সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে নিয়োগ পাওয়া স্কুলশিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বে বুধবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের (School Service Commission বা SSC) মাধ্যমে ভবিষ্যতে যাঁরা শিক্ষক-শিক্ষিকা হিসেবে নিযুক্ত হবেন, তাঁরা প্রত্যক্ষ দলীয় রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন না। পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা কিংবা লোকসভা কোনও স্তরের নির্বাচনেই প্রার্থী হওয়া যাবে না তাঁদের। সরকারের দাবি, শিক্ষাঙ্গনে পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখা ও শিক্ষকতার দায়িত্বে পূর্ণ মনোযোগ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী রাজনৈতিক দল, শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষামহলের একাংশের তরফে আপত্তি উঠেছে। তাঁদের প্রশ্ন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করার আগে তাঁদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরকারকে অবস্থান জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বিধিনিষেধ এখনই রাজ্যের সমস্ত কর্মরত শিক্ষকের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। যাঁরা ইতিমধ্যেই শিক্ষকতার পেশায় রয়েছেন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, কিংবা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের বর্তমান অধিকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ভাবে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে না। মূলত ভবিষ্যতের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই নিয়ম কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নতুন নিয়োগপ্রার্থীদের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারী শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও বিধিনিষেধ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গেও নতুন নিয়োগ পাওয়া স্কুলশিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অন্য রাজ্যগুলিতে শিক্ষকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কী ধরনের আইন বা পরিষেবা বিধি কার্যকর রয়েছে, তা নিয়ে বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক যুক্তির পাশাপাশি আইনি বৈধতা আর সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ বাম শাসন এবং পরবর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁর সরকার মনে করে, তা কাটিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত নতুন প্রজন্মের কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার জন্য নিয়োগ, পরিকাঠামো, শূন্যপদ পূরণ এবং শিক্ষক-ছাত্রের অনুপাতের মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন অধ্যাপক প্রদীপ ভট্টাচার্য (Pradip Bhattacharya) জানিয়েছেন, শিক্ষকদের রাজনৈতিক অধিকার সীমিত করার এই উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, একতরফা ভাবে এমন বিধিনিষেধ চালু করার চেষ্টা হলে আইনি প্রশ্ন উঠতে পারে ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। অন্য রাজ্যে শিক্ষকেরা প্রত্যক্ষ রাজনীতি করতে পারেন না, মুখ্যমন্ত্রীর এই যুক্তি নিয়েও তিনি আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষকদের জন্য একই নিয়ম চালু রয়েছে বলে ধরে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। ফলে রাজ্য সরকারের ঘোষণার পর এই বিধিনিষেধের আইনি ভিত্তি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) অন্য দিক থেকে সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা না করে শিক্ষকদের রাজনীতি করার অধিকার নিয়ে বিতর্ক কেন তৈরি করা হচ্ছে? তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রয়োজন হল পর্যাপ্ত শিক্ষক, উন্নত পরিকাঠামো ও নিয়মিত পঠনপাঠন। কেন্দ্রীয় স্তরে প্রচলিত ৩০:১ শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেছেন, সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষক নিয়োগ ও বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে জোর না দিয়ে রাজনৈতিক বিধিনিষেধকে সামনে আনা সরকারের অগ্রাধিকারের প্রশ্ন তুলছে।
সুজন চক্রবর্তীর আরও বক্তব্য, শিক্ষকদের দিয়ে এসআইআর (SIR) কিংবা জনগণনার মতো কাজ করানোর প্রবণতা নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে। তাঁর মতে, শিক্ষকতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের যুক্ত করা হলে পড়াশোনার উপর প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা ও শিক্ষা পরিচালনায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। ফলে শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে বিতর্কটি শুধু নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকারে আটকে নেই, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্কুল পরিচালনা, শিক্ষকদের কাজের পরিধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব সমস্যাগুলিও। শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়াতেও সরকারী কর্মচারীর মর্যাদার বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল (Swapan Mondal) জানিয়েছেন, অন্য রাজ্যের শিক্ষকদের সঙ্গে তুলনা করার আগে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের চাকরির মর্যাদা ও পরিষেবা সংক্রান্ত অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, অন্য রাজ্যে সরকারী কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিধিনিষেধের সম্পর্ক থাকতে পারে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একই মর্যাদা না দিয়ে তাঁদের উপর রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।
অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি (Chandan Maity) এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শিক্ষকরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না, সমাজ গঠনের কাজেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অতীতে শিক্ষকতা থেকে উঠে এসে বহু মানুষ জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী কিংবা জাতীয় স্তরের নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধ করে দিলে তাঁদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিসর সীমিত হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, আগে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হোক। অন্য দিকে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ (Bhaskar Ghosh) জানিয়েছেন, তাঁদের আপত্তির মূল জায়গা শিক্ষকদের মর্যাদা ও পরিষেবা সংক্রান্ত অধিকার। তাঁর মতে, রাজ্যে শিক্ষকরা সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে কাজ করেন ও তাঁদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি আইনগত ভাবে স্বীকৃত। তাই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করার আগে সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা দেওয়ার দাবি বিবেচনা করা উচিত। শিক্ষিত মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কমে গেলে রাজনৈতিক পরিসর আরও দুর্বল হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কিন্তু, সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে মতও উঠে এসেছে। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান (Akhruzzaman) মনে করেন, শিক্ষকতার দায়িত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করা কঠিন হতে পারে। তাঁর বক্তব্য, কোনও শিক্ষক যদি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন, তবে তাঁকে এলাকার মানুষের নানা কাজে সময় দিতে হয়। এতে বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্কুলের স্বার্থে ও পড়ুয়াদের নিয়মিত শিক্ষার কথা ভেবে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ যুক্তিযুক্ত বলেই তিনি মনে করেন। অন্য দিকে, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আলিফা আহমেদ (Alifa Ahmed) শিক্ষকদের সামাজিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, শিক্ষকরা সমাজকে দেখার এবং বিশ্লেষণ করার মতো শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সমাজ গঠনের কাজে তাঁদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের রাজনৈতিক পরিসর সীমিত করে দিলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্র সংকুচিত হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা। ফলে একই রাজনৈতিক পরিসরের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত সামনে এসেছে।
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার (Animesh Haldar) শিক্ষকদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ (Chittaranjan Das), মৌলানা আবুল কালাম আজাদ (Maulana Abul Kalam Azad) ও সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের (Sarvepalli Radhakrishnan) মতো ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ। তাঁদের জীবনে শিক্ষা, সমাজচিন্তা ও রাজনীতির সংযোগ ছিল বলে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নতুন শিক্ষকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার সীমিত করা হলে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারে তাঁদের সংগঠন। এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য (Chandidas Bhattacharya) প্রস্তাবিত বিধিনিষেধের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যক্ষ রাজনীতি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। শিক্ষকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত করার বদলে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারে সরকারের মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে তাঁর দলের অবস্থান।
শিক্ষকদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে এই বিতর্কের পাশাপাশি এ দিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কয়েকটি সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য, পঞ্চায়েত, দমকল ও স্বরাষ্ট্র দফতর মিলিয়ে মোট ১,১৯৯টি নতুন পদ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানানো হয়েছে। আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৪৫ হাজার পদ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন পদগুলিতে নিয়োগের জন্য দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। সরকারের দাবি, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (Public Service Commission বা PSC) ও পুলিশের নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত মেধার ভিত্তিতে প্রায় ৬০ হাজার চাকরি দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন পদগুলিতে নিয়োগ কবে শুরু হবে, কোন দফতরে কত জন নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষা রয়েছে।
নতুন শিক্ষকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের উপর বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত এখন একাধিক প্রশ্নের মুখে। শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব কতটা, সরকারি কর্মচারীর মর্যাদার সঙ্গে এই নিয়মের সম্পর্ক কী? এবং নতুন নিয়োগপ্রার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার কীভাবে বিবেচিত হবে? এই বিষয়গুলি আগামী দিনে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে পারে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে কী ধরনের বিধি বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। এক দিকে শিক্ষাঙ্গনে নিয়মিত পঠনপাঠন নিশ্চিত করার যুক্তি, অন্য দিকে শিক্ষকদের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবি, দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কী ভাবে তৈরি করা হবে, এখন সেটাই দেখার।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on Gangasagar Train Service | Gangasagar Railway Line : গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ছুটবে ট্রেন? রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে সরাসরি আবেদন শুভেন্দু অধিকারীর, ২০২৯-এর সেতু ঘিরে বাড়ল আশা



