সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ডিজিটাল লেনদেনের দ্রুত প্রসার যেমন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনই বেড়েছে অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকিও। গুগল পে, ফোনপে, ইউপিআই (UPI)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে মুহূর্তের মধ্যে টাকা স্থানান্তর এখন স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এই গতির সুযোগ নিয়ে প্রতারকেরা নানা ফাঁদ পেতে বসে আছে। এই পরিস্থিতিতে বড় পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (Reserve Bank of India বা RBI)। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ হাজার টাকার বেশি অনলাইন লেনদেন করলে তা সঙ্গে সঙ্গে সম্পন্ন হবে না। তা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকে রাখা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টার ‘কুলিং পিরিয়ড’ চালুর ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, আপনি যদি ১০,০০০ টাকার বেশি টাকা কারও কাছে পাঠান, সেই অর্থ প্রাপকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে এক ঘণ্টা সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে গ্রাহক চাইলে লেনদেন বাতিল করার সুযোগ পাবেন।

এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য প্রতারণা রোধ। আরবিআইয়ের মতে, প্রতারকেরা প্রায়শই গ্রাহকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে তড়িঘড়ি টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, টাকা পাঠানোর পরেই বুঝতে পারেন গ্রাহক যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। কিন্তু ইউপিআইয়ের মতো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থায় টাকা ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ‘সময় ব্যবধান’ তৈরি করে গ্রাহকদের ভাবার সুযোগ দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। আরবিআইয়ের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘লেনদেনের পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হলে গ্রাহকরা সন্দেহজনক কার্যকলাপ চিহ্নিত করতে পারবেন।’ এই সময়ের মধ্যে গ্রাহক নিজেই লেনদেন বাতিল করতে পারবেন, ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা কমবে। তবে এই নিয়ম সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে না। প্রস্তাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও বলা হয়েছে, ‘হোয়াইট লিস্ট’ ব্যবস্থা। গ্রাহকরা তাঁদের বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টকে এই তালিকায় রাখতে পারবেন। সেই তালিকাভুক্ত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠালে আর কোনও বিলম্ব হবে না। অর্থাৎ, পরিবারের সদস্য বা নিয়মিত লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক গতিতেই টাকা পৌঁছবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার করতে আরও কিছু পদক্ষেপের কথাও ভাবা হচ্ছে আরবিআই -এর পক্ষ থেকে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে আলাদা সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। যদি কোনও প্রবীণ নাগরিকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেন হয়, তা হলে একটি বিশ্বস্ত ব্যক্তির অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলে তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও বাড়বে। শুধু তাই নয়, বছরে মোট লেনদেনের পরিমাণ যদি ২৫ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তা হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চালু হতে পারে। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে টাকা সাময়িকভাবে আটকে রাখা হবে ও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তা মুক্তি পাবে না। এই প্রস্তাবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘কিল সুইচ’ (Kill Switch) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে গ্রাহক এক ক্লিকেই তাঁর সমস্ত ডিজিটাল পেমেন্ট কার্যকলাপ বন্ধ করে দিতে পারবেন। যদি কেউ মনে করেন তাঁর অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বা কোনও সন্দেহজনক লেনদেন হচ্ছে, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে এই অপশন ব্যবহার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহকদের হাতে ক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতারকদের জন্যও এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, তড়িঘড়ি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার যে কৌশল তারা ব্যবহার করে, তা এই ‘কুলিং পিরিয়ড’-এর কারণে ভেঙে পড়তে পারে।
যদিও এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আরবিআই সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মতামত জানতে চেয়েছে। আগামী ৮ মে পর্যন্ত এই বিষয়ে মতামত জমা দেওয়ার সময়সীমা রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এই প্রস্তাব কার্যকর হলে অনলাইন লেনদেনের ধরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। যেখানে এতদিন গতি ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি, সেখানে এখন নিরাপত্তা ও সতর্কতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেকের মতে, এতে দৈনন্দিন লেনদেনে সামান্য অসুবিধা হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রাহকদের জন্য সুরক্ষার স্তর বাড়াবে। প্রসঙ্গত, ভারতে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও উন্নত করা প্রয়োজন, এমনটাই মনে করছে আরবিআই। প্রতারণার ঘটনা কমাতে এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও দেখা যেতে পারে। বর্তমানে কোটি কোটি মানুষ ইউপিআই নির্ভর লেনদেনের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই নতুন নিয়ম চালু হলে তার প্রভাব পড়বে দেশের বিশাল অংশের মানুষের উপর। এখন দেখার, আরবিআই এই প্রস্তাবকে কী রূপ দেয় এবং কবে থেকে তা কার্যকর করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : India Vietnam relations, To Lam Narendra Modi congratulations | ভিয়েতনামের নতুন প্রেসিডেন্ট তো লামকে অভিনন্দন মোদীর, ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক আরও গভীর করার ইঙ্গিত




