Raiganj AIIMS announcement, Suvendu Adhikari healthcare announcement | উত্তরবঙ্গে দু’টি বড় হাসপাতালের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! রায়গঞ্জে AIIMS ও জলপাইগুড়িতে ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র

SHARE:

রায়গঞ্জে AIIMS ও জলপাইগুড়িতে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ রায়গঞ্জ ২৯ অক্টোবর ২০২৬: উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এল। রায়গঞ্জে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS) গড়ে তোলা এবং জলপাইগুড়িতে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জে এক প্রশাসনিক সভা থেকে এই দুই প্রকল্পের কথা জানান তিনি। রায়গঞ্জে প্রস্তাবিত AIIMS-এর জন্য শীঘ্রই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও প্রকল্প দুটির নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, কত অর্থ বরাদ্দ হবে এবং হাসপাতালগুলি কবে থেকে রোগী পরিষেবা দিতে পারবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি এখনও সামনে আসেনি। উত্তরবঙ্গের বহু মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতা, শিলিগুড়ি কিংবা অন্য রাজ্যে যাওয়ার প্রয়োজন দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিশেষত জটিল অস্ত্রোপচার, ক্যানসারের চিকিৎসা এবং উন্নত পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য স্থানীয় স্তরে পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকলে রোগী ও তাঁর পরিবারের উপর আর্থিক এবং শারীরিক চাপ বাড়ে। সেই পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জে AIIMS ও জলপাইগুড়িতে ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির ঘোষণা উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তবে ঘোষণার পর প্রকল্পের জমি, অর্থ বরাদ্দ, নির্মাণের অনুমোদন ও পরিষেবা চালুর মতো প্রশাসনিক ধাপগুলি কত দ্রুত সম্পন্ন হয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই পরিকল্পনার বাস্তব অগ্রগতি।

আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari on Gangasagar Train Service | Gangasagar Railway Line : গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ছুটবে ট্রেন? রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে সরাসরি আবেদন শুভেন্দু অধিকারীর, ২০২৯-এর সেতু ঘিরে বাড়ল আশা

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, রায়গঞ্জকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গে একটি বড় সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ। AIIMS-এর মতো প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে শুধু সাধারণ চিকিৎসাই নয়, উন্নত রোগ নির্ণয়,চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে হাসপাতালের প্রকৃত পরিষেবা নির্ভর করবে সেখানে কোন কোন বিভাগ চালু হচ্ছে, কত শয্যার ব্যবস্থা থাকছে, কত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম কতটা সহজলভ্য হচ্ছে, তার উপর। রায়গঞ্জে AIIMS প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা উত্তর দিনাজপুর জেলার পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে হয়। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হলে রায়গঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিহার ও অসমের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দারাও ভবিষ্যতে এই হাসপাতালের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে রোগীর চাপ সামলাতে যথেষ্ট শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষাগার এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন হবে।

আরও পড়ুন : Ranbir Kapoor Yash | Suvendu Adhikari : রাবণ দহনের মঞ্চে রাম-রাবণ একসঙ্গে! সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রণবীর-যশের ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি’

এই ঘোষণার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও আছে। সূত্রের খবর, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এই অঞ্চলে AIIMS গড়ে তোলা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনের পরে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কথা বলেছিলেন। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের মানুষ যে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছেন, উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে তার প্রতিদান দিতে হবে। রায়গঞ্জে AIIMS প্রতিষ্ঠার ঘোষণা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের দিকে একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু, রাজনৈতিক ঘোষণা এবং প্রকল্পের বাস্তব রূপায়ণ এক বিষয় নয়। AIIMS-এর মতো বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে জমি নির্বাচন, কেন্দ্রীয় অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ, নকশা তৈরি, নির্মাণকাজ ও পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মতো একাধিক ধাপ থাকে। তাই রায়গঞ্জে হাসপাতাল গড়ার ঘোষণা কত দ্রুত কার্যকর হয়, তা নজরে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন ও পরবর্তী সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অন্য দিকে, জলপাইগুড়িতে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল গড়ার ঘোষণাও উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। ক্যানসারের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি ও অনেক ক্ষেত্রে একাধিক পর্যায়ে সম্পন্ন করতে হয়। রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং চিকিৎসা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণের জন্য সমন্বিত পরিকাঠামো প্রয়োজন। রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে চিকিৎসার ধরন ও সময়ও বদলে যায়। স্থানীয় স্তরে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসার সুযোগ না থাকলে রোগীকে বারবার দূরের হাসপাতালে যেতে হতে পারে। এতে যাতায়াতের খরচের পাশাপাশি চিকিৎসার সময় রোগী ও পরিবারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

আরও পড়ুন : West Bengal UCC latest news, Suvendu Adhikari latest announcement | মাদ্রাসা থেকে ইউসিসি, গোশালা : তিন সিদ্ধান্তে নতুন দিশার ইঙ্গিত শুভেন্দু সরকারের

জলপাইগুড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল চালু হলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। বিশেষত যাঁদের নিয়মিত চিকিৎসা বা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন, তাঁদের ক্ষেত্রে কাছাকাছি উন্নত পরিষেবা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে হাসপাতালটি কতটা পূর্ণাঙ্গ হবে, সেখানে ক্যানসারের কোন কোন ধরনের চিকিৎসা পাওয়া যাবে ও প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসাকর্মীর ব্যবস্থা কী ভাবে করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিষেবা চালু রাখার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও দক্ষ কর্মী নিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ হবে। উত্তরবঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার পরিকাঠামো বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বড় শহরকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমাতে জেলা স্তরে উন্নত হাসপাতাল গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন বহু রোগী ও তাঁদের পরিবার। জলপাইগুড়ির প্রস্তাবিত হাসপাতাল সেই চাহিদার একটি অংশ পূরণ করতে পারে। পাশাপাশি, রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও সময়মতো চিকিৎসা শুরু করার সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। কেবল ভবন নির্মাণ নয়, চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য রোগী সহায়তা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও প্রয়োজন হবে।

রায়গঞ্জে AIIMS ও জলপাইগুড়িতে ক্যানসার হাসপাতাল, দু’টি প্রকল্পের লক্ষ্য আলাদা হলেও উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাব্য ভূমিকা রয়েছে। একটি উন্নত চিকিৎসা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার বৃহত্তর পরিসর তৈরি করতে পারে; অন্যটি ক্যানসারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাকে আরও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে পারে। দুই প্রকল্পই কার্যকর হলে উত্তরবঙ্গের রোগীদের একাংশের দূরবর্তী হাসপাতালের উপর নির্ভরতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই সুফল কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে হাসপাতালের অবস্থান, পরিষেবার পরিধি, চিকিৎসার খরচ ও রোগীদের কাছে পরিষেবা পৌঁছনোর ব্যবস্থার উপর। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে এখন নজর থাকবে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকে। রায়গঞ্জের AIIMS-এর প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো, অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দের অগ্রগতি এবং জলপাইগুড়ির ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে পরবর্তী তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রকল্প দুটির নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিষেবা শুরুর দিন ঘোষণা করা হলে সাধারণ মানুষ আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন। আপাতত মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সেই প্রত্যাশা বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায়, তার উত্তর দেবে আগামী দিনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Women cricket score Pratika Rawal 100 not out | প্রতীকার দুরন্ত শতরান, শ্রী চরণীর চার উইকেট! জিম্বাবোয়েকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে এক দিনের সিরিজে দুর্দান্ত শুরু ভারতের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন