিতেছে, শেষ পর্যন্ত তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই তথ্য দিল্লির শিবিরে নিঃসন্দেহে আশার আলো জ্বালাচ্ছে। অন্যদিকে, এলিমিনেটর ম্যাচে দিল্লির জয়ের নেপথ্যে যাঁর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, তিনি জেমাইমা রদ্রিগেজ। মাত্র ২৩ বলে ৪১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেই তিনি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন। ব্যাট হাতে তাঁর আত্মবিশ্বাস, মাঠে তাঁর নেতৃত্ব, সমস্ত কিছু মিলিয়ে দিল্লির ট্রফি স্বপ্নের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন জেমাইমা।

এই ম্যাচের আবেগের জায়গা আরও গভীর। স্মৃতি ও জেমাইমা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী নন, দীর্ঘ দিনের বন্ধু। কয়েক মাস আগে স্মৃতির ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা আসে, তাঁর বিয়ে ভেঙে যায়। সেই কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে বিগ ব্যাশ লিগ (Big Bash League) -এর লোভনীয় প্রস্তাব পর্যন্ত ছেড়ে দেন জেমাইমা। ভারতীয় ক্রিকেটমহলে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল। বন্ধুত্বের এই চ্যাপ্টার আজ মাঠে নামার আগে ফিকে হয়ে যাবে, তা জানেন দু’জনেই। কারণ ফাইনাল মানেই আলাদা মানসিকতা। অন্য দিকে, আরসিবি প্রায় এক সপ্তাহ আগেই তাদের শেষ লিগ ম্যাচ খেলেছে। ফাইনালের আগে গোয়ায় (Goa) ছোট্ট ছুটিতে গিয়েছিল দল। কেউ নাচে-গানে, কেউ সমুদ্রের ধারে সানবাথ নিয়ে নিজেকে চাঙ্গা রেখেছিলেন। অধিনায়ক স্মৃতির মতে, এই বিরতি দলের মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়েছে। খেলোয়াড়েরা ফ্রেশ মাইন্ডসেট নিয়ে মাঠে নামবেন। তবে তিনি এটাও জানেন, জেমাইমার দিল্লির বিরুদ্ধে খেলাটা মোটেই সহজ হবে না।

দিল্লি ক্যাপিটালসের কাছে এই ফাইনাল মানে অভিশাপ ভাঙার লড়াই। বারবার কাছে গিয়েও ট্রফি হাতছাড়া হয়েছে। সেই হতাশা কাটিয়ে উঠতেই মরিয়া গোটা দল। স্মৃতি-জেমাইমার বন্ধুত্বের হাসি ফটোসেশনে ধরা পড়লেও মাঠে নামলে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। ব্যাটে-বলে, কৌশলে-মনস্তত্ত্বে আজ হবে চূড়ান্ত লড়াই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই, আজ রাতে ট্রফি উঠবে কার হাতে? স্মৃতি মন্ধানার নেতৃত্বে আরসিবি কি দ্বিতীয় বার চ্যাম্পিয়ন হবে, না কী জেমাইমা রদ্রিগেজ দিল্লির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবেন? উত্তর মিলবে ভদোদরার আলো ঝলমলে স্টেডিয়ামে, ডব্লিউপিএল ফাইনালের শেষ বল পড়ার পরেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Women’s Premier League news, Smriti Mandhana RCB | মেয়েদের আইপিএলের আগে বড় ধাক্কা, চাপে স্মৃতি মন্ধানা ও জেমাইমা রদ্রিগেস




