সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নন্দীগ্রাম: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্য রাজনীতি যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নন্দীগ্রামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দুর দাবি, ‘মুখ্যমন্ত্রীর আসল উদ্দেশ্য ছিল এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং মাইক্রো অবজারভারদের সরানো। কিন্তু বাস্তবে তাতে কোনও লাভ হয়নি।’ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আদালতে গিয়ে রাজ্য সরকার রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলেও ফলাফল হয়েছে ‘বিগ জিরো’।শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে ‘পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে’ বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। তিনি বলেন, ‘মোট ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। এদের অধিকাংশই ফর্ম নম্বর ৬-এর আওতায়। কিন্তু জমা পড়া ফর্মের সংখ্যা কয়েকশো ছাড়িয়েছে কি না, তা নিয়েই সন্দেহ আছে। হাজার তো দূরের কথা, লক্ষের ধারে কাছেও নয়।’ বিরোধী দলনেতার ব্যাখ্যায়, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ফর্ম ৬ এবং ফর্ম ৭ রয়েছে। তাঁর দাবি, ফর্ম ৭-এর আওতায় কয়েক লক্ষ আবেদন থাকলেও ফর্ম ৬-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে শুভেন্দু বোঝাতে চান, এসআইআর কোনও ‘হঠকারী’ বা ‘মনগড়া’ প্রক্রিয়া নয়, বরং নিয়ম মেনেই তা সম্পন্ন হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘উনি এসআইআর বন্ধ করতে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি মাইক্রো অবজারভারদের সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই সফল হননি।’ বিরোধী দলনেতার দাবি, মাইক্রো অবজারভারদের নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার বিভ্রান্তি ছড়াতে চাইছে। শুভেন্দু বলেন, ‘শুধু বাংলাতেই কেন বাইরের রাজ্য থেকে মাইক্রো অবজারভার এসেছে, এই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী চাপ সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বাধ্য হয়েছে, কারণ রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত এ-র্যাঙ্ক বা সমতুল্য গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি। সেই কারণেই কমিশন অন্য রাজ্য থেকে অফিসার আনতে বাধ্য হয়েছে।’ এই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারীর আরও বিস্ফোরক দাবি, মালদহ (Malda) জেলার একজন মাইক্রো অবজারভার নাকি পরিচয় গোপন রেখে তাঁকে একটি অডিয়ো ক্লিপ পাঠিয়েছেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘একজন মাইক্রো অবজারভার আমার কাছে অডিয়ো পাঠিয়েছেন। পরিচয় গোপন রেখেই বলেছেন কীভাবে কাজ চলছে। আজ সন্ধ্যা ছ’টায় আমি সেটা প্রকাশ করব।’ যদিও ওই অডিয়ো ক্লিপে কী রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে তাঁর ইঙ্গিত, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরতেই এই অডিয়ো সামনে আনার পরিকল্পনা।
শুভেন্দু অধিকারীআরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী আধার কার্ডকে (Aadhaar) নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন আদালতে। তাঁর দাবি, ‘উনি আধারকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি।’ বিরোধী দলনেতার মতে, নির্বাচন কমিশন এবং আদালত দুই পক্ষই বিষয়টি খোলসা করে দিয়েছে যে আধার পরিচয়পত্র হলেও তা একমাত্র নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। ফলে এই যুক্তিতেও রাজ্য সরকার ধাক্কা খেয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।
উল্লেখ্য যে, এসআইআর নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) এবং বিজেপি (Bharatiya Janata Party) -এর সংঘাত নতুন নয়। শাসকদলের দাবি, ভোটের আগে এসআইআর-এর মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা যুক্তি, দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারী ও ভুয়ো নাম ঢুকে পড়েছিল, সেগুলি বাদ দিতেই এসআইআর প্রয়োজনীয়। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য সেই বিজেপি অবস্থানকেই আরও জোরালো করল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতার সুপ্রিম কোর্ট যাওয়া তৃণমূলের সংগঠনে চাঙ্গা ভাব আনলেও বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে ব্যবহার করছে উল্টো কৌশলে। শুভেন্দুর আক্রমণ সেই রাজনৈতিক লড়াইয়েরই অঙ্গ। বিশেষ করে ‘৫৮ লক্ষ নাম বাদ’ এবং ‘অডিয়ো ফাঁস’-এর মতো শব্দচয়ন বিজেপির তরফে চাপ বাড়ানোর কৌশল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Supreme Court, SIR case politics | এসআইআর মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুপ্রিম কোর্ট সওয়াল, ভোটযুদ্ধে নতুন জোয়ার তৃণমূলে


