সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বিরুদ্ধে ফের গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এল। প্রাক্তন মিস সুইৎজারল্যান্ড প্রতিযোগী জিল কিউলের (Jill Harth? ) পরিচয় ও অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (Democratic Party) প্রকাশিত একটি তদন্তমূলক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে একটি ফ্যাশন অনুষ্ঠানের সময় ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। অভিযোগকারিণীর বক্তব্য অনুযায়ী, আটলান্টিক সিটির ট্রাম্প প্লাজা হোটেলে (Trump Plaza Hotel) এই ঘটনা ঘটে। রিপোর্টে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে বলে উল্লেখ। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে সতর্ক থাকাও জরুরি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও ডেমোক্র্যাটদের রিপোর্ট নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরের দাবি, প্রেসিডেন্টের সাফল্য থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিরোধীরা এমন অভিযোগ সামনে আনছে। ৫৩ পাতার ওই রিপোর্টে অভিযোগকারিণীর একাধিক সাক্ষাৎকার ও তদন্তে উঠে আসা তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ (The Telegraph)-এ রিপোর্টটির বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে ‘ব্রুটাল’ নামের একটি ফ্যাশন অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় ট্রাম্পের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা। তাঁর দাবি, নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্পের মালিকানাধীন হোটেলের একটি ঘরে তাঁকে আক্রমণ করা হয়। অভিযোগকারিণীর বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার আগে ট্রাম্প ও এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। রিপোর্টে বর্ণিত সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ওই মহিলার বয়স যখন ২৪ বছর, তখন ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। অভিযোগ, সেই সময় ট্রাম্প তাঁকে আমেরিকার ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার ও নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (New York University) ভর্তি হতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে এপস্টিন তাঁকে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো (Mar-a-Lago) রিসর্টে আমন্ত্রণ জানান বলে তিনি দাবি করেছেন। এপস্টিন নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগকারিণীর বক্তব্যে উল্লেখ।
অভিযোগকারিণীর দাবি, পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে তিনি প্লাজ়া হোটেলে গিয়েছিলেন। সেখানেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে বলে তাঁর বক্তব্য। রিপোর্টে উদ্ধৃত বিবরণ অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেন ও তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। ওই ঘটনায় তাঁর শরীরে আঘাত লাগে ও রক্তপাতও হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন। অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, আমেরিকার ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তাঁকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য চাপ দেওয়া হয়। যদিও এই বিবরণ অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে, তাই ঘটনার সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রমাণ ও তদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। অতীতেও বিভিন্ন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। প্রতিটি অভিযোগের প্রেক্ষাপট, প্রমাণ ও আইনি অবস্থান আলাদা। ফলে পুরনো অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগকে এক করে দেখা যায় না। সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে আসা দাবিগুলিও সেই কারণে পৃথক ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এই বিতর্কের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জেফ্রি এপস্টিনের নামও। নাবালিকা-সহ বহু মহিলাকে যৌন শোষণের অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টিনের সঙ্গে আমেরিকার রাজনীতি, ব্যবসা ও বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত ব্যক্তির যোগাযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ২০১৯ সালে কারাবন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পরেও এপস্টিনের পরিচিতদের সঙ্গে সম্পর্ক, তাঁর অপরাধের পরিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী জানতেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছে। ট্রাম্প অবশ্য বার বার দাবি করেছেন, এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে প্রকাশ্যে অভিযোগ ওঠার অনেক আগেই তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছিল। ফলে ডেমোক্র্যাটদের রিপোর্টে এপস্টিনের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগের প্রসঙ্গ থাকলেও, শুধু পরিচয়ের তথ্যের ভিত্তিতে কোনও অপরাধে জড়িত থাকার সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। যৌন নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সাক্ষ্য, নথি, সময়কাল ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণের গুরুত্ব রয়েছে।
মার্কিন রাজনীতিতে এই রিপোর্ট প্রকাশের সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। রিপাবলিকান শিবিরের বক্তব্য, প্রেসিডেন্টের কাজ ও সাফল্য থেকে জনসাধারণের নজর সরানোর উদ্দেশ্যেই ডেমোক্র্যাটরা পুরনো অভিযোগ সামনে আনছে। অন্য দিকে, বিরোধী শিবিরের তদন্তমূলক রিপোর্টে অভিযোগকারিণীর সাক্ষাৎকার এবং এপস্টিন-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে রিপোর্টে কোনও অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকা ও আদালত বা স্বাধীন তদন্তে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। এই ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, অভিযোগকারিণীর বক্তব্যের সমর্থনে কী ধরনের নথি বা স্বাধীন প্রমাণ রয়েছে। ঘটনার সময়কাল তিন দশকেরও বেশি আগে হওয়ায় প্রত্যক্ষদর্শী, সমসাময়িক নথি ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রিপোর্টে সাক্ষাৎকারের উল্লেখ থাকলেও, অভিযোগের প্রতিটি অংশের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় প্রমাণ কতটা রয়েছে, তা জানা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগকারিণীর বক্তব্য যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আমেরিকার রাজনীতিতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে আসে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকুন বা বিরোধী দলের নেতা হোন, অভিযোগের বিচার হওয়া উচিত প্রমাণ ও আইন অনুযায়ী। অভিযোগকারিণীর বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনই যাচাই ছাড়া কাউকে অপরাধী বলে ঘোষণা করাও উচিত না। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশিত নতুন রিপোর্ট ঘিরে বিতর্কের নিষ্পত্তি নির্ভর করবে অভিযোগের প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও পরবর্তী আইনি বা তদন্তমূলক পদক্ষেপের উপর।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sexual wellness and relationships | শরীর যখন নিভে যায়! যৌনতায় ‘লোডশেডিং’ হলে কীভাবে সাড়া দেবে মন ও দেহ? কীভাবে আলো জ্বালবেন? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধর্ষণের অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রিপোর্ট, জেফ্রি এপস্টিন, ট্রাম্প প্লাজ়া হোটেল, আমেরিকার রাজনীতি, Donald Trump, Rape Allegation Against Trump, Democratic Party Report, Jeffrey Epstein, Trump Plaza Hotel, US Political News, ডোনাল্ড ট্রাম্প, জেফ্রি এপস্টিন, ধর্ষণের অভিযোগ, আমেরিকার খবর, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, রিপাবলিকান পার্টি, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, Donald Trump rape allegation,
SEO:
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির রিপোর্ট ঘিরে বিতর্ক। অভিযোগকারিণীর বক্তব্যে ট্রাম্প প্লাজ়া হোটেল ও জেফ্রি এপস্টিনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।



