সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লী : ক্রিকেট মাঠে ঠাণ্ডা মাথার নেতৃত্ব, কঠিন মুহূর্তে নির্ভুল সিদ্ধান্ত, এই সব কিছুর জন্যই মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (Mahendra Singh Dhoni) বরাবর আলাদা করে চেনা। কিন্তু ক্রিকেট জীবন থেকে সরে যাওয়ার পরে তাঁকে নতুন কোনও ভূমিকায় দেখার প্রশ্ন উঠলেই, এবার একেবারেই ‘না’ জানিয়ে দিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। ধারাভাষ্যকার হিসেবে ধোনিকে কখনওই দেখা যাবে না, একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে নিজেই সাফ জানিয়ে দিলেন মাহি। শুধু তা-ই নয়, কেন তিনি ফোন ব্যবহার করতে স্বচ্ছন্দ নন, সমাজমাধ্যম থেকে কেন দূরে থাকেন, সেই ব্যক্তিগত ভাবনাও অকপটে তুলে ধরলেন মাহি।
আরও পড়ুন : Rohit Sharma Calls Wriddhiman Saha India’s Best Wicketkeeper | ধোনি-পন্থ নন, ভারতের সেরা উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহা: রোহিত শর্মা
সাধারণত ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর বহু প্রাক্তন ক্রিকেটারকেই ধারাভাষ্যের মাইকের সামনে দেখা যায়। কেউ কেউ বিশ্লেষক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান, আবার কেউ সমালোচনার জন্য বিতর্কেও জড়ান। কিন্তু ধোনির মতে, ধারাভাষ্য মোটেই সহজ কোনও কাজ নয়। এর মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম দায়িত্ববোধ ও সংযমের প্রশ্ন। তাঁর কথায়, ‘ধারাভাষ্য দেওয়া খুব কঠিন কাজ। খেলার বর্ণনা করা আর খেলোয়াড়দের সমালোচনা করার মধ্যে একটা খুব সূক্ষ্ম সীমারেখা রয়েছে। অনেক সময় মানুষ সেটা বুঝতে পারে না।’ ধোনি মনে করেন, ধারাভাষ্য শুধু কথা বলার বিষয় নয়, এটি এক ধরনের শিল্প। কী বলবেন, কীভাবে বলবেন, কখন বলবেন এই সব কিছুর উপর নির্ভর করে একজন ক্রিকেটারের সম্মান ও ভাবমূর্তি। তাঁর বক্তব্য, ‘খুব সাবধানে খেলার বর্ণনা করতে হয়। যাতে কারও মনে না হয়, তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কোনও দল হারলে তার পিছনে নিশ্চয়ই কিছু কারণ থাকে। সেই কারণগুলো এমনভাবে বলতে হবে, যাতে কাউকে আঘাত না লাগে। এই ভারসাম্যটাই আসল চ্যালেঞ্জ।’
এই কারণেই নিজেকে ধারাভাষ্যের উপযুক্ত মনে করেন না ভারতের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। ধোনির মতে, ধারাভাষ্যের জন্য যে দক্ষতা ও ভাষাগত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তা তাঁর মধ্যে নেই বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। এখানেই থেমে থাকেননি মাহি। নিজের আরেকটি সীমাবদ্ধতার কথাও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন। আধুনিক ক্রিকেটে ধারাভাষ্য মানেই অজস্র সংখ্যা, রেকর্ড, অতীতের তুলনা। কিন্তু ধোনির কথায়, ‘সংখ্যার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব একটা ভাল নয়। অনেক ধারাভাষ্যকার আছেন, যাঁদের কাছে পরিসংখ্যান মুখস্থ। শুধু বর্তমান নয়, গোটা একটা যুগের ক্রিকেটারদের তথ্য তাঁদের জানা থাকে। আমাকে নিজের পরিসংখ্যান জিজ্ঞাসা করলেও আমি ঠিকঠাক বলতে পারব না।’ এই স্বীকারোক্তি ধোনির ব্যক্তিত্বেরই আরেকটি দিক তুলে ধরে। নিজের সীমাবদ্ধতা তিনি কখনও ঢাকতে চান না। পাশাপাশি যেখানে স্বচ্ছন্দ নন, সেখানে নিজেকে জোর করে প্রমাণ করার চেষ্টাও করেন না। তাই ধারাভাষ্যের প্রস্তাব এলেও, সেই পথে হাঁটার তাঁর কোনও আগ্রহ নেই।
