সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ৫ অক্টোবর ২০২৬: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে প্রাথমিক ইন্টারভিউয়ের তালিকাও। কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের ফলাফল ও ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা দেখতে পারবেন। ফল প্রকাশের পর এবার নিয়োগ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের দিকে নজর চাকরিপ্রার্থীদের। নথি যাচাই, শিক্ষাগত যোগ্যতা খতিয়ে দেখা ও মৌখিক ইন্টারভিউয়ের মধ্য দিয়ে এগোবে নিয়োগের বাকি প্রক্রিয়া।
এত দিন ধরে ফলের অপেক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থীদের কাছে এই ঘোষণা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও ফল প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। অবশেষে প্রায় সাত মাসের অপেক্ষার পর কমিশন ফল প্রকাশ করায় পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে ফল প্রকাশের অর্থ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া নয়। প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকায় নাম থাকা প্রার্থীদের আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সেই ধাপগুলির ফলাফলের উপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত নিয়োগের পথ। প্রকাশিত তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (West Bengal Board of Secondary Education) সংশোধিত শূন্যপদের হিসাবকে গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন। গত ১৪ অক্টোবর ক্লার্ক বা করণিক পদের শূন্যপদের সংখ্যা নিয়ে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পর্ষদ। সেই পরিবর্তিত হিসাবের ভিত্তিতেই প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ আগের শূন্যপদের সংখ্যাকে অপরিবর্তিত রেখে তালিকা তৈরি করা হয়নি। সংশোধিত পদসংখ্যা অনুযায়ী প্রার্থীদের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য বাছাই করা হয়েছে।
প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকায় যাঁদের নাম আছে, তাঁদের এবার প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। কমিশনের তরফে পরবর্তী পর্যায়ে মূল নথি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণপত্র যাচাই করা হবে। পরীক্ষার্থীর আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে জমা দেওয়া নথির মিল আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় শংসাপত্র এবং নিয়োগের শর্ত পূরণের বিষয়গুলিও যাচাইয়ের আওতায় আসবে। এই পর্যায়ে কোনও তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। নথি যাচাইয়ের পর হবে মৌখিক ইন্টারভিউ। তবে কবে থেকে নথি যাচাই শুরু হবে, কোন প্রার্থীকে কোন দিনে ডাকা হবে? কিংবা ইন্টারভিউয়ের জন্য কী কী নথি সঙ্গে রাখতে হবে? সে বিষয়ে বিস্তারিত সূচীএখনও প্রকাশ করা হয়নি। কমিশনের ওয়েবসাইটে পরবর্তী সময়ে দিনক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জানানো হবে। তাই প্রার্থীদের নিয়মিত সরকারি ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনও বেসরকারি সূত্রে পাওয়া অসম্পূর্ণ তথ্যের উপর নির্ভর না করে কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করাই নিরাপদ।
গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি নিয়োগকে ঘিরে রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েন চলছে। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্যানেল বাতিল হওয়ার পর বহু শিক্ষাকর্মীর কর্মজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ও আইনি জটিলতার জেরে একাধিক পদে কর্মরত কর্মীদের চাকরি হারাতে হয়। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court of India) নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। তাঁদের মধ্যে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে কর্মরত কর্মীরাও ছিলেন। চাকরি হারানোর পাশাপাশি অনেকের বেতন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলেন বহু চাকরিপ্রার্থী। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদের জন্য পৃথকভাবে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের অপেক্ষা বাড়তে থাকে। এর মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। অবশেষে পরীক্ষার প্রায় সাত মাস পর ফল প্রকাশ করল কমিশন। নতুন করে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ বেড়েছে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে নথি যাচাই ও ইন্টারভিউয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলি সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সংরক্ষণের হিসাব। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ওবিসি (OBC) সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর ফলে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পদের জন্য সংরক্ষণভিত্তিক শূন্যপদের হিসাব নতুন করে নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কোন শ্রেণির জন্য কতগুলি পদ বরাদ্দ থাকবে, তা সংশোধিত সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক করতে হবে। নিয়োগের ক্ষেত্রে এই হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত পদসংখ্যা মেনেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে হয়। স্কুল সার্ভিস কমিশন আগেই জানিয়েছিল, সংশোধিত শূন্যপদের তালিকা অনুসারেই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ফলে ফল প্রকাশের পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ে পদসংখ্যা ও সংরক্ষণের হিসাব কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়েও লক্ষ্য রয়েছে চাকরিপ্রার্থীদের। প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশিত হলেও চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রশাসনিক ও আইনি দিকগুলি মেনে চলতে হবে কমিশনকে। তাই পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে।
এখন পরীক্ষার্থীদের প্রধান কাজ নিজেদের ফলাফল যাচাই করা ও প্রাথমিক ইন্টারভিউ তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া। যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র, পরিচয়পত্র এবং আবেদন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে রাখা দরকার। পাশাপাশি কমিশনের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থাকতে হবে। অন্যদিকে, তালিকায় নাম না থাকা প্রার্থীদেরও ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভালো করে দেখে নেওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, দীর্ঘ আইনি জটিলতা, চাকরি হারানোর ঘটনা এবং নতুন নিয়োগের অপেক্ষার মধ্যে এসএসসির এই ফল প্রকাশ রাজ্যের শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তবে পরীক্ষার্থীদের অপেক্ষা পুরোপুরি শেষ হয়নি। নথি যাচাই, মৌখিক ইন্টারভিউ এবং চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশের পরেই নিয়োগের ছবি পরিষ্কার হবে। আপাতত পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকেই তাকিয়ে আছেন গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পরীক্ষার্থীরা।
ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : CAA Certificate, Suvendu Adhikari CAA Announcement | ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সিএএ শংসাপত্র! মতুয়া সমাজকে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর




