সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ছুটির তালিকায় (West Bengal Government Holiday List) বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানো ও বিভিন্ন দফতরে জমে থাকা ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বছরে সরকারি ছুটির সংখ্যা কমানোর কথা ভাবছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা বছরে যে সংখ্যক ছুটি পান, তা কমিয়ে ৪০ দিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেশ কিছু পরিচিত উৎসব ও বিশেষ দিনের ছুটিও নতুন করে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ভাইফোঁটা, শিবরাত্রি, পয়লা বৈশাখ, ছটপুজো কিংবা জামাইষষ্ঠীর মতো দিনগুলিতে সরকারি দফতর বন্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, সরকারি ছুটির নতুন তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অর্থ দফতরকে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেই এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য, সরকারি দফতরগুলিতে বছরে কাজের দিনের সংখ্যা বাড়ানো।

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দফতরে জমে থাকা প্রশাসনিক ফাইল, প্রকল্পের অনুমোদন ও নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে আরও বেশি কর্মদিবস প্রয়োজন বলে মনে করছে সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর করতে অর্থ দফতরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রথম পর্যায়ে বছরে ৪৫ দিনের ছুটির একটি সম্ভাব্য তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সংখ্যাও মুখ্যমন্ত্রীর পছন্দ হয়নি। তাঁর মতে, সরকারি কর্মীদের ছুটির পরিমাণ আরও কমানো দরকার। সেই কারণে প্রস্তাবিত তালিকা থেকে আরও পাঁচ দিন বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বছরে সরকারি ছুটির সংখ্যা ৪০ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ছুটির সংখ্যা কমানোর অর্থ শুধু কয়েকটি অতিরিক্ত কর্মদিবস না, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা উৎসবকেন্দ্রিক ছুটির ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা। রাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসব, মনীষীদের জন্মদিন ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছুটিগুলি নতুন করে বিবেচনা করা হতে পারে। কোন দিনগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, আর কোন ছুটি তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, তা এখনও জানা যায়নি।
গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির তালিকায় বেশ কিছু নতুন দিন যুক্ত হয়েছে। শিবরাত্রি, শবেবরাত, করম পুজো, ছটপুজো, ভাইফোঁটা এবং পয়লা বৈশাখের মতো দিনগুলিতে সরকারি ছুটির ব্যবস্থা চালু হয়েছে। পাশাপাশি ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা (Panchanan Barma), হরিচাঁদ ঠাকুর (Harichand Thakur) এবং বিরসা মুন্ডা (Birsa Munda)-এর জন্মদিনেও ছুটি দেওয়ার রীতি তৈরি হয়েছে। জামাইষষ্ঠীর দিন অর্ধদিবস ছুটির ব্যবস্থাও রয়েছে। নতুন ক্যালেন্ডার তৈরির সময় এই দিনগুলির কোনগুলি রাখা হবে, তা নিয়ে এখন আগ্রহ বাড়ছে।
বিশেষ করে ভাইফোঁটা ও পয়লা বৈশাখের ছুটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাঙালি সমাজের কাছে এই দুটি দিনের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব যথেষ্ট। অন্যদিকে, ছটপুজো ও করম পুজোর মতো উৎসবের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও ধর্মীয় আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। ফলে ছুটির তালিকা পুনর্বিন্যাস করতে গেলে প্রশাসনিক প্রয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক দিকটিও বিবেচনা করতে হবে। তবে কোনও নির্দিষ্ট উৎসবের ছুটি বাতিল করা হচ্ছে বলে এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। ছুটির তালিকায় পরিবর্তনের ভাবনা আসার পিছনে রাজ্য সরকারের যুক্তি মূলত প্রশাসনিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে বহু কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়া থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি,,প্রতিটি ক্ষেত্রেই সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
কিন্তু কর্মদিবসের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলে কাজের গতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরকারি দফতরগুলিতে কাজের জন্য আরও বেশি দিন বরাদ্দ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের রাজস্ব আদায়ের প্রসঙ্গও এই আলোচনায় তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের পুরো অর্থবর্ষে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হত, বর্তমান সরকার প্রথম ছয় মাসেই সেই তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর জন্য নতুন করে কোনও করের বোঝাও সাধারণ মানুষের উপরে চাপানো হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। সরকারের মতে, প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো ও রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বর্তমান।
ছুটির প্রশ্নে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দুর্গাপুজোর দীর্ঘ অবকাশ। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের কাছে দুর্গাপুজোর ছুটি বছরের অন্যতম দীর্ঘ ছুটির সময়। আগে সাধারণত ষষ্ঠী থেকে সরকারি দফতর বন্ধ থাকত। লক্ষ্মীপুজোর পরে অফিস খোলার রীতি ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই ছুটির পরিধি আরও বেড়েছে। কোনও কোনও বছরে চতুর্থী থেকেই সরকারি দফতর বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভাইফোঁটার পর অফিস খোলার নজির বলে উল্লেখ।
আরও পড়ুন : SSC Group C and Group D Result | এসএসসির ফল প্রকাশ, শুরু ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি
চলতি বছরের ছুটির সূচী অনুযায়ী, ভাইফোঁটার পর ১৩ নভেম্বর সরকারি অফিস, স্কুল ও কলেজ খোলার কথা। কিন্তু আগামী বছরের জন্য নতুন ছুটির ক্যালেন্ডার তৈরির সময় দুর্গাপুজোর ছুটির মেয়াদেও পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পুজোর ছুটি কমানো হলে সরকারি কর্মীদের বার্ষিক অবকাশের হিসাবেও বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে। আবার উৎসবের দিনগুলি বহাল রেখে অন্য কিছু ছুটি কমানোর পথও নিতে পারে সরকার। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। উল্লেখ্য, সরকারি ছুটির তালিকা তৈরি করার সময় সাধারণত জাতীয় ছুটি, ধর্মীয় উৎসব, আঞ্চলিক অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মতো বৈচিত্র্যপূর্ণ রাজ্যে এই কাজ আরও সংবেদনশীল। কারণ, এক একটি উৎসবের সঙ্গে নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের সামাজিক জীবন ও সংস্কৃতি জড়িয়ে থাকে। ফলে বছরে ছুটির সংখ্যা ৪০ দিনে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে গেলে কোন ছুটি রাখা হবে এবং কোনগুলি বাদ যাবে, সেই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এখন দেখার যে, অর্থ দফতরের তৈরি নতুন ছুটির ক্যালেন্ডারের দিকে। প্রস্তাবিত তালিকা চূড়ান্ত হয়ে প্রকাশ্যে এলেই জানা যাবে, ভাইফোঁটা, শিবরাত্রি, পয়লা বৈশাখ, ছটপুজো কিংবা জামাইষষ্ঠীর মতো দিনগুলির ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে। একই সঙ্গে দুর্গাপুজোর দীর্ঘ ছুটির মেয়াদেও কোনও কাটছাঁট করা হচ্ছে কি না, তা পরিষ্কার হবে। আপাতত সরকারের লক্ষ্য সরকারি দফতরে কর্মদিবস বাড়ানো হলেও, নতুন সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে রাজ্যের দীর্ঘদিনের ছুটির সংস্কৃতিতেও।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Marriage Vastu Tips, Bedroom Vastu for Couples | দাম্পত্যে সুখ ও স্থায়িত্ব চাই? এই কয়েকটি বাস্তু টিপস মানলেই জীবনে নামবে ভালবাসার ঝড়