এই আলোচনার মধ্যেই উঠে এসেছে ধোনির ফোন ব্যবহার না করার প্রসঙ্গ। ক্রিকেটজীবন হোক বা তার পরবর্তী সময়, ধোনিকে খুব কমই ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। সমাজমাধ্যম থেকেও তিনি বহু দূরে। এই বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যাও বেশ ব্যক্তিগত। ধোনি বলেছেন, ‘আমি ভাল কথা বলতে পারি না। বরং উল্টো দিকের মানুষটার কথা শুনতে বেশি ভালবাসি। ফোনে কথা বললে সামনে থাকা মানুষটার মুখ দেখা যায় না। সেই জন্যই ফোনে কথা বলতে আমি স্বচ্ছন্দ নই।’ ধোনির মতে, কথা বলার চেয়ে শোনার মধ্যেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান। শুধুমাত্র ফোন নয়, সামনাসামনিও তিনি কম কথা বলেন। নিজেকে ‘ভাল শ্রোতা’ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর কথায়, ‘আমি পছন্দের মানুষদের সঙ্গে কথা বলি ঠিকই। কিন্তু শুনতে বেশি ভালবাসি। কোনও বিষয় ভাল করে না জানলে তা নিয়ে কথা বলতে চাই না। চুপ করে থাকলে অনেক কিছু শেখা যায়।’ এই মানসিকতাই হয়ত ধোনিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। মাঠে যেমন তিনি কম কথা বলে কাজের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই মাঠের বাইরেও তিনি নীরবতার মধ্যেই স্বচ্ছন্দ। সমাজমাধ্যমের ঝলকানি, ধারাভাষ্যের চর্চা কিংবা অহেতুক মতামতের ভিড়, মসস্ত কিছুর বাইরে থেকেই নিজের মতো করে থাকতে চান ধোনি।
ক্রিকেটবিশ্বে যেখানে প্রাক্তন তারকারা নতুন পরিচিতির খোঁজে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান, সেখানে ধোনির এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী। তবে তাঁর অনুরাগীদের কাছে বিষয়টি নতুন নয়। কারণ মাহি বরাবরই বিশ্বাস করেন, সব আলো নিজের দিকে টানার প্রয়োজন নেই। কখনও নীরব থেকে, কখনও আড়াল থেকেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।ধারাভাষ্যের মাইকে ধোনির কণ্ঠ শোনা না গেলেও, তাঁর দর্শন, সংযম আর নীরবতার ভাষা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বরাবরের মতোই অনুপ্রেরণার জায়গায় থেকে যাবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IPL 2025 : ইডেনে পুরনো সম্পর্কের নতুন লড়াই — নাইটদের বিরুদ্ধে শুভমান-সিরাজদের টাইটানিক চ্যালেঞ্জ
MS Dhoni will not do commentary ধারাভাষ্য দেবেন না ধোনি, মাঠের বাইরেও ক্যাপ্টেন কুল : ধারাভাষ্য আর ফোন দু’টোতেই না ধোনির
Sasraya News
FOLLOW US:
SHARE:
সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লী : ক্রিকেট মাঠে ঠাণ্ডা মাথার নেতৃত্ব, কঠিন মুহূর্তে নির্ভুল সিদ্ধান্ত, এই সব কিছুর জন্যই মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (Mahendra Singh Dhoni) বরাবর আলাদা করে চেনা। কিন্তু ক্রিকেট জীবন থেকে সরে যাওয়ার পরে তাঁকে নতুন কোনও ভূমিকায় দেখার প্রশ্ন উঠলেই, এবার একেবারেই ‘না’ জানিয়ে দিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। ধারাভাষ্যকার হিসেবে ধোনিকে কখনওই দেখা যাবে না, একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে নিজেই সাফ জানিয়ে দিলেন মাহি। শুধু তা-ই নয়, কেন তিনি ফোন ব্যবহার করতে স্বচ্ছন্দ নন, সমাজমাধ্যম থেকে কেন দূরে থাকেন, সেই ব্যক্তিগত ভাবনাও অকপটে তুলে ধরলেন মাহি।
আরও পড়ুন : Rohit Sharma Calls Wriddhiman Saha India’s Best Wicketkeeper | ধোনি-পন্থ নন, ভারতের সেরা উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান সাহা: রোহিত শর্মা
সাধারণত ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর বহু প্রাক্তন ক্রিকেটারকেই ধারাভাষ্যের মাইকের সামনে দেখা যায়। কেউ কেউ বিশ্লেষক হিসেবে জনপ্রিয়তা পান, আবার কেউ সমালোচনার জন্য বিতর্কেও জড়ান। কিন্তু ধোনির মতে, ধারাভাষ্য মোটেই সহজ কোনও কাজ নয়। এর মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম দায়িত্ববোধ ও সংযমের প্রশ্ন। তাঁর কথায়, ‘ধারাভাষ্য দেওয়া খুব কঠিন কাজ। খেলার বর্ণনা করা আর খেলোয়াড়দের সমালোচনা করার মধ্যে একটা খুব সূক্ষ্ম সীমারেখা রয়েছে। অনেক সময় মানুষ সেটা বুঝতে পারে না।’ ধোনি মনে করেন, ধারাভাষ্য শুধু কথা বলার বিষয় নয়, এটি এক ধরনের শিল্প। কী বলবেন, কীভাবে বলবেন, কখন বলবেন এই সব কিছুর উপর নির্ভর করে একজন ক্রিকেটারের সম্মান ও ভাবমূর্তি। তাঁর বক্তব্য, ‘খুব সাবধানে খেলার বর্ণনা করতে হয়। যাতে কারও মনে না হয়, তাঁকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কোনও দল হারলে তার পিছনে নিশ্চয়ই কিছু কারণ থাকে। সেই কারণগুলো এমনভাবে বলতে হবে, যাতে কাউকে আঘাত না লাগে। এই ভারসাম্যটাই আসল চ্যালেঞ্জ।’
এই কারণেই নিজেকে ধারাভাষ্যের উপযুক্ত মনে করেন না ভারতের বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। ধোনির মতে, ধারাভাষ্যের জন্য যে দক্ষতা ও ভাষাগত নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তা তাঁর মধ্যে নেই বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। এখানেই থেমে থাকেননি মাহি। নিজের আরেকটি সীমাবদ্ধতার কথাও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন। আধুনিক ক্রিকেটে ধারাভাষ্য মানেই অজস্র সংখ্যা, রেকর্ড, অতীতের তুলনা। কিন্তু ধোনির কথায়, ‘সংখ্যার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব একটা ভাল নয়। অনেক ধারাভাষ্যকার আছেন, যাঁদের কাছে পরিসংখ্যান মুখস্থ। শুধু বর্তমান নয়, গোটা একটা যুগের ক্রিকেটারদের তথ্য তাঁদের জানা থাকে। আমাকে নিজের পরিসংখ্যান জিজ্ঞাসা করলেও আমি ঠিকঠাক বলতে পারব না।’ এই স্বীকারোক্তি ধোনির ব্যক্তিত্বেরই আরেকটি দিক তুলে ধরে। নিজের সীমাবদ্ধতা তিনি কখনও ঢাকতে চান না। পাশাপাশি যেখানে স্বচ্ছন্দ নন, সেখানে নিজেকে জোর করে প্রমাণ করার চেষ্টাও করেন না। তাই ধারাভাষ্যের প্রস্তাব এলেও, সেই পথে হাঁটার তাঁর কোনও আগ্রহ নেই।
এই আলোচনার মধ্যেই উঠে এসেছে ধোনির ফোন ব্যবহার না করার প্রসঙ্গ। ক্রিকেটজীবন হোক বা তার পরবর্তী সময়, ধোনিকে খুব কমই ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। সমাজমাধ্যম থেকেও তিনি বহু দূরে। এই বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যাও বেশ ব্যক্তিগত। ধোনি বলেছেন, ‘আমি ভাল কথা বলতে পারি না। বরং উল্টো দিকের মানুষটার কথা শুনতে বেশি ভালবাসি। ফোনে কথা বললে সামনে থাকা মানুষটার মুখ দেখা যায় না। সেই জন্যই ফোনে কথা বলতে আমি স্বচ্ছন্দ নই।’ ধোনির মতে, কথা বলার চেয়ে শোনার মধ্যেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পান। শুধুমাত্র ফোন নয়, সামনাসামনিও তিনি কম কথা বলেন। নিজেকে ‘ভাল শ্রোতা’ হিসেবেই বর্ণনা করেছেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর কথায়, ‘আমি পছন্দের মানুষদের সঙ্গে কথা বলি ঠিকই। কিন্তু শুনতে বেশি ভালবাসি। কোনও বিষয় ভাল করে না জানলে তা নিয়ে কথা বলতে চাই না। চুপ করে থাকলে অনেক কিছু শেখা যায়।’ এই মানসিকতাই হয়ত ধোনিকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। মাঠে যেমন তিনি কম কথা বলে কাজের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই মাঠের বাইরেও তিনি নীরবতার মধ্যেই স্বচ্ছন্দ। সমাজমাধ্যমের ঝলকানি, ধারাভাষ্যের চর্চা কিংবা অহেতুক মতামতের ভিড়, মসস্ত কিছুর বাইরে থেকেই নিজের মতো করে থাকতে চান ধোনি।
ক্রিকেটবিশ্বে যেখানে প্রাক্তন তারকারা নতুন পরিচিতির খোঁজে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান, সেখানে ধোনির এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী। তবে তাঁর অনুরাগীদের কাছে বিষয়টি নতুন নয়। কারণ মাহি বরাবরই বিশ্বাস করেন, সব আলো নিজের দিকে টানার প্রয়োজন নেই। কখনও নীরব থেকে, কখনও আড়াল থেকেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন।ধারাভাষ্যের মাইকে ধোনির কণ্ঠ শোনা না গেলেও, তাঁর দর্শন, সংযম আর নীরবতার ভাষা ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বরাবরের মতোই অনুপ্রেরণার জায়গায় থেকে যাবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : IPL 2025 : ইডেনে পুরনো সম্পর্কের নতুন লড়াই — নাইটদের বিরুদ্ধে শুভমান-সিরাজদের টাইটানিক চ্যালেঞ্জ
Author: Sasraya News
Shillong Student Competition 2026: APJ Abdul Kalam Foundation to Host Creative & Educational Events in Meghalaya
Aamir Khan Marriage, Aamir Khan Third Wedding | ৫ জুলাই ছাঁদনাতলায় আমির! তৃতীয় বিয়ের খবর নিজেই জানালেন মিস্টার পারফেকশনিস্ট, সিদ্ধান্তে সাধুবাদ সুচিত্রার
Virat Kohli Injury, Kohli Out Afghanistan Series | হ্যামস্ট্রিং চোটে ধাক্কা! আফগানিস্তান সিরিজে নেই বিরাট কোহলি, চিন্তায় ভারতীয় শিবির
Firhad Hakim resignation news, Kolkata mayor resignation | কলকাতা পুরসভায় বড় পরিবর্তন, পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ, কী বললেন নিজে?
Madhuri Dixit Ravi Kishan Interview, Maa Behen Movie OTT | ‘বৃষ্টি-ঝড়, অন্ধকার, কিছুতেই বদলায় না তাঁর হাসি’! মাধুরী দীক্ষিতকে নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য রবি কিশানের