শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : উত্তরাখণ্ডের বিয়েবাড়িতে আর শোনা যাবে না উচ্চস্বরে ডিজে, দেখা যাবে না দামী আতিথ্যের বাড়াবাড়ি, দেওয়া যাবে না বিলাসবহুল উপহারও। পাহাড়ি জনপদের ২৫টি গ্রাম একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিয়ে মানেই প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়; তা হবে সংস্কৃতি, সরলতা ও সামাজিক ভারসাম্যের উৎসব। তাই এবার থেকে এই গ্রামগুলিতে বিয়েতে অযথা খরচের কোনও জায়গা থাকবে না। নিয়ম ভাঙলেই দিতে হবে এক লক্ষ টাকা জরিমানা।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির মতে, এই উদ্যোগ সামাজিক চাপ কমানো ও সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। কারণ, গত কয়েক বছরে বিয়ে উপলক্ষে অযথা বিলাসিতা গ্রামের পরিবারগুলির উপর একটি অনুচিত প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করেছিল। অনেক পরিবার সামর্থ্য না থাকলেও সমাজে সম্মান বাঁচাতে দামী আয়োজন করতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এবার সেই চাপ থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে এলেন গ্রামবাসীরাই।
বিলাসিতা নয়, সাংস্কৃতিক সরলতায় জোর দিয়েছেন তাঁরা। দোহা গ্রামের প্রধান রাজেন্দ্র তোমর (Rajendra Tomar) এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘এই ধরনের রীতিনীতি প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়ে গিয়েছিল। অযথা চাপ তৈরি হচ্ছিল এর ফলে। তাই গ্রামের সবার মত নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তাঁর কথায় বিয়ে যেন আর মানুষের উপর বোঝা হয়ে না ওঠে, তা যেন হয় শান্ত, স্বাভাবিক ও সুখের অনুষ্ঠান।
গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির নতুন বিধি অনুযায়ী-
* বিয়েতে দামি উপহার দেওয়া যাবে না।
* ডিজে বাজানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
* বিয়ের মেনুতে মদসহ বেশ কিছু খাবার ও পানীয় রাখা চলবে না।
* বিয়ে সংক্রান্ত যে কোনও বিলাসী আয়োজন বা প্রদর্শনীও নিষিদ্ধ।
নিয়ম ভাঙলে কোনও আলোচনা নয়, সোজা এক লক্ষ টাকা প্রশাসনিক জরিমানা।
এই নিয়ম কার্যকর হবে ২৫টি গ্রামে, যেখানে গ্রামবাসীদের সর্বসম্মত অনুমোদনেই সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের বড় অংশই উদ্যোগটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

এর ফলে, সংস্কৃতি-চর্চার সুযোগ বাড়বে, বলছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু খরচ কমানোর জন্যই নয়, এটি তাদের স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষারও এক প্রচেষ্টা। এক গ্রামের বাসিন্দা জানান, ‘আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি, স্থানীয় খাবারের প্রচার করা হচ্ছে। এতে আমরা খুব খুশি। এর ফলে নতুন প্রজন্ম তাদের শিকড় মনে রাখতে পারবে।’
কাজেই এই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক চাপ কমাতেই নয়, তা সামাজিক ঐতিহ্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়েরা।
অনাবশ্যক খরচ নয়, বিয়ে হোক সামাজিক ঐক্যের মেলবন্ধন এমনি মত গ্রামবাসীদের। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি গ্রামগুলোর এই যৌথ সিদ্ধান্ত দেশের অন্যান্য গ্রাম ও শহরের জন্যও দৃষ্টান্ত হতে পারে। সামাজিক চাপ, অযথা খরচ ও বিলাসী প্রতিযোগিতার বদলে বিয়ে হয়ে উঠতে পারে সরলতা ও সাংস্কৃতিক গর্বের প্রকাশ। এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও ছড়িয়ে পড়বে বলেই অনেকের আশা।
সব ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Smriti Mandhana Palash Muchhal Wedding | বিয়ে বাতিলের পর আরও কঠোর সিদ্ধান্ত! স্মৃতি মন্ধানা ও পলাশ মুচ্ছল নতুন পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন




